সবশেষ ম্যাচে লক্ষ্মৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে জয়ের পর প্লে-অফে ওঠার লড়াইয়ে এগিয়ে গেছে রাজস্থান। এখন শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করতে তাদের প্রয়োজন আর মাত্র একটি জয়। ম্যাচ শেষে পরাগ প্রশংসায় ভাসিয়েছেন বৈভব সূর্যবংশীকে। ৩৮ বলে ৯৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হয়েছেন তরুণ এই ব্যাটার। তবে সতীর্থের প্রশংসার পাশাপাশি আইপিএলের কিছু ধারাভাষ্যকার ও বিশ্লেষকদেরও কড়া বার্তা দিতে ভোলেননি রাজস্থান অধিনায়ক।
সম্প্রতি ‘ভেপিং বিতর্কে’ জড়িয়ে আলোচনায় ছিলেন পরাগ। সংবাদ সম্মেলনে তাকে প্রশ্ন করা হয়, নিজের সম্পর্কে লেখা বা বলা নানা মন্তব্য কীভাবে সামাল দেন তিনি। জবাবে পরাগ জানান, সময়ের সঙ্গে তিনি বুঝে গেছেন, তিনি যা-ই করুন না কেন, মানুষ কথা বলবেই।
এ প্রসঙ্গে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে পরাগ বলেন, 'একটা বিষয় আমি এখন বুঝে গেছি। আপনি চার বছরের কথা বললেন, কিন্তু আমি বুঝেছি, আমি যা-ই করি না কেন, মানুষ কথা বলবেই। এটা আমি মেনে নিয়েছি। দ্বিতীয়ত, আমি এটাও বুঝেছি, এসব কথাবার্তা যেন আমার খেলা, ফর্ম বা মানসিকতায় প্রভাব না ফেলে। কারণ কি-বোর্ড যোদ্ধারা মাঠের বাইরের বিষয়, আর সেগুলো মাঠের বাইরেই থাকা উচিত। আমি আমার খেলাকে কতটা গুরুত্ব দিই, নিজের সামর্থ্যে কতটা বিশ্বাস রাখি, এসব যেন বাইরের কথাবার্তার কাছে হার না মানে।'
তিনি আরও বলেন, 'এবারের আইপিএলে মাঠের বাইরেও অনেক কিছু ঘটছে। আমি মনে করি, এই দেশের মানুষ ক্রিকেটকে ভীষণ ভালোবাসে। আমরা খেলোয়াড়রা যখন মাঠে নামি, তখন দর্শকদের জন্য এবং তাদের প্রত্যাশা পূরণের জন্য নিজেদের সেরাটা দেওয়ারই চেষ্টা করি।'
এরপর আইপিএলের ধারাভাষ্যকার ও বিশেষজ্ঞদেরও সমালোচনার ধরন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পরাগ। তার মতে, ক্রিকেটাররা কঠোর পরিশ্রম করেন এবং ভুল করাটা খেলাধুলারই অংশ। কিন্তু যখন ধারাভাষ্য কক্ষে বসে কারও ব্যক্তিগত জীবন বা মাঠের বাইরের বিষয় নিয়ে মন্তব্য করা হয়, তখন সীমা অতিক্রম করা হয়।
এ প্রসঙ্গে পরাগ বলেন, 'খেলোয়াড়রা খুব কঠোর পরিশ্রম করে। কোনো দল ৭৫ বা ৮০ রানে অলআউট হলে বাইরে থেকে বলা খুব সহজ যে তারা খেলতে চায় না বা খেলতেই জানে না। কিন্তু সেই ম্যাচের আগে হয়তো তিন-চার দিন ধরে প্রস্তুতি হয়েছে। ২২০ বা ২৫০ রান করার পরিকল্পনাও থাকে। কিন্তু সব সময় তা বাস্তবায়ন হয় না। আমরাও মানুষ, আমাদের দিক থেকেও ভুল হতেই পারে।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'বিশেষ করে ধারাভাষ্যকারদের বলব, যাদের কণ্ঠ মানুষের কাছে পৌঁছে যায় তারা যেন ক্রিকেটকে ভালোবাসেন এবং ক্রিকেট নিয়েই কথা বলেন। এই খেলাটা আমাদের দেশের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ, আর আমরা এই খেলায় বিশ্বের সেরাদের মধ্যে। তাই আমি মনে করি, ক্রিকেটকে সম্মানের সঙ্গে দেখা উচিত এবং শুধু ক্রিকেট নিয়েই আলোচনা হওয়া উচিত, অন্য কিছু নয়।”
লখনৌয়ের বিপক্ষে জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে রাজস্থান রয়্যালস। এখন লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। মুম্বাইয়ের বিপক্ষে জয় পেলেই প্লে-অফ নিশ্চিত হবে রাজস্থানের। তবে হারলেও অন্য সমীকরণে শেষ চারে ওঠার সুযোগ থেকে যাবে তাদের।