অবসরের পর রাজনীতিতে আসলে ভালো হতো: সাকিব

বাংলাদেশ ক্রিকেট
সাকিব আল হাসান, ফাইল ফটো
সাকিব আল হাসান, ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ডিসেম্বর ২০২৩, তখনও বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। আরো বেশ কয়েকটা বছর দেশের হয়ে খেলার কথা তার। কিন্তু সবাইকে অনেকটা চমকে দিয়ে সংসদ নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে রাজনীতিতে নাম লেখালেন সাকিব। বছর না পেড়োতেই যে ঘটনা থামিয়ে দিয়েছিল সাকিবের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। খেলোয়াড়ি জীবনে রাজনীতিতে প্রবেশ নিয়ে এরপর বহু আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে।

‎কিন্তু যে সিদ্ধান্ত দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকার ক্যারিয়ার থামিয়ে দিয়েছিল সেই সিদ্ধান্তকে ভুল মনে করেন না সাকিব। ২০২৩ সালে তখনকার পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে তার কাছে রাজনীতিতে প্রবেশের জন্য সেটিই সঠিক সময় মনে হয়েছে তার। যদিও পেছনে তাকালে অবসরের পর রাজনীতিতে আসা যেত কিনা সেই ভাবনাও মাথায় আসে সাবেক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের।

‎ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্পোর্টস্টার-দ্যা হিন্দুকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন,'পেছনে তাকালে মনে হয়, অবসরের পর রাজনীতিতে আসাই ভালো হতো, সেটাই আদর্শ সময় ছিল। তবে যখন ২০২৩ সালের ডিসেম্বর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই, তখন আমার মনে পরিষ্কার ছিল যে ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিই হবে বাংলাদেশের হয়ে আমার শেষ আসর। সে হিসেবে এটাকে অবসরের পরের পরিকল্পনাই মনে করেছি। তাই সময়টা আমার কাছে ঠিকই মনে হয়েছিল।'

‎রাজনীতিতে আসার সময় ঠিক কিংবা ভুল সেই ভাবনা মাথায় এলেও রাজনীতি করার সিদ্ধান্তকে মোটেও ভুল কিছু মনে করেন না সাকিব। বরং আর দশটা পেশার মত রাজনীতিকেও মানুষের সেবায় নিয়োজিত হবার একটি পথ হিসেবে বেছে নিতে চেয়েছিলেন তিনি।

‎দেশের সবচেয়ে বড় তারকা হয়ে রাজনীতিতে আসার এই সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, 'বিভিন্ন পেশার মানুষ তাদের কাজের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে চায়। একজন চিকিৎসক যেমন মানুষের সেবা করে আস্থা অর্জন করেন, তেমনি অন্য পেশার মানুষও নিজেদের উপায়ে মানুষের সঙ্গে যুক্ত হন। আমার ক্ষেত্রে, আমি ক্রিকেট জীবন ও জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়েছি মানুষের কাছে পৌঁছাতে। আমি মনে করি না পদ্ধতিটি ভুল ছিল, তবে মানুষ ভিন্নভাবে দেখতেই পারে।'

'এই চিন্তাটা অবশ্যই ছিল। আমি সবসময় মনে করেছি, ভালো মানুষ দূরে থাকলে খারাপ মানুষের জায়গা তৈরি হয়। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টি নিয়ে ভেবেছি।'

‎‎রাজনীতিতে আসার পরিকল্পনা আরো আগে থেকে থাকলেও, পথটা যে এতটা কঠিন তা বুঝতে একটু সময় লেগেছে সাকিবের। যেভাবে দেশের মানুষ ক্রিকেটার সাকিবকে গ্রহণ করেছে, রাজনীতিবিদ সাকিবকে সেভাবেই প্রহণ করবে বলেই ভাবনা ছিল তার। রাজনীতির ব্যাপারে মানুষের ভাবনা ইতিবাচকভাবে বদলে দেবেন, এমনটাই ছিল স্বপ্ন।

‎সাকিব আরো যোগ করেন, 'একদিকে, যে কেউ রাজনীতিতে আসতে পারে, জনগণই ঠিক করে কাকে তারা চায়। শুরুতে আমি এভাবেই ভেবেছিলাম। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বুঝেছি বিষয়টি এত সহজ নয়। সবকিছু সাদা-কালো নয়।আমি যখন বড় হচ্ছিলাম, তখন খুব কম মানুষ ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে নিত। এখন সেই ধারণা বদলেছে, অভিভাবকেরা সন্তানদের উৎসাহ দেন।

'একইভাবে আমি ভেবেছিলাম, সৎ, পরিশ্রমী একজন মানুষ কেন রাজনীতিতে এসে দেশের জন্য কাজ করতে পারবে না? এই চিন্তা থেকেই সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলাম।'

‎২০২৪ এর সংসদ নির্বাচনের পর সাত মাস সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সাকিব। এরপর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বদলেছে রাজনৈতিক বাস্তবতা। বেশ কিছু মামলাও হয়েছে সাকিবের নামে। তাই দেশের মাটিতে সাকিবের খেলা হয়নি আর। মাঝে একাধিকবার ক্রিকেট বোর্ড বদলালেও সাকিবের দেশের মাটিতে খেলার বিষয়টি এখনও ঝুলে আছে। সাকিব বরাবরই দেশের মাটিতে খেলে অবসরে যাবার ইচ্ছে প্রকাশ করলেও কোনো বোর্ডই সাকিবকে দেশে ফেরানোর দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।

‎গণঅভ্যুত্থানের পর ফারুক আহমেদ, আমিনুল ইসলাম বুলবুল হয়ে এখন দেশের ক্রিকেট বোর্ডের দায়িত্বে সাকিবের সাবেক সতীর্থ তামিম ইকবাল। দায়িত্বে থাকতে সকলেই সাকিবকে দেশে ফেরাতে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করলেও কেউই তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

‎দেশে ফেরা প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, 'আগের বোর্ড সত্যিই আমাকে ফেরানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল, কিন্তু বলার সঙ্গে বাস্তবায়নের মধ্যে বড় পার্থক্য থাকে। এখনো শুনি সবাই চায় আমি ফিরি, কিন্তু বাস্তবে কেউই বিষয়টা এগিয়ে নিতে উদ্যোগ নেয়নি (হাসি)।'

‎২০২৪ সালের মে-তে সবশেষ দেশের মাটিতে মাঠে নেমেছিলেন সাকিব। প্রায় দুই বছর পেড়িয়ে গেলেও এখনও দেশে ফেরার ব্যাপারে হাল ছাড়তে রাজি নন এই অলরাউন্ডার। কখন ফিরতে পারবেন তা না জানলেও, সাকিবের দৃঢ় বিশ্বাস তিনি ফিরবেন তার দেশে।

‎সাকিব যোগ করেন, 'আশা করছি বছরের শেষ নাগাদ সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। আপাতত আমি আশাবাদী। একটা বিষয় নিশ্চিত, আমাকে বাংলাদেশে ফিরতেই হবে। শুধু প্রশ্ন হলো কবে ফিরতে পারব। তবে আমি বিশ্বাস করি, বছরের শেষের আগেই ফিরতে পারব। কীভাবে হবে জানি না, কিন্তু আমি সত্যিই আশাবাদী।'

আরো পড়ুন: