নাথান এলিসের বলে হেলমেটে আঘাত পাওয়ার পর মাঠেই শুয়ে পড়েন তিনি। তাকে বমি করতেও দেখা যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে আনা হয় স্ট্রেচার, প্রস্তুত রাখা হয় অ্যাম্বুলেন্সও। তবে কিছুক্ষণ পর সুস্থ বোধ করলে আবার ব্যাট হাতে নামেন মিরাজ এবং দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন। যদিও ম্যাচ শেষে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
রবিবার হুট করেই মিরাজের বদলি হিসেবে শেখ মেহেদীকে দলে নেয় বাংলাদেশ। তখনই প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায় শেষ ম্যাচে খেলা হচ্ছে না মিরাজের। হয়েছেও তাই। মিরাজকে ছাড়াই শেষ ম্যাচে মাঠে নামে বাংলাদেশ। এই ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। শ্বাসরুদ্ধকর সেই ম্যাচে ১ উইকেটে হারের ফলে হোয়াইটওয়াশ করা হয়নি অস্ট্রেলিয়াকে।
সিরিজ জেতার পর শান্তর সঙ্গে মিরাজও ট্রফি নিতে হাজির হয়েছিলেন পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে মিরাজ জানিয়েছেন, দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ডাক্তার তাকে বলেছিলেন মাঠ ছেড়ে যেতে। তবে দলের কথা ভেবেই তিনি খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এমনকি হাসপাতালের ডাক্তারও তাকে ঝুঁকি না নেয়ার জন্য বলেছিলেন।
এ প্রসঙ্গে মিরাজ বলেন, 'আলহামদুলিল্লাহ এখন আমি অনেকটা ভালো অনুভব করছি। আর যে সময়ের কথা বলছেন, সেই মুহূর্তে ফিজিও, চিকিৎসক সবাই চাচ্ছিল যে আমি মাঠ থেকে বের হয়ে যাই। কিন্তু ওই মুহূর্তে আসলে আমি একটাই চিন্তা করেছিলাম যে আমি বের হয়ে যাই তাহলে ম্যাচের গতি অন্যদিকে ঘুরেও যেতে পারে।'
মিরাজ মাঠ ছেড়ে গেলে আর কোনো স্বীকৃত ব্যাটার থাকত না বাংলাদেশের। একাই ব্যাটিং চালিয়ে যেতে হতো তাওহীদ হৃদয়কে। এই ঝুঁকি নিতে চাননি অধিনায়ক মিরাজ। তিনি ভেবেছিলেন উঠে গেলে ম্যাচের মোমেন্টাম নষ্ট হয়ে যাবে। তাই ঝুঁকি নিতে পিছ পা হননি তিনি।
মিরাজ যোগ করেন, 'আমি দলের চিন্তা করে ওই মুহূর্তে খেলেছি। তবে যদিও ঝুঁকি ছিল। চিকিৎসক আমাকে শেষে বলেছে এবং তিনি চাচ্ছিলেন আমি মাঠ থেকে চলে আসি। এবং যখন আমি হাসপাতালে গিয়েছিলাম, সেই চিকিৎসকও বলেছেন এটা অনেকটা ঝুঁকি ছিল, যে এই খেলাটা উচিত ছিল না।'