শান্তর সেঞ্চুরি, মুমিনুলের আক্ষেপ ও বাংলাদেশের রঙিন দিন

বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজ
বিসিবি
বিসিবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
‘(প্রথম ইনিংসে) চার শর বেশি রান যদি আমরা করতে পারি, সেটা দলের জন্য খুব ভালো।’ মিরপুর টেস্ট শুরুর একদিন আগে এমনটাই বলেছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়কের চাওয়া অনেকাংশে পূরণ হওয়ার পথে। প্রথম টেস্টের দিনের প্রথম দিন শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩০১ রান তুলেছে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় দিনের সকালে শ’খানেক রান তুলতে পারলে খুশিই হবেন শান্ত। সেই রানের পেছনে বড় অবদানটা অবশ্য বাঁহাতি ব্যাটারেরই। উইকেটে ঘাসের ছোঁয়া থাকলেও প্রত্যাশিতভাবে সুইং, সিম মুভমেন্ট পায়নি পাকিস্তানের পেসাররা।

সকালের শুরুতে মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলামকে ফিরিয়ে ভয়ই ধরিয়ে দিয়েছিলেন শাহীন আফ্রিদি ও হাসান আলী। তবে প্রথম এক ঘণ্টার পর দিনের বাকি সময়টাতে সেভাবে খুঁজে পাওয়া যায়নি সফরকারীদের। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে আরেকটি সেঞ্চুরি পেয়েছেন শান্ত। ছন্দে থাকা মুমিনুল হককে অবশ্য আবারও আক্ষেপে পুড়তে হয়েছে। সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়ে ফিরতে হয়েছে ৯১ রানের ইনিংস খেলে। শেষ বিকেলে ৪৮ রান নিয়ে দিনের খেলা শেষ করেছেন মুশফিক। ৪ উইকেটে ৩০১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের সকালে আবারও ব্যাটিংয়ে নামবেন মুশফিক ও লিটন দাস।

মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। ইনিংসের পঞ্চম ওভারেই জীবন পেয়েছিলেন মাহমুদুল হাসান জয়। তবে ডানহাতি ওপেনার সেই সুযোগটা একেবারেই কাজে লাগাতে পারেননি। একটু পরই আউট হয়েছেন শাহীন আফ্রিদির অফ স্টাম্পের বাইরের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে। ১৯ বলে ৮ রান করেছেন জয়। আরেক ওপেনার সাদমান ইসলামও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ।

ইনিংসের ১১তম ওভারে প্রথমবার বোলিংয়ে এসেই সাদমানকে ফেরান হাসান আলী। ডানহাতি পেসারের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে তৃতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৩০ বলে ১৩ রান করা বাংলাদেশি ব্যাটার। তিনে নামা মুমিনুল ও চারে নামা শান্ত মিলে বাংলাদেশের হাল ধরেন। শুরুর ধাক্কা সামলে দ্রুত রানও তোলেন তারা। দিনের প্রথম সেশনে বাংলাদেশকে আর উইকেট হারাতে দেননি মুমিনুল ও শান্ত। প্রথম সেশনে দুইটি উইকেট হারালেও ১০১ রান তোলে স্বাগতিকরা।

লাঞ্চ থেকে ফিরে একটু পরই হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন শান্ত। হাসানের বলে পুল করে চার মেরে ৭১ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর আরও দ্রুত রান তুলতে থাকেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। একটু রয়েসয়ে খেলা মুমিনুলও হাফ সেঞ্চুরি করেন। নোমান আলীর বলে দুই রান নিয়ে ১০২ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন বাংলাদেশের টেস্ট তারকা। সকালের শুরু থেকেই নানান রকম শটে পাকিস্তানের বোলারদের সামলেছেন শান্ত।

ধৈর্য্য ধরার সঙ্গে একের পর এক বাউন্ডারিতে রানও বাড়িয়েছেন তিনি। মোহাম্মদ আব্বাসের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে কভার ড্রাইভ করে চার মেরে ১২৯ বলে সেঞ্চুরি করেন শান্ত। টেস্টে মাত্র পাঁচটি হাফ সেঞ্চুরি করা বাঁহাতি ব্যাটারের এটি নবম সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের জার্সিতে শান্তর চেয়ে বেশি টেস্ট সেঞ্চুরি আছে মুশফিক (১৩), মুমিনুল (১৩) ও তামিম ইকবালের (১০)। সবশেষ পাঁচ টেস্টে এটি তার চতুর্থ সেঞ্চুরি।

যদিও একশ ছোঁয়ার পরই ফিরতে হয় তাকে। আব্বাসের ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে লেগ বিফোর উইকেট হয়েছেন শান্ত। আম্পায়ার রিচার্ড কেটেলবরো আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে বাংলাদেশের অধিনায়ককে ফেরায় পাকিস্তান। ১২ চার ও ২ ছক্কায় ১৩০ বলে ১০১ রানের ইনিংস খেলে ফেরেন শান্ত। বাঁহাতি ব্যাটারের বিদায়ে মুমিনুলের সঙ্গে তার ১৭০ রানের জুটি ভাঙে। পরবর্তীতে মুশফিককে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন মুমিনুল। তাদের দুজনের ৭৫ জুটি ভাঙেন নোমান।

বাঁহাতি স্পিনারের নিচু হওয়া ডেলিভারিতে ব্যাকফুটে গিয়ে লেগ সাইডে খেলতে চেয়েছিলেন মুমিনুল। বল বেশ খানিকটা নিচু হওয়ায় সেটা প্যাডে আঘাত হানে। আম্পায়ার আউট দিলেও রিভিউ নেন বাঁহাতি ব্যাটার। তবে ১০ চারে ২০০ বলে ৯১ রানের ইনিংস খেলা মুমিনুলের শেষ রক্ষা হয়নি। দেখেশুনে ব্যাটিং করলেও প্রথম দিনের শেষ বিকেলে হাফ সেঞ্চুরি পাওয়া হয়নি মুশফিকের। ডানহাতি ব্যাটার অপরাজিত আছেন ৪৮ রানে। তাকে সঙ্গ দেওয়া লিটন দ্বিতীয় দিন সকালে ব্যাটিংয়ে নামবেন ৩৫ বলে ৮ রান নিয়ে।

আরো পড়ুন: