গামিনী ডি সিলভার সময়টাতে বাংলাদেশের বিশেষ করে মিরপুরের উইকেট নিয়ে সমালোচনার কমতি ছিল না। বিশ্বের বড় দলগুলোকে হারাতে বেশিরভাগ সময়ই স্পিন উইকেটের সহায়তা নিতো বাংলাদেশ। মন্থর, টার্নিং উইকেটে এশিয়ার বাইরের দলগুলোকে রীতিমতো নাকানিচুবানি খাওয়ার চেষ্টা করেছে টাইগাররা। বেশিরভাগ সময় সফলও হয়েছে। তবে সবশেষ কয়েক সিরিজে স্পিন নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসেছেন মেহেদী হাসান মিরাজরা।
উইকেটে হালকা ঘাসের ছোঁয়া থাকছে, বোলারদের সঙ্গে সুবিধা পাচ্ছেন ব্যাটাররাও। স্পিনের পরিবর্তে মিরপুরে দাপট দেখাচ্ছেন পেসাররা। পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের পর অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও একই উইকেট ব্যবহার করেছে বাংলাদেশ। সেটার সুবিধা নিয়ে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন তাসকিন, মুস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানারা। স্পোর্টিং উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমবার সিরিজ হারানোর অনুভূতিতেও তাই মিশে থাকল আলাদাটা একটা প্রশান্তি।
ম্যাচ শেষে প্রেস কনফারেন্সে তাসকিন বলেন, ‘এটা একটা দারুণ অনুভূতি যে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ভালো (পারফরম্যান্স হচ্ছে) আর কী। এবার কেউ উইকেট নিয়েও কিছু বলতে পারবে না। ভালো উইকেটে খেলছি। এমন নয় যে ধানক্ষেত বা কোনো ক্ষেত। আমরা ভালো উইকেটে খেলছি, ভালো দলের সঙ্গে জিতছি। কাজেই এটা অসাধারণ অর্জন।’
সাউথ আফ্রিকার পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কার মতো দলগুলোর সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের সুখস্মৃতি ছিল বাংলাদেশের। সেই তালিকায় বাকি ছিল কেবল অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড। তবে অস্ট্রেলিয়াকেও হারানোদের তালিকায় নিয়ে এসেছে টাইগাররা। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে সিরিজ জয়কে স্মরণীয় হিসেবেই দেখছেন তাসকিন। পাশাপাশি ভালো উইকেটে খেলে ভালো দলকে হারানোর স্বস্তির কথাও জানালেন তিনি।
তাসকিন বলেন, ‘এটা অনেক স্মরণীয়। শুধু আমার জন্য নয়, এখনও পর্যন্ত সবার জন্য। কারণ, আমরা এই প্রথম সিরিজ জিতলাম ওদের সঙ্গে। আরেকটা ম্যাচ বাকি, আশা করি ওটাও ভালোভাবে শেষ হবে। কিন্তু এটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। স্বস্তির জায়গা এটাই যে, আমরা ভালো উইকেটে খেলেই জিতছি, ভালো ক্রিকেট খেলছি।’
‘প্রথম ম্যাচটাতেও ভালো ব্যাটিং করছি আমরা। হয়তো মাঝখানে কিছু উইকেট না পড়লে তিনশর বেশি রানও হতো। ওইটা একটা ভালো ম্যাচ ছিল। আজকেরটা একটু লড়াই হলো। একটা স্বস্তির জায়গা যে অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের সঙ্গে আমরা জিতলাম। হয়তো ওদের তিন-চারজন ক্রিকেটার আসে নাই। তবু অস্ট্রেলিয়ার সেই সামর্থ্য আছে ভালো উইকেটে ভালো ক্রিকেট খেলার। আমরা আসলে ভালো ক্রিকেট খেলেই জিতেছি, এটাই সবচেয়ে স্বস্তির জায়গা।’
দ্বিপাক্ষিক সিরিজ কিংবা দেশের মাটিতে স্পিন নির্ভর উইকেটে খেললেও বিশ্বকাপে খেলতে হয় স্পোর্টিং উইকেটে। এমন কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা না থাকায় আইসিসির টুর্নামেন্টগুলোতে গিয়ে ভুগতে হয় বাংলাদেশকে। সেই পুরনো প্রথা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে টাইগাররা। যার অংশ হিসেবে ঘরের মাঠেই স্পোর্টিং উইকেট বানাচ্ছে বিসিবি। যার ফলও পেতে শুরু করেছে। তাসকিন মনে করেন, এটা ভবিষ্যতে কাজে দেবে।
ডানহাতি এই পেসার বলেন, ‘আসলে এই যে দল হিসেবে গত বছরখানেক ধরে আমরা আস্তে আস্তে বেড়ে উঠছি, ভালো উইকেটে, ভালো কন্ডিশনে খেলে উন্নতি করছি… লক্ষ্য কিন্তু একটাই বড় টুর্নামেন্টগুলোতে ভালো ফলাফল করা। এটা এখনও ওভাবে হয় নাই।’
‘এজন্যই আমাদের বোর্ড এবং ক্রিকেটার সবাই মিলেই যেটা চাচ্ছে যে, ভালো কন্ডিশনে খেলে খেলে আমাদের স্কিলে উন্নতি করা, মানিয়ে নেওয়া। অস্ট্রেলিয়া বা সাউথ আফ্রিকা, যখনই যেখানে খেলা হবে, ওখানে একটু বাড়তি বাউন্স থাকবে নিশ্চিতভাবেই। যতটা এরকম ভালো উইকেটে খেলব, কিছুটা হলেও মানিয়ে নেওয়া সহজ হবে এবং ভবিষ্যতে তা কাজে দেবে।’
সবশেষ কয়েক বছর ধরেই ভালো করছেন বাংলাদেশের পেসাররা। একটা সময় স্পিনারা জয়ের নায়ক বনে গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে বেশিরভাগ ম্যাচ জয়ে বড় অবদান রাখছেন তাসকিন, নাহিদ, মুস্তাফিজ, শরিফুল ইসলামের মতো পেসাররা। বাসিত আলীর মতো সাবেক ক্রিকেটারদের মতে, বাংলাদেশ এখন এশিয়ার দ্বিতীয় সেরা দল। তাসকিন ওইসব আলাপে না গিয়ে জানালেন, পেস ইউনিট হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বের সেরা তিনের মধ্যেই থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস টপ থ্রিতে থাকার মতো আমরা (পারফরম্যান্স) করছি।’