জেলা ও বিভাগীয় কোচ নিয়োগে কারও অনুরোধ রাখবেন না তামিম

বাংলাদেশ ক্রিকেট
বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবাল
বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবাল
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
মানদণ্ড পূরণ করতে না পারলেও জেলা ও বিভাগীয় কোচ নিয়োগের পরীক্ষায় বসার সুযোগ পেয়েছিলেন আবেদনকারীদের সবাই। গুঞ্জন আছে রাজনৈতিক প্রভাব এবং সুপারিশের কারণে যোগ্যতা না থাকার পরও অনেককে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, জেলা ও বিভাগীয় কোচ নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো সুপারিশ কিংবা অনুরোধ রাখা হবে না। দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিসিবি সভাপতি।

কদিন আগেই জেলা ও বিভাগীয় কোচ নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয় বিসিবি। যেখানে বলা হয়, কোচ হওয়ার পর অবশ্যই প্রথশ শ্রেণির ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে অথবা লেভেল ওয়ান কোচিং কোর্স সনদধারী হতে হবে। পাশাপাশি ওই জেলার স্থায়ী বাসিন্দাও হতে হবে। ২১৮ জন আবেদন করলেও প্রথম দুইটি শর্ত পূরণ করতে পেরেছিলেন মাত্র ৯০ জন। তবে সবাইকে পরীক্ষার সুযোগ করে দেয় বিসিবি।

এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা দিলেও আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, বিসিবির সেই পরীক্ষায় পাশ করেছেন মাত্র ২০ জন। অভিযোগ আছে কোচ নিয়োগের পরীক্ষায় সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। তামিম নিজেও সেটা স্বীকার করে নিয়েছেন। বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘আমাদের স্বীকার করে নিতে হবে যে, ক্রিকেট বোর্ড জেলা-বিভাগীয় কোচ নিয়োগের প্রক্রিয়াটি ঠিকভাবে পরিচালনা করেনি। একটা বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছিল যেখানে নূন্যতম যোগ্যতা হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার বা লেভেল-ওয়ান সম্পন্ন করা কোচদের আবেদন করতে বলা হয়েছিল।’

‘২১৮ টা আবেদন জমা পড়েছিল, যেখানে অন্তত ৯০ জন সেই মানদণ্ডে পড়েন না। কিন্তু বোর্ড অভ্যন্তরীণভাবে সিদ্ধান্ত নেয় তাদের আবেদন গ্রহণ করা হবে। আমার মনে হয়, এখানে আমাদের ভুল ছিল। কারণ আরও ১০-১৫ জন থাকতে পারেন যারা এই মানদণ্ড বেঁধে দেওয়ার কারণে আবেদন করেননি। যদি আমরা ৯০ জনকে সেই সুযোগ দিতে পারি তাহলে বাকিদের কেন দেব না!’

জেলার জন্য পর্যাপ্ত কোচ না পাওয়ায় নতুন করে আবারও বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বিসিবি। যেখানে কোচ হওয়ার জন্য আগের যে যোগ্যতার কথা বলা হয়েছিল সেগুলো পরিবর্তন করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কোচদের দায়িত্ব দিয়ে শিক্ষিত করে গড়ে তোলার বিকল্প নেই বিসিবির। তামিম অবশ্য বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবহারিক দিক থেকে বেশি নজর দিতে চান। পাশাপাশি এও নিশ্চিত করেছেন ব্যবহারিক ও লিখিত পরীক্ষায় পাশ করতে পারলেই কেবল ভাইভার জন্য সুযোগ দেওয়া হবে।

তামিম বলেন, ‘আমার মনে হয় কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যবহারিককে বেশি প্রাধান্য দেয়া উচিৎ। অবশ্যই লিখিত পরীক্ষার জন্য মৌলিক জ্ঞান থাকতে হবে, ভাইবাও দিতে হবে, সেটাতে আমিও একমত। নতুন করে কোচ নিয়োগের জন্য যে বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে সেখানে আমরা সবাইকে আবারো আবেদন করতে বলেছি। এখন লিখিত ও ব্যবহারিক সম্পন্ন করার পর একটা ফলাফল দেয়া হবে। সেখানে যারা পাশ করবে তাদের ভাইবার জন্য ডাকা হবে।’

২১৮ জন পরীক্ষা দিলেও সেখানে পাশ করেছিলেন মাত্র ২০ জন। পাশাপাশি অনেকে খালি খাতা জমা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ আছে। এমন পরিস্থিতিতে তাদের বেশ কয়েকজনের খাতা দেখেছেন তামিম। যারা আবেদন করেছিলেন কোচিং নিয়ে তাদের অনেকের মৌলিক জ্ঞান না থাকার বিষয়টি সামনে এনেছেন তিনি। পরীক্ষায় প্রশ্ন করা হয়েছিল ওয়াইড বলে কী কী আউট হওয়া যায়। এমন প্রশ্নের জবাবে সেই আগ্রহী কোচ লিখেছেন, লেগ বিফোর উইকেট ও বোল্ড আউট।

কোচদের মৌলিক জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তামিম বলেন, ‘আমি কোচদের কিছু পরীক্ষার খাতা দেখেছি। সেখানে একটা প্রশ্ন ছিল, ওয়াইড বলে কী কী আউট হওয়া যায়। সেখানে একটা উত্তর দেখলাম বোল্ড আর এলবিডাব্লিউ। এই ধরনের যারা উত্তর করেছে তাদের কোচিংয়ে না আসাই ভালো। আরেকজন অফ সাইডের পাঁচটি পজিশনের নামের জায়গায় লিখেছেন- মিড উইকেট। কোচিংয়ে মৌলিক জ্ঞানটুকু তো তাদের থাকতে হবে।’

পাশাপাশি তামিম নিশ্চিত করেছেন, কোচ নিয়োগে কারও সুপারিশ কিংবা তদবির গ্রহণ করা হবে না। বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘আমি একটা জিনিস পরিষ্কার করে দিতে চাই। আমি এটা ক্রিকেট বোর্ডেও বলেছি। কোচ নিয়োগের ক্ষেত্রে আমি বা আমার ক্রিকেট বোর্ডের কেউ কোনো ধরণের কোনো অনুরোধ গ্রহণ করবে না। সেই সুপারিশ যেকোনো পর্যায় থেকেই হোক না কেন। কোনো কোচ যদি পাশ না করে , সে যদি ভাইবা ভালো না দেয়, ব্যবহারিক ভালো না দেয় আমি কোনো সুপারিশ গ্রহণ করব না। কারণ এটা দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যতের বিষয়।’

আরো পড়ুন: