পঞ্চম দিনের সকালে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খানের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে কিছুটা চাপে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ৪৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় পাকিস্তান দিন শুরু করে ৭ উইকেটে ৩১৬ রান নিয়ে। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন দুই ব্যাটার। দ্রুত রান তুলতে থাকায় টাইগার শিবিরে বাড়তে থাকে শঙ্কা। তবে শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞ স্পিনার তাইজুল ইসলামই এনে দেন স্বস্তি।
সকালের প্রথম ঘণ্টা প্রায় নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দেন রিজওয়ান ও সাজিদ। তাদের ৫৪ রানের জুটিতে ম্যাচ আবারও জমে ওঠার ইঙ্গিত মিলছিল। তবে সাজিদকে স্লিপে ক্যাচ বানিয়ে জুটি ভাঙেন তাইজুল। ২৮ রান করা সাজিদের বিদায়ের পরের ওভারেই বড় ধাক্কা খায় পাকিস্তান। শরিফুল ইসলামের বলে গালিতে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ দেন ৯৪ রান করা রিজওয়ান। ১৬৬ বলের ইনিংসে তিনি মারেন ১০টি চার। তার বিদায়ের পরই কার্যত বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়।
শেষদিকে আর প্রতিরোধ গড়তে পারেনি পাকিস্তান। খুররম শেহজাদকে আউট করে ইনিংসে নিজের ষষ্ঠ উইকেট পূর্ণ করেন তাইজুল ইসলাম। শেষ পর্যন্ত ৩৫৮ রানেই থামে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস। ফলে বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
এর আগে চতুর্থ দিন থেকেই পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে ছিল লড়াইয়ের ছাপ। ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজলকে ৬ রানে ফিরিয়ে শুরুটা এনে দেন নাহিদ রানা। গালিতে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। অন্য ওপেনার আজান আওয়াইসও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। মিরাজের বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে তিনি করেন ২১ রান।
দুই ওপেনার দ্রুত ফিরলেও বাবর আজম ও অধিনায়ক শান মাসুদ মিলে পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন। তৃতীয় উইকেটে তাদের ৯২ রানের জুটি কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলে বাংলাদেশকে। তবে তাইজুল ইসলামের বলেই থামে বাবরের ইনিংস। ৪৭ রান করে লিটন দাসের গ্লাভসে ক্যাচ দেন তিনি। এরপর নাহিদ রানার গতির সামনে টিকতে পারেননি সৌদ শাকিলও। মাত্র ৬ রান করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি।
পরে ৭১ রান করা শান মাসুদকেও ফিরিয়ে দেন তাইজুল। শর্ট লেগে মাহমুদুল হাসান জয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন পাকিস্তান অধিনায়ক। তবে এরপর মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগা গড়ে তোলেন ১৩৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিরোধ গড়ে বাংলাদেশকে চাপে রাখেন তারা। শেষ পর্যন্ত তাইজুলের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে ৭১ রান করা আগা বোল্ড হলে ভাঙে সেই জুটি। পরের ব্যাটার হাসান আলীকেও শূন্য রানে ফেরান এই বাঁহাতি স্পিনার।
এর আগে লিটন দাসের ১২৬ রানের ইনিংসের ওপর ভর করে ২৭৮ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে ২৩২ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। ৪৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে খেলতে নেমে মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরিতে ভর করে ৩৯০ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে পাকিস্তানের সামনে দাঁড়ায় ৪৩৭ রানের কঠিন লক্ষ্য। শেষ পর্যন্ত তাইজুল ইসলামের স্পিন ও বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।