অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে শ্রীলঙ্কার এখনো টেস্ট জয় নেই, ২০০৮ এর আরেকটি জয় পেতে ভারতকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ১৩ বছর, আর পাকিস্তান ৩১ বছর ধরে জয়ের মুখ দেখেনি। সেখানে নিজেদের দ্বিতীয় অস্ট্রেলিয়া সফরেই বাংলাদেশ যে কীর্তি গড়ল, সেটি তাই নিঃসন্দেহে দেশের ক্রিকেটের অন্যতম সেরা অর্জন। সিরিজ শুরুর আগে কেউই বিশ্বাস করতে চাইতেন না এই ম্যাচে বাংলাদেশ জিতবে। বাংলাদেশ সেই অবিশ্বাসকেই জয় করেছে মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে।
ছোটো লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সাদমান ইসলামের ব্যাটের কানায় লেগে চার হয়। তাতেই রানের খাতা খোলে বাংলাদেশের। এরপর আগের ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান ফিরেছেন শূন্য রানে। তবে বাংলাদেশকে আর কোনো উইকেট হারাতে দেননি সাদমান ও মুমিনুল হক। ৯ উইকেট হাতে রেখে চা বিরতির আগেই জয় নিশ্চিত করেন বাংলাদেশের।
এর আগে চতুর্থ দিনের শুরুতে ৪ উইকেটে ১৬১ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়া দিনের শুরু থেকেই নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে বাংলাদেশকে চাপে রেখেছিলেন ক্যামেরন গ্রিন। অ্যালেক্স ক্যারিকে ৩০ রানে ফিরিয়ে দিনের প্রথম উইকেট এনে দেন মিরাজ। এরপর ৫ রানে বেউ ওয়েবস্টারকে বোল্ড করে অস্ট্রেলিয়ার মিডল অর্ডারে ধাক্কা দেন তিনি।
গ্রিন অবশ্য থামেননি। ১০৯ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পর ১৯২ বলে তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি। তাসকিন আহমেদের বলে মিড উইকেটে ঠেলে দুই রান নিয়ে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন তিনি। তার ১০৪ রানের ইনিংসেই মূলত অস্ট্রেলিয়ার লিড কিছুটা স্বস্তিদায়ক অবস্থায় পৌঁছায়।
মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগেই প্যাট কামিন্সকে ৮ রানে ফিরিয়ে মিরাজ আবারও বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দেন। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পরও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় অজিরা। মিচেল স্টার্ককে ১৮ রানে কট বিহাইন্ড করে ফেরান তাসকিন আহমেদ। অস্ট্রেলিয়ার অষ্টম উইকেট পতনের পরও গ্রিন লড়াই চালিয়ে যান।
শেষ পর্যন্ত গ্রিনকে ফেরান হাসান মাহমুদ। গুড লেন্থের বলে ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড হন ১০৪ রান করা গ্রিন। এরপর আর বেশি লম্বা হয়নি অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস। নাথান লায়নকে এলবিডব্লিউ করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস গুটিয়ে দেন মিরাজ। তাতেই ইনিংসে ৫ উইকেট পূর্ণ হয় তার।
এর আগে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশ করেছে ৪২৬ রান। তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরি ও নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ রানের ইনিংসে পাওয়া ১৫৩ রানের লিডের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও দারুণ বোলিং করে অস্ট্রেলিয়াকে নাগালের মধ্যেই অল আউট করে দেয় বাংলাদেশ।