৩৪৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ধীরস্থির শুরু করেন গুলশানের দুই ওপেনার তাহমিদুল ইসলাম ও কায়াস ইবনে কাউসার। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে তাহমিদকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন তাইজুল। পরের ওভারে একই কায়দায় কায়াসকে ফেরান আরেক বাঁহাতি স্পিনার তানভীর।
এরপর দুই প্রান্ত দিয়ে উইকেট উৎসব চালাতে থাকেন এই দুই স্পিনার। শাহরিয়ার সাকিবকে শূন্য রানে বোল্ড করে দ্বিতীয় শিকার করেন তানভীর। এর পরপরই জাকারিয়া ইসলাম শান্তকে ফিরতি ক্যাচ বানিয়ে তৃতীয় উইকেটও তুলে নেন তিনি। অন্যপ্রান্তে শাহদাত হোসেন সবুজ, মুসাব্বির হোসাইন মুনকে ফিরিয়ে তানভীরের সাথে যোগ দেন তাইজুলও। দুই বোলারের স্পিন ভেলকিতে ৫৯ রানেই আট উইকেট হারায় গুলশান।
নবম উইকেটে ৩২ রানের জুটি গড়ে হারের ব্যবধান কিছুটা কমান নাইম হোসেন সাকিব ও আবির। গুলশানের শেষ উইকেটটি তুলে নিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তাইজুল। ১০৮ রানেই গুটিয়ে যায় গুলশান। ২৩৭ রানের বড় জয় নিশ্চিত হয় মোহানেডানের। তাইজুলের পাঁচ উইকেট ছাড়াও তানভীর চারটি ও তাইবুর রহমান একটি উইকেট নেন। সপ্তম ম্যাচে গুলশানের এটি পঞ্চম হার।
এর আগে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) চার নম্বর মাঠে টস জিতে ব্যাট করতে নামে মোহামেডান। উদ্বোধনী জুটিতে ২৩ রান তোলেন নাইম শেখ। পঞ্চম ওভারে ১১ রান করা ইমন মিড অনে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে ভাঙে ওই জুটি। বেশিক্ষণ টেকেননি আরেক ওপেনার নাইমও৷ ৪৮ বলে ৩০ রান করে রাফিউজ্জামান রাফির বলে লং অনে ক্যাচ দিয়ে আউট হন নাইম।
এরপর মুশফিকুর রহিমকে সাথে নিয়ে ১০৮ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক হৃদয়। দুইজনই আক্রমণাত্বক ব্যাটিংয়ে চড়াও হন গুলশান বোলারদের ওপর। লিস্ট এ ক্রিকেটে নিজের ৪০ তম ফিফটি তুলে নেন হৃদয়। অন্যপ্রান্তে জাতীয় দলের দায়িত্ব শেষে ডিপিএলে নেমেই ক্যারিয়ারের ৪৬ তম ফিফটির দেখা পান মুশফিক। ৭৭ বলে এক ছক্কা ও ৯ চারে ৮৬ রান করা হৃদয়কে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন আবির।
হৃদয় আউট হবার পর আফিফকে সাথে নিয়ে ৭০ রানের জুটি গড়েন মুশফিক। ৬২ বলে ৮টি চারে ৭২ রান করে মুনের বলে বোল্ড হন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। ফিফটির দেখা পান আফিফও। লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে নিজের ২২ তম ফিফটি তুলে ৫৫ রান করে রাফির বলে ডিপ মিড উইকেটে ধরা পড়েন তিনি। শেষদিকে ২২ গজে ঝড় তুলে ইয়াসির আলী রাব্বি ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। সাইফউদ্দিনের ২৪ বলে তিন ছক্কা ও দুই চারে ৪৪ এবং রাব্বির ২০ বলে ২৯ রানের ইনিংসে ৯ উইকেটে ৩৪৫ রানের সংগ্রহ পায় মোহামেডান। গুলশানের হয়ে আবির চারটি, রাফি দুইটি ও মুন একটি উইকেট নেন।