লঙ্কানদের দেয়া ১৯৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মাত্র ৯ রানের মধ্যেই দুই ওপেনার শাই হোপ ও ব্র্যান্ডন কিংকে হারিয়ে বসে তারা। এরপর শিমরন হেটমায়ার ও রভম্যান পাওয়েল পাল্টা আক্রমণে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন। তৃতীয় উইকেটে তাদের পঞ্চাশোর্ধ রানের জুটি স্বাগতিকদের আশা জাগিয়েছিল। হেটমায়ার ৩৬ এবং পাওয়েল ৪৩ রান করেন।
তবে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় পাওয়ার প্লের পরের ওভারগুলোতে। মাহিশ থিকশানা পাওয়েলের উইকেট তুলে নেওয়ার পর হাসারাঙ্গা দুটি উইকেট তুলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান। শেরফান রাদারফোর্ড ও রোমারিও শেফার্ডকে দ্রুত ফিরিয়ে দিয়ে তিনি লঙ্কানদের ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দেন।
অন্য প্রান্তে দুশমন্থ চামিরা ছিলেন অসাধারণ। নিখুঁত লাইন-লেন্থে বোলিং করে ৩.১ ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন এই পেসার। হাসারাঙ্গাও সমান তিনটি উইকেট নেন। এছাড়া ডুনিথ ওয়াল্লালাগে দুটি এবং থিকশানা একটি উইকেট তুলে নেন।
নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ শেষ পর্যন্ত ১৮.১ ওভারে ১৫৭ রানে গুটিয়ে যায়। শেষ দিকে আকিল হোসেইন ও শামার জোসেফ কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও তা পরাজয়ের ব্যবধান কমানো ছাড়া আর কোনো কাজে আসেনি। ফলে ৩৭ রানের জয় নিয়ে সিরিজে ফিরল শ্রীলঙ্কা।
এর আগে কিংস্টনের সাবিনা পার্কে টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শুরুতে তাদের বোলাররা সেই সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণও করেন। মাত্র ৪৩ রানের মধ্যে পাথুম নিসাঙ্কা, কুশল মেন্ডিস ও পাভান রত্নায়েকেকে হারিয়ে চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা।
তবে দলের বিপদের মুহূর্তে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন কামিল মিশারা। এক প্রান্ত আগলে রেখে ধৈর্যশীল ইনিংস খেলতে খেলতে ধীরে ধীরে হাত খুলে খেলেন তিনি। ৪০ বলে চারটি চার ও তিনটি ছক্কার সাহায্যে অপরাজিত ৬১ রান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
মিশারা ইনিংসের ভিত গড়ে দিলেও শেষ দিকে ম্যাচের চিত্র বদলে দেন দাসুন শানাকা। কামিন্দু মেন্ডিসকে সঙ্গে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ার পর ক্যারিবীয় বোলারদের ওপর চড়াও হন তিনি। মাত্র ২৪ বলে পাঁচটি চার ও চারটি ছক্কায় ৫৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলের সংগ্রহকে ২০০'র কাছাকাছি নিয়ে যান শানাকা। তাদের ব্যাটে ভর করে ২০ ওভারে ছয় উইকেটে ১৯৪ রান তোলে শ্রীলঙ্কা।