লিটন-রিজওয়ানের মধ্যে কী কথা হয়েছে জানেন না, তবে উপভোগ করেছেন টেইট

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ
লিটন দাস ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের তর্কে জড়ানোর মুহূর্ত, ক্রিকফ্রেঞ্জি
লিটন দাস ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের তর্কে জড়ানোর মুহূর্ত, ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
পুরো সিরিজ জুড়েই উইকেটকিপার হিসেবে দুর্দান্ত ছিলেন লিটন দাস। কিপিংয়ের পাশাপাশি স্লেজিংয়েও ছিলেন বেশ সক্রিয়। প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের মনোসংযোগে ব্যাঘাত ঘটাতে যা করা প্রয়োজন সবটাই করেছেন বাংলাদেশের উইকেটকিপার। মোহাম্মদ রিজওয়ান একটা সময় বিরক্ত হয়ে লিটনের কথার জবাব দিলেন। একটা পর্যায়ে দুজনের কথায় উত্তাপ ছড়াল। যদিও আম্পায়ারের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত দুজনকে থামানো গেছে। লিটন ও রিজওয়ানের এমন কথার লড়াই বেশ উপভোগ করেছেন শন টেইট।

ব্যাটিংয়ে নামলেই সময়ক্ষেপণ করতে পছন্দ করেন রিজওয়ান। ডানহাতি ব্যাটার একবার নিজেই স্বীকার করেছিলেন, দলের প্রয়োজনে এমন সময়ক্ষেপণ করেন তিনি। পাশাপাশি হ্যামস্ট্রিংয়ের অভিনয়ও করেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে সুবিধা করতে পারেননি রিজওয়ান। রানের দেখা পাওয়া হয়নি সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসেও। স্বাভাবিকভাবেই ব্যাটিংয়ে নেমে সময় নষ্ট করার জন্য খুব বেশি সুযোগ মেলেনি তার।

দ্বিতীয় ইনিংসে রানের দেখা পেতেই নিজের পুরনো ছন্দে ফেরেন রিজওয়ান। একটু পরপরই সময় নষ্ট করার জন্য হ্যামস্ট্রিংয়ের অভিনয়, আবার কখনো এই সেই কাণ্ড করেছেন তিনি। ডানহাতি ব্যাটারকে খেপিয়ে দিতে সব রকমের চেষ্টাই করেছেন লিটন।সাইট স্ক্রিনের কিছু একটাতে সমস্যা হওয়ায় খেলা থামিয়ে দেন রিজওয়ান। ওই সময় লিটন তাকে জিজ্ঞেস করেন কেন সে এমন করছে। ওই সময় খানিকটা উত্তেজিত হয়ে রিজওয়ান বলেন, ‘এটা কি তোর কাজ?’

প্রতিউত্তরে লিটন বলেন, ‘কী আমার কাজ! আপনি প্রতি বলেই ডিস্টার্ব করছেন…।’ তখনই দুজনের মধ্যে লেগে যায়। একটা পর্যায়ে আম্পায়ার এসে দুজনকে থামিয়েছেন। লিটনের পাশাপাশি পাকিস্তানি ব্যাটারকে স্লেজিং করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিমরা। রিজওয়ানের জন্য পরিস্থিতি ক্রমশই কঠিন করে তোলেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। লিটনদের এমন স্লেজিং উপভোগ করেছেন টেইট।

বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ বলেন, ‘কী বলাবলি হচ্ছিল, জানি না। কিন্তু আমি এটা উপভোগ করেছি। মানে… আমি তো অস্ট্রেলিয়ান, তাই না? এতেই হয়তো সবটা বোঝা যায়। আমরা এসব পছন্দ করি। আমার মনে হয়, কিছুটা তর্কাতর্কি থাকা দরকার আছে। সবসময় অবশ্যই নয়। সীমা অতিক্রম করা কাম্য নয়। সীমা না ছাড়ানো এবং এই ধরনের ব্যাপার নিয়ে আমরা কথা বলি। কিন্তু কিছুটা আগ্রাসন তো থাকতেই হবে।’

‘এটা তো টেস্ট ম্যাচ…পাকিস্তান-বাংলাদেশ লড়াই। আমার মনে হয়, ভক্তদের জন্য, আমাদের সবার জন্যই, খেলায় খেলায় কিছুটা প্যাশন দেখাতে চায় এবং লড়াইয়ের মধ্যে চায় পরস্পরকে আউট করতে। সবাই চায় লড়াইয়ে টিকে থাকতে। আমার তো এসব ভালো লাগে।’

পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন আসাদ শফিক। পাকিস্তানের ব্যাটিং কোচ অবশ্য লিটন ও রিজওয়ানের কথার লড়াই নিয়ে খুব বেশি ভেতরে ঢুকতে চাইলেন না। তাদের দুজনের মধ্যে কী হয়েছে সেটা জানেন না তিনি। টেস্ট ক্রিকেটে এমন যে হয় সেটা মনে করিয়ে দিলেন আসাদ শফিক।

পাশাপাশি পাকিস্তানের ব্যাটিং কোচ জানালেন, তার মনে হয় রিজওয়ান ও লিটনের মধ্যে সিরিয়াস কিছু হয়নি। আসাদ শফিক বলেন, ‘আমি জানি না আসলে কী হয়েছে (ওদের মধ্যে)। কিন্তু এ রকম টেস্ট ক্রিকেটে হয়ই। আমার মনে হয় না সিরিয়াস কিছু হয়েছে।’

আরো পড়ুন: