লম্বা সময় ধরে মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ছিল ক্যাপ্টেন্স কর্নার। বাংলা জাতীয় দলের হয়ে নেতৃত্ব দেওয়া সাবেক অধিনায়করা ম্যাচের সময় এসে বসে খেলা উপভোগ করতেন। তবে জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটারদের জন্য এমন কোনো বিশেষ ব্যবস্থা ছিল না। তাদের জন্যই বিশেষ লাউঞ্জ খোলার সিদ্ধান্ত নেন তামিম। মিরপুর স্টেডিয়ামের ম্যানুয়াল স্কোরকার্ডের পাশে গ্যালারির অংশে লাউঞ্জ বানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে খেলা নারী ও পুরুষ ক্রিকেটাররা চাইলেই সেখানে এসে বসতে পারবেন। খেলার দিনে এসে খেলা উপভোগ করতে পারেন। এ ছাড়া খেলার বাইরে বিসিবির অফিস খোলা থাকাকালীনও বসে আড্ডা দিতে পারবেন। ক্রিকেটারদের জন্য কিছু করার প্রচেষ্টা থেকেই টাইগার্স ডেন বানানো হয়েছে বলে জানান তামিম। ভবিষ্যতে আরও কিছু করার চেষ্টা করবেন বলে জানান বিসিবি সভাপতি।
এ প্রসঙ্গে তামিম বলেন, ‘আমরা একটা কথা বলেছিলাম ক্রিকেটার্সদের জন্য টাইগার্স ডেন নামে লাউঞ্জটা করেছি। যেখানে আমাদের সকল নারী-পুরুষ ক্রিকেটার যারা বাংলাদেশকে একদিনের জন্যও প্রতিনিধিত্ব করেছেন তাদের জন্য একটা বসার ব্যবস্থা বা খেলার দিনে খেলা উপভোগ করার একটা ব্যবস্থা বা এমনিতে যেকোন দিন অফিস আওয়ারের মধ্যে উনারা এসে যদি তাদের সময় কাটাতে চান তাদের জন্য একটা ব্যবস্থা করে দেওয়া।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি আগেও এটা বলেছি আমাদের যারা বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটার যারা আছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবাইকে ওউন করতে হবে। ওউন করার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া দরকার হবে আস্তে আস্তে ইনশাআল্লাহ আমরা পদক্ষেপগুলো নিব। এটা আসলে জাতীয় ক্রিকেটারদের জন্য কিছু একটা করা। অধিনায়কদের জন্য আমরা জানি ক্যাপ্টেন্স বক্স আছে অনেক দিন ধরে। কিন্তু অন্য যারা ক্রিকেটার আছেন তাদের জন্য হয়ত কিছু ছিল না। এই কারণেই আমার ছোট একটা চেষ্টা।’
কয়েক মাসের প্রচেষ্টায় প্রায় প্রস্তুত হলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেয়নি বিসিবি। তামিম জানিয়েছেন, মোটামুটি ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ‘ক্রিকেটার্স ডেন’ এ বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের স্মরণীয় মুহুর্তের ছবিগুলো সেখানে টাঙানো হবে। ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি জয়, নারী ক্রিকেটের প্রথম এশিয়া কাপ জয় কিংবা প্রথম টেস্ট জয়ের বিশেষ মুহুর্তের ছবিগুলো থাকবে সেখানে। এসব প্রস্তুত হলেই ক্রিকেটারদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক খুলে দেওয়া হবে লাউঞ্জটি।
তামিম বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা এখনো এটা খুলে দিইনি। কিছু কিছু কাজ আমাদের এখনো বাকি আছে। আমাদের বড় বড় স্মৃতি যেগুলা ১৯৯৭ বলতে পারেন, নারী এশিয়া কাপ জয় বলতে পারেন, প্রথম টেস্ট জয় বলতে পারেন। কিছু কিছু স্মৃতি এখানে আমরা রাখতে চাই। ওই জিনিসগুলো যখন প্রস্তুত হয়ে যাবে তখন ক্রিকেটারদের সাথে এটা খুলে দেওয়া হবে। ৯৫ শতাংশ প্রস্তুত, ছবিগুলো লাগানো হলে আমরা আনুষ্ঠানিকাভাবে খুলে দিব।’