রনির অলরাউন্ড নৈপুণ্যে শিরোপার ত্রিমুখী লড়াইয়ে প্রাইম ব্যাংক

ডিপিএল
আবু হায়দার রনি, ফাইল ফটো
আবু হায়দার রনি, ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
স্কোরবোর্ডে মাত্র ১৬০ রানের পুঁজি, ম্যাচ জিতে শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকতে তাই অসম্ভব এক চ্যালেঞ্জই ছিল প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের সামনে। সেখান থেকে বাঁহাতি স্পিনার টিপু সুলতান ও সকলের ব্যর্থতার দিনে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ফিফটি করা আবু হায়দার রনির বোলিং নৈপুণ্যে বসুন্ধরাকে মাত্র ১৪২ রানেই অলআউট করে প্রাইম ব্যাংক। ১৮ রানের জয়ে শীর্ষ দুইয়ে থাকা আবাহনী ও মোহামেডানের সাথে সমান ১৬ পয়েন্ট নিয়ে রানরেটের ব্যবধানে পয়েন্ট টেবিলের তিন নম্বরে আছে তারা। শেষ দুই রাউন্ডেই নির্ধারিত হবে এবারের ডিপিএলের চ্যাম্পিয়ন দল।

১৬১ রানের ছোট লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় ওভারে ওপেনার আজমীর আহমেদের উইকেট হারায় বসুন্ধরা। আবু হাশিমে বলে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। পরপর দুই উইকেট তুলে নিয়ে দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন টিপু। টানা দুই ওভারে হাফিজুর রহমান ও আমিনুল ইসলাম বিপ্লবকে বোল্ড করে বসুন্ধরাকে ১০ রানে তিন উইকেটের দলে পরিণত করেন তিনি।

‎এরপর বসুন্ধরার হয়ে বিপর্যয় সামাল দেবার চেষ্টা করেন ওপেনার ইমরানুজ্জামান ও সানজামুল ইসলাম। দুইজন মিলে গড়েন ৫২ রানের জুটি। ৩১ রান করা ইমরানকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে সেই জুটি ভাঙেন রায়হান রাফসান রহমান। এরপর আল আমিনকেও শূন্য রানে ফিরিয়ে দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন রাফসান। ষষ্ঠ উইকেটে নাহিদুল ইসলামকে নিয়ে ৬১ রানের জুটি গড়ে আবারও বসুন্ধরাকে জয়ের স্বপ্ন দেখাতে থাকেন সানজামুল।

‎এবার প্রাইম ব্যাংকের ত্রাতা রূপে হাজির হন টিপু। টিপুকে এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারতে গিয়ে আবু হাশিমের ক্যাচে পরিণত হন নাহিদ। ৩৯ বলে সমান দুইটি করে চার ও ছক্কায় ৩৫ রান করেন নাহিদ। নাহিদ আউট হবার কিছুক্ষণ বাদেই ফিরে যান বসুন্ধরার একমাত্র আশা হয়ে টিকে থাকা সানজামুল।

এরপর টিপুর দুর্দান্ত ডেলিভারতে স্টাম্প উপড়ে যায় এই অলরাউন্ডারের। ৮৮ বলে পাঁচ চারে ৫৭ রান করেন তিনি। সানজামুল আউট হবার পর ৯ রানেই বাকি তিন উইকেট হারায় বসুন্ধরা। প্রাইম ব্যাংকের হয়ে টিপু সর্বোচ্চ চারটি, রনি তিনটি, রাফসান দুইটি এবং হাশিম একটি উইকেট নেন।

‎এর আগে পুবেরগাঁও ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাঠে টস হেরে ব্যাট করতে নেনে তৃতীয় ওভারে প্রথম উইকেট হারায় প্রাইম ব্যাংক। ৭ রান করা ওপেনার হাবিবুর শেখ মুন্নাকে ফেরান নাহিদ। আরেক ওপেনার খালিদ হাসানকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন আসাদুজ্জামান পায়েল। উইকেটে সেট হয়ে যাওয়া আরিফুল ইসলামকে ফেরান লেগ স্পিনার বিপ্লব। ৫৫ বলে ২৬ রান করেন আরিফুল।

‎বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি প্রাইম ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করা মাহমুদউল্লাহও। ১৬ বলে ৮ রান করে সানজামুলের বলের স্টাম্পিংয়ের শিকার হন তিনি৷ তিন চারে ১৯ রান করে আশা জাগিয়েও সানজামুলের বলে ফিরে যান শামীম পাটোয়ারী। এরপর নাইম হাসানও সানজামুলের শিকার হলে চাপে পড়ে প্রাইম ব্যাংক। ৯৩ রানেই সাত উইকেট হারায় তারা।

‎অন্যপ্রান্তে একের পর এক উইকেট পতন হতে থাকলেও অবিচল ছিলেন রনি। নিঃসঙ্গ লড়াইয়ে তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরিও।কঠিন উইকেটেও ৪৮ বলে তিন ছক্কা ও ছয়টি চারে রনির ৫৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে ১৬০ রানের পুঁজি সংগ্রহ করে প্রাইম ব্যাংক। ১২ ওভার বাকি থাকতেই অলআউট হয় তারা।শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন রনি। বসুন্ধরার হয়ে সানজামুল চারটি, নাহিদ ও পায়েল দুইটি করে এবং বিপ্লব একটি উইকেট নেন।

আরো পড়ুন: