আমি চাই একটু একা থাকতে, একটু স্পেস দিলে ভালো হয়: নাঈম

বাংলাদেশ ক্রিকেট
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন নাঈম হাসান
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন নাঈম হাসান
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফেরার পথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা মারধরের শিকার হয়েছেন নাঈম হাসান। এমন ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বাংলাদেশের তারকা স্পিনার। মানসিক বিপর্যস্ততা কাটিয়ে উঠতে আপাতত একা থাকতে চাচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি সবার কাছে স্পেসও চেয়েছেন ডানহাতি এই অফ স্পিনার।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) সবশেষ আসরে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে খেলেছেন নাঈম। টুর্নামেন্টের শেষ রাউন্ড শেষে ১২ জুন রাতে চট্টগ্রামে ফেরেন তিনি। চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিএনজিতে চড়ে নিজ বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন জাতীয় দলের এই স্পিনার। এমন সময় লালখান বাজার মোড়ে সিএনজি থেকে নামিয়ে মারধর করেন পুলিশের সদস্যরা।

ক্রিকেটার নাঈমকে পুলিশ ধরার পর স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। ওই সময় সেখানে ১০০ থেকে ১২০ জন স্থানীয় মানুষ উপস্থিত ছিলেন। যারা কিনা পরবর্তীতে থানায়ও গিয়েছিলেন। ডানহাতি অফ স্পিনার জানান, স্থানীয় ওই ব্যক্তিরা না থাকলে ঘটনা অন্য দিকে যেতে পারতো। এজন্য তাদের সবাইকে বিশেষ ধন্যবাদ দিয়েছেন জাতীয় দলের এই ক্রিকেটার।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নাঈম বলেন, ‘আমি এখানে এসেছি একটা বিষয় জানানোনর জন্য। কাল রাতে যে ভাইয়াগুলো অনেকে ছিল, প্রায় ১০০ জন বা ১২০ জনের মতো। ওদেরকে ‘স্পেশালি থ্যাংকস’। ওরা না থাকলে ঘটনাটা অন্য রকম হতে পারত। যখন আমাকে হেনস্থা করছিল, নিয়ে যাচ্ছিল, তখন আমি বলেছি, ভাইয়া আপনারা আসেন। ওরা আমার সঙ্গে গেছে বিধায় অন্য কিছু করার চেষ্টা করলেও পারে নাই।’

জানা গেছে, পুলিশ সদস্যদের কাছে চোরা-চালানের খবর থাকায় ওই সময় তারা তল্লাশি করেন। যদিও নাঈম জানিয়েছেন, তল্লাশি করার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া তারা অনুসরণ করেননি তারা। বরং ডানহাতি এই স্পিনারকে সিএনজিতে তুলে গলা চেপে ধরেন। তিনি মনে করেন, তাকে যদি তল্লাশির কথা বলা হতো তাহলে তিনি অনায়াসে তল্লাশি করতে দিতেন। তবে সেটা করেনি বলে নিশ্চিত করেছেন নাঈম।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোনো নিউজ (তথ্য) আসতেই পারে। আপনার তো একটা রাইট ওয়ে আছে। যদি ধরেন একটা নিউজ আসে, যে এরকম আসতেছে। তো আপনি ধরে কী করবেন? দাঁড়া করাবেন, জিজ্ঞেস করবেন, আমার একটা নিউজ আছে ব্যাগ চেক করব। অবশ্যই চেক করার রাইট আছে, হান্ড্রেন্ড পারসেন্ট। জিনিসটার তো একটা ওয়ে আছে।’

‘উনি যদি আমাকে বলতেন, আমি চেক করতে দিতাম। উনি চেক করেন নাই। ওখানে আমি সিএনজি থেকে নামছিলাম। পরে আমাকে বলছে, সিএনজিতে ওঠো। আমি মনে করছি, চলে যাওয়ার জন্য আমাকে উঠতে বলছে। আমি উঠার সঙ্গে সঙ্গে উনি ঢুকে আমার গলা চেপে ধরবে, এটা আমি জানতাম না। তখন আমি খুব ভয় পেয়ে গেছি।’

সিএনজিতে গলা চেপে ধরার পাশাপাশি থানায় নিয়েও নাঈমের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন তারা। বিশেষ করে ওসিকে ক্রিকেটার পরিচয় দেওয়ার পরও ডানহাতি এই অফ স্পিনারকে ধমক দিয়ে চোখ নামিয়ে কথা বলতে বলেন। ওই সময় ওসির ফোনে একটা কল আসে এবং তার কথার সুর বদলে যায়। নাঈম জানিয়েছেন, ওই কল আসার পরই তাকে বসতে বলার পাশাপাশি ভালো চোখে দেখা শুরু করেন।

নাঈম বলেন, ‘একটা তো প্রক্রিয়া আছে। উনি যদি আমাকে বলতো তাহলে আমি তল্লাশি করতে দিতাম। উনি তল্লাশি করেনি, ওইখানে আমি সিএনজি থেকে নামছিলাম পরে আমাকে বলেছে সিএনজিতে উঠো। আমি ভাবছি চলে যাওয়ার জন্য উঠতে বলছে। আমি ওঠার সাথে সাথে উনি ঢুকে আমার গলা চেপে ধরবে এটা আমি জানতাম না। তখন আমি খুব ভয় পেয়ে গেছি। ওরা ওইখানে আমার ব্যাগও তল্লাশি করেনি, ব্যাগগুলো নিয়ে আসছে থানায়।’

‘তখন ওসি আমাকে বলতেছিল... তখন আমি তাকে পরিচয় দিয়েছি তখন উনি আমাকে বলতেছে চোখ নিচে নামিয়ে কথা বল। এটা বলার সাথে সাথে উনার মোবাইলে একটা কল আসে, কল আসার পর আমাকে বলতে ভাইয়া এখানে বসেন। তখন ওদের সুর বদলে গেছে, শুরুতে কিন্তু অন্যরকম ছিল। ব্যাগগুলো ওরা তল্লাশি করতে বলে নাই, ব্যাগগুলো ওইখানেই (থানায়) ছিল সারা রাত। আমিও ওইখানে ছিলাম।’

লালখান বাজার মোড়ে ধরার পরই নাঈমের ফোন নিয়ে নেন পুলিশের সদস্যরা। যার ফলে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি তিনি। তবে যখন ফোন ফেরত পেয়েছেন ওই সময় মোবাইল হাতে নিয়েই তামিম ইকবালকে কল দেন নাঈম। ডানহাতি স্পিনারের ফোন পেয়ে মাঝ রাতেও রিসিভ করেন বিসিবি সভাপতি। ওই সময় ওসির সঙ্গে কথা বলে ঝামেলা মেটানোর চেষ্টা করেন তিনি।

নাঈম জানান, তামিম ফোন রিসিভ করায় তার অনেক উপকার হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যখন মোবাইল পেয়েছি তখন সাথে সাথে তামিম ভাইকে কল দিছি। উনি একবারেই কল রিসিভ করছে, আমার জন্য খুব উপকার হয়েছে। উনি তারপর ওসির সাথে কথা বলছে, ওসি তখন মিথ্যা কথা বলতেছিল আর আমাকে এদিকে চুপ চুপ বলতেছিল।’

থানা থেকে ছাড়া পাওয়ার পর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় নাঈমকে। চাইলেই ঘটনাটা চেপে যেতে পারতেন বাংলাদেশের এই স্পিনার। তবে মানুষের কথা ভেবে পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। নাঈম বলেন, ‘আমি সাধারণ জীবনযাপন করি, কারও সঙ্গে ইয়ে (ঝামেলা) করি না। আমার মাথায় আসছিল তখন (হাসপাতালে যাওয়ার সময়) আমি যদি আজকে পদক্ষেপটা না নিই তাহলে দেখা গেল কালকে সাধারণ মানুষের সাথে হলে কেউ জানবে না। আজকে যদি পদক্ষেপটা নিই হয়ত ১০টা মানুষের উপকার হবে। এজন্যই আমি পদক্ষেপ নিয়েছি।’

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের বাংলাদেশ দলে আছেন নাঈম। মানসিকভাবে ভেঙে পড়া ডানহাতি এই স্পিনার ওই ম্যাচটা খেলার মতো অবস্থায় আছেন কিনা সেটা এখনো নিশ্চিত নয়। বিমর্ষ হয়ে যাওয়া নাঈম তাই একটু স্পেস চেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এখন একটু চাচ্ছি একা থাকতে। মানসিকভাবে জিনিসটা আপনারা বুঝতেছেন, আমি কালকে থেকে সারা রাত ঘুমাইনি, ওইখানে ছিলাম। এই ঘটনাটা আমি অনেকবার বলছি। এখন আমাকে একটু স্পেস দিলে খুবই ভালো হয়।’

পাশাপাশি দোষী পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছেন নাঈম। জাতীয় দলের এই স্পিনার বলেন, ‘সর্বোচ্চ শাস্তি আমি দাবি করব। সরকার যেটা নেবে, আইনগতভাবে যেটা আসবে সর্বোাচ্চ শাস্তি... যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো মানুষের সাথে এটা না হয়।’

আরো পড়ুন: