আক্রমণাত্বক শরিফুলের প্রশংসায় কনোলি

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমানদের দাপুটে পারফরম্যান্সে খানিকটা আড়ালে বসেছিলেন শরিফুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডেতে সুযোগ মেলেনি বাঁহাতি পেসারের। বেঞ্চে বসেই বাংলাদেশের জয় দেখেছিলেন তিনি। তৃতীয় ওয়ানডেতে সফরকারীদের হোয়াইটওয়াশ করার সুযোগ ছিল টাইগারদের সামনে। এমন ম্যাচে গতি তারকা নাহিদকে বিশ্রাম দেয় বাংলাদেশ। নাহিদের বিশ্রামে শেষ ম্যাচে কপাল খুলে শরিফুলের। সুযোগটাও কাজে লাগালেন পুরোদমে।

পাওয়ার প্লেতে বল হাতে নিয়েই তিন বলের ব্যবধানে ফেরালেন জশ ইংলিস ও ম্যাট রেনশকে। পরবর্তী সময়ে অস্ট্রেলিয়ার রান আটকাতে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। শেষের বেলায় এসে সফরকারীদের ভড়কে দেন শরিফুল। ম্যাচটা জমিয়ে তোলার পাশাপাশি ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেটের দেখা পান বাঁহাতি এই পেসার। শেষ পর্যন্ত ৪৮ রানে ৬ উইকেট নিয়ে বোলিং শেষ করেছেন তিনি। ম্যাচ শেষে শরিফুলকে প্রশংসায় ভাসালেন কুপার কনোলি। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটার জানালেন, বাংলাদেশের পেসার তাদের চাপে রেখেছিলেন।

এ প্রসঙ্গে কনোলি বলেন, ‘আমি তার (শরিফুল) মুখোমুখি হওয়ার আগে ক্রিজে থিতু হওয়ার জন্য কিছুটা সময় পেয়েছিলাম। এরপর তো পুরো ইনিংস জুড়েই তাকে খেলেছি। তবে নতুন কোনো ব্যাটারের জন্য তাকে মোকাবেলা করা কঠিন ছিল। সত্যি বলতে আমি তাকে আগে খুব বেশি দেখিনি। আমি যখন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলেছিলাম তখন সে খেলেছিল। কিন্তু সেই ম্যাচে আমি আবার খেলিনি।’

‘সে অবশ্যই তার সামর্থ্যের কারণে এই দলে খেলছে। এই মুহুর্তে তাদের পেস বোলিং ইউনিট খুবই শক্তিশালী। সে আজ দারুণ বোলিং করেছে এবং আমাদের চাপে রেখেছে। সে আমাদের জন্য রান করা কঠিন করে তুলেছিল। সে আক্রমণাত্বক ছিল এবং উইকেট নেওয়ার চেষ্টা করেছে। তাকে তার স্কিলের জন্য কৃতিত্ব দিতেই হবে।’

ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছিলেন কনোলি। শরিফুলের ৬ উইকেটের পরও বাংলাদেশকে জিততে দেননি তিনি। বরং ১৪৯ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলে অস্ট্রেলিয়ার হোয়াইটওয়াশ এড়িয়েছেন বাঁহাতি এই ব্যাটারের। মিরপুরের গরমে পুরো ইনিংস জুড়ে ব্যাটিং করাটা সহজ ছিল না তার জন্য। তবে সেটা কাটিয়ে উঠে অস্ট্রেলিয়াকে এক উইকেটের শ্বাসরুদ্ধকর জয় এনে দেন। সফরকারীদের জয়ে অবদান রাখতে পারায় খুশি তিনি।

কনোলি বলেন, ‘শেষের দিকে আমার জন্য একটু কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল আমার পুরো শরীর থমকে গেছে এবং একদমই নড়াচড়া করতে চাচ্ছিল না। তবে অস্ট্রেলিয়ার জয়ে ভূমিকা রাখতে পারাটা দারুণ ব্যাপার। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ম্যাচ খেলা সবসময়ই আলাদা একটা অনুভূতির, সেখানে আপনি যদি ম্যাচ জয়ে অবদান রাখতে পারেন তাহলে তো আরও বড় ব্যাপার। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলা, ব্যাটিং করা, সবসময়ই রোমাঞ্চকর। আজকে সেটা করতে পেরে ভালো লাগছে।’

টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে বাঁহাতি এই ব্যাটার বলেন, ‘আমার মনে হয় না যে আমরা হুট করে ভালো কোনো অবস্থায় (মানসিকভাবে) যাব। কারণ আমরা পুরোটা সময় জুড়েই ভালো অবস্থানে ছিলাম। তবে এই ম্যাচ থেকে আমরা যা যা শিখেছি সেটা টি-টোয়েন্টি সিরিজে কাজে লাগাতে চাই। আশা করি সেখানে আমরা সিরিজ জিততে পারব। দলের কয়েকজন ক্রিকেটার ফিরে আসছেন, এটা আমাদের জন্য ইতিবাচক। আমাদের এই দল ও টি-টোয়েন্টি দল নিয়ে আমি আত্মবিশ্বাসী। আমরা পরবর্তী চ্যালেঞ্জের জন্য অপেক্ষা করছি।’

আরো পড়ুন: