লিটন নিজের ফেইসবুক পোস্টে বলেন নাঈমকে মাথা উঁচু রাখতে। লিটন লিখেন, 'এমন ঘটনা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। দেশের কোন নাগরিক এমন ট্রিটমেন্ট ডিজার্ভ করে না।'
পোস্ট দিয়েছেন ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও। তিনি লিখেন, 'জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানের সঙ্গে চট্টগ্রামে ঘটে যাওয়া মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ অত্যন্ত নিন্দনীয়, দুঃখজনক এবং উদ্বেগজনক। একজন জাতীয় খেলোয়াড়ের সঙ্গে এমন আচরণ দেশের ক্রীড়াঙ্গনের মর্যাদার ওপর আঘাত।'
স্পিনার শেখ মেহেদী লিখেন, 'একজন জাতীয় দলের ক্রিকেটার শুধু একজন খেলোয়াড় নন, তিনি দেশের পতাকার প্রতিনিধিত্ব করেন। একজন নাগরিক এবং জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে তিনি সম্মানজনক আচরণ পাওয়ার অধিকার রাখেন। আমরা তার পাশে আছি এবং সত্য উদঘাটনের প্রত্যাশা করছি।'
তাসকিনের আহমেদ নিজের পোস্টে লিখেন, 'জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাইম হাসানের সাথে পুলিশের এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।'
জাতীয় দলের অপারেশন্স ম্যানেজার এবং সাবেক ক্রিকেটার নাফিস ইকবাল লিখেন, 'পুলিশের প্রশ্ন করার অধিকার অবশ্যই আছে, কিন্তু সেটি হতে হবে যথাযথ ও সম্মানজনক পদ্ধতিতে। একজন বা দুজন ব্যক্তির আচরণের কারণে পুরো পুলিশ বাহিনীকে দোষারোপ করা ঠিক হবে না। তবে নাঈম হাসানের সঙ্গে যে ঘটনাটি ঘটেছে, বিশেষ করে পরিচয় দেওয়ার পরও যেভাবে বিষয়টি পরিচালিত হয়েছে, সেটির অবশ্যই যথাযথ তদন্ত হওয়া এবং একটি উদাহরণ সৃষ্টি হওয়া প্রয়োজন।'
মুশফিকুর রহিম নিজের ফেইসবুক পেইজে লিখেন, 'যা ঘটেছে, তা আমাকে ব্যথিত ও লজ্জিত করেছে। একজন নাগরিক হিসেবে, একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।'
টেস্ট দলের আরেক নিয়মিত মুখ তাইজুল ইসলাম লিখেন, 'নাঈম হাসান এর সাথে যেটা হয়েছে সেটা কখনোই কাম্য নয়। আশা করি এর সুষ্ঠু তদন্ত হয়ে অপরাধিদের দের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।'
পেসার তানজিম হাসান সাকিব প্রশ্ন তুললেন পুলিশের পেশাদারিত্বের ওপর। তিনি বলেন, 'আমাদের দেশে মানুষই মনে হয় সব থেকে কম দামি এবং অবহেলিত। ভালো আচরণ যেন সোনার হরিণ!'
সাবেক টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক লিখেন, 'গতকাল নাঈমের সাথে যা হয়ছে, তা কোনও ভাবেই কাম্য নয়। একজন মানুষকে এইভাবে নির্যাতন করার কোনো মানে হয় না। আমরা আশা করবো সরকার এর সুষ্ঠু বিচার করবে।'
এ চাড়াও ফারুক আহমেদ, ইমরুল কায়েস, আফিফ হোসেন ধ্রুব থেকে শুরু করে সাবেক বর্তমান সব ক্রিকেটাররাই আছেন স্পিনার নাঈম হাসানের পাশে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দাবি জানায় বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব)।
'ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ওপর পুলিশের শারীরিক নির্যাতন ও হয়রানির তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব)। আমরা চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কর্তৃপক্ষকে নাঈম হাসানের ওপর শারীরিক নির্যাতনে জড়িত প্রত্যেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।'
'দেশের যেকোনো নাগরিকের জন্য এমন ঘটনা অগ্রহণযোগ্য। কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন ইতিমধ্যে নাঈমের সাথে কথা বলেছে, এবং তাকে জানিয়েছে যে দেশের সকল ক্রিকেটার তার সাথে আছে।'
একটু আগেই তামিম এই ব্যাপারে বলেন, 'নাঈম হাসানের সঙ্গে গত রাতে যা হয়েছে, কোনোভাবেই তা গ্রহণযোগ্য নয়। রাতে নাঈম আমাকে ফোন করার পর থেকে তাৎক্ষণিকভাবে যা যা করা দরকার, করার চেষ্টা করেছি আমি ও অন্য বোর্ড পরিচালকরা। সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় আমরা কথা বলছি, নাঈম ও তার পরিবারের সঙ্গেও নিবিড় যোগাযোগ রাখছি।'
'বিসিবির পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে আজকে সকালেই। এরপর আরো যা যা করণীয় আছে, সবকিছু করব আমরা। নাঈম ও সব ক্রিকেটারের পাশে আমরা আছি সবসময়।'
নাঈম ইসলামকে হেনস্তা এবং নির্যাতনের ঘটনায় ইতমধ্যেই ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশের এক উপপরিদর্শকসহ তিনজনকে চট্টগ্রামের খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।