শরিফুলের ৬ উইকেট, কনোলি বীরত্বে হোয়াইটওয়াশ এড়াল অস্ট্রেলিয়া

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
তাসকিন আহমেদকে টানা তিন ছক্কা মেরে অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের খুব কাছে নিয়ে যান কুপার কনোলি। অস্ট্রেলিয়ার জয় তখন কেবলই সময়ের ব্যাপার। তবে দৃশ্যপট বদলে যায় শরিফুলের দুর্দান্ত বোলিংয়ে। শেষ বেলায় বোলিংয়ে এসে অলিভার পিক, জাভিয়ের বার্টলেট ও বেন ডোয়ারশিসের উইকেট তুলে নেন বাঁহাতি এই পেসার। তখনো অস্ট্রেলিয়ার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছিলেন কনোলি। ১২ বলে যখন ৫ রান প্রয়োজন তখন বোলিংয়ে এসে বাংলাদেশের স্বপ্ন পুরোদমে জাগিয়ে তোলেন মুস্তাফিজুর রহমান। স্লোয়ার ডেলিভারিতে ফেরান ১৪৯ রানের ইনিংস খেলা কনোলিকে। জিততে হলে শেষ উইকেটে ৬ বলে ৩ রান করতে হতো অস্ট্রেলিয়াকে। তৃতীয় বলে চার মেরে জয় ১ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেন অ্যাডাম জাম্পা। তাতে হোয়াইটওয়াশ এড়িয়েছে সফরকারীরা। যেখানে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন ১৪৯ রানের ইনিংস খেলা কনোলি।

রান তাড়ায় ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে ভয় ধরানোর চেষ্টা করেন কুপার কনোলি ও জশ ইংলিস। তাদের দুজনের বিপক্ষে খুব একটা সুবিধা করতে পারছিলেন না তাসকিন ও মুস্তাফিজ। তবে বোলিংয়ে পরিবর্তন আনতেই ভাঙে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বোধনী জুটি। দ্বিতীয় বলেই জশ ইংলিসকে ফেরান শরিফুল। বাঁহাতি পেসারের ফুলার লেংথ ডেলিভারিতে ফ্লিক করতে গিয়ে স্কয়ার লেগে মোসাদ্দেকের হাতে ক্যাচ দেন ইংলিস। ১২ বলে ২১ রান করে ফিরতে হয় অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ককে। একই ওভারে ম্যাট রেনশকেও আউট করেন শরিফুল।

দ্বিতীয় স্পেলে বোলিংয়ে ফিরে বাংলাদেশকে উইকেট এনে দেন তাসকিন। ডানহাতি পেসারের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করেছিলেন অ্যালেক্স ক্যারি। কভারে দাঁড়িয়ে থাকা সৌম্য সরকার ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নিলে ফিরতে হয় অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটারকে। পরবর্তীতে কনোলি ও ল্যাবুশেন মিলে সফরকারীদের এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। সাবধানী ব্যাটিংযে ৫১ বলে হাফ সেঞ্চুরিও করেন কনোলি। তাদের দুজনের জমে ওঠা জুটি ভাঙেন শরিফুল।

বাঁহাতি পেসারের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে কাট করতে চেয়েছিলেন ল্যাবুশেন। তবে ডানদিকে ঝাঁঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত এক ক্যাচ লুফে নেন নুরুল হাসান সোহান। ৪৫ বলে ২৯ রান করে ফিরতে হয় তাকে। ল্যাবুশেন ফিরলেও দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৮৭ বলে সেঞ্চুরি করেন কনোলি। পাশপাশি ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে জুটিও গড়েন বাঁহাতি এই ব্যাটার। গ্রিনকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন শেখ মেহেদী। ডানহাতি অফ স্পিনারের বলে তারই হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ২৭ রান করা গ্রিন।

এরপর কনোলি ও অলিভার পিক মিলে জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে এগিয়ে নেন। শেষ বেলায় এসে তাদের জুটি ভাঙেন শরিফুল। বাঁহাতি পেসারের বলে রিশাদ হোসেনের হাতে ক্যাচ দেন ৩২ বলে ২৭ রান করা পিক। পরের বলে জাভিয়ের বার্টলেটকেও ফেরান শরিফুল। হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি হলেও সেটা করতে পারেননি। তবে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে ক্রিকেটে পাঁচ উইকেটের দেখা পেয়েছেন তিনি। একটু পর ফেরান বেন ডোয়ারশিসকে। অ্যাডাম জাম্পার ক্যাচ মিসে সুযোগ নষ্ট হয় বাংলাদেশের। তবে পরের ওভারে ১৪৯ রান করা কনোলিকে ফেরান মুস্তাফিজ। তবুও জয় পাওয়া হয়নি বাংলাদেশের। স্বাগতিকদের হয়ে ৪৮ রানে ৬ উইকেট নিয়েছেন শরিফুল।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ফিরে যান সৌম্য। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিম কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও বড় জুটি গড়ে তুলতে পারেননি। তানজিদ ১৯ ও শান্ত ২৪ রান করে আউট হলে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। তবে চতুর্থ উইকেটে লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয় দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন।

লিটন ও হৃদয়ের ৯২ রানের জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় বাংলাদেশ। তবে ব্যক্তিগত ৪৮ রানে পায়ের পেশিতে টান লাগায় মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন লিটন। এরপর মোসাদ্দেককে সঙ্গে নিয়ে রান তোলার গতি বাড়ান হৃদয়। হাফ সেঞ্চুরির পর আরও স্বাচ্ছন্দে খেলতে থাকেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৮৮ বলে ৮৩ রান করে বিদায় নেন এই ডানহাতি ব্যাটার।

হৃদয়ের বিদায়ের পরও থামেনি বাংলাদেশের রান তোলার গতি। ৪৩ বলে সিরিজে দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি করেন মোসাদ্দেক। শেষদিকে আবার ব্যাট করতে নেমে নিজের হাফ সেঞ্চুরিও তুলে নেন লিটন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে মিরপুরে এটাই লিটনের প্রথম পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস। লিটনের ৫৮ ও মোসাদ্দেকের ৫৫ রানের ইনিংসে ভর করে লড়াই করার মতো সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দুটি করে উইকেট নেন জাভিয়ার বার্টলেট ও ম্যাট রেনশ।

আরো পড়ুন: