আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এমন অধিনায়কদের হাতে ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ তুলে দিলেন তামিম ইকবাল। দেশের পুরুষ অধিনায়কদের পাশাপাশি নিগার সুলতানা জ্যোতি, জাহানারা আলম, রুমানা আহমেদ ও সালমা খাতুনের মতো নারী অধিনায়কদেরও একই সুবিধা সম্বলিত ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ দিয়েছে তামিমের বোর্ড। সবার হাতে কার্ড তুলে দেওয়ার আগে সেটার সুবিধার কথাও জানালেন তামিম নিজেই।
দেশের মাটিতে খেলা হলে সবসময়ই সাবেক অধিনায়কদের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক টিকেট বরাদ্দ রাখে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সেই টিকেট নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে মাঠে ঢুকে ম্যাচ দেখতে হয় তাদের। এখন থেকে অবশ্য সেটা করার প্রয়োজন হবে না বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়কদের। ‘ক্যাপ্টেনস কার্ডের’ মাধ্যমে এখন থেকে দেশের মাটিতে হওয়া দ্বিপাক্ষিক সিরিজ, বিপিএলসহ ঘরোয়া ক্রিকেটও দেখতে পারবেন তারা।
এসবের বাইরে আইসিসি কিংবা এসিসির টুর্নামেন্টের ম্যাচও দেখার সুযোগ থাকবে তাদের। এখন থেকে আর লাইনে দাঁড়াতে হবে না অধিনায়কদের। সুবিধার কথা জানিয়ে তামিম বলেন, ‘আজকে থেকে আজীবন এই কার্ডটা হলো আপনাদের পরিচয়। এই কার্ড দিয়ে বাংলাদেশের যত খেলা হবে, আইসিসি ইভেন্ট, এসিসি ইভেন্ট, হোম সিরিজ, বিপিএল, ঘরোয়া ক্রিকেট— এটা আপনাদের পাস।’
‘আমি কোনদিন দেখতে চাই না আমাদের অধিনায়ক একটা টিকিট নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকবে, বিসিবিকে ফোন করবে যে আমার টিকেটটা কই? আমি এটা কখনো শুনতে চাই না। যে টিকেটটা আপনারা পেতেন ওই টিকেট এখনো আপনার। ওইটা আপনার পরিবারের, আপনার সন্তানদের জন্য। আপনারা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য যা করেছেন ওইটার জন্য কোন টিকেট হতে পারে না। এটার জন্য আমরা ছোট্ট একটা সম্মান দিতে পারি।’
খেলা দেখার বাইরে আরও বিশেষ কিছু সুবিধা থাকছে এই কার্ডের আওতায়। অনেক সময়ই মিরপুরে স্টেডিয়ামের ভেতরে অধিনায়কদের গাড়ি পার্ক করার সুযোগ থাকে না। এমন সময় গাড়ি স্টেডিয়ামে বাইরে রেখে হেঁটে আসতে হয় অধিনায়কদের। এমন কিছু অবশ্য আর কখনো দেখতে চান না তামিম। ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ ব্যবহার করে স্টেডিয়ামের ভেতরে ভিভিআইপি স্থানে গাড়ি পার্ক করতে পারবেন অধিনায়করা।
তামিম বলেন, ‘খুবই ছোট জিনিস হয়ত তবুও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা গাড়ি কই রাখব, গাড়ি বাইরে রাখতে হয় আমাদের, হেঁটে হেঁটে আসতে হয়। আমি অনেক অধিনায়ককে দেখেছি তারা হেঁটে হেঁটে রাস্তার মাঝখান দিয়ে ধাক্কা খেয়ে এসে গেইটে ঢুকতে হয়। এটা হইতে পারে না। মিরপুরে যে জায়গাকে আমরা বলি ভিভিআইপি, আমাদের জন্য আপনাদের চেয়ে বড় ভিভিআইপি আর কেউই না। আপনারা ওই সুবিধা পাবেন।’
সাবেক অধিনায়কদের জন্য হেলথ ইন্সুরেন্সের ব্যবস্থাও রেখেছে তামিমের বোর্ড। জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা বিসিবি থেকে সব ধরনের মেডিকেল সুবিধা পেয়ে থাকেন। তাদের মতো সাবেক অধিনায়করাও একই ধরনের সুবিধা পাবেন। যার ফলে কোনো ধরনের অ্যাপোয়েন্টমেন্ট ছাড়াই বিসিবির মেডিকেল বিভাগের কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারবেন তারা। এ ছাড়া দেশের বাইরে কোথাও ডাক্তার দেখালে সেখানেও পরামর্শ দেবে বিসিবির মেডিকেল বিভাগ।
বিসিবি সভাপতি তামিম বলেন, ‘অধিনায়করা যখনই অবসর নেবেন, যারা অবসর নিয়েছেন বা যারা একটিভ আছেন তারা যেই মুহূর্তে অবসর নেবেন তারা হেলথ ইন্সুরেন্স পাবেন জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মতো। যারা যারা আছেন তারা প্রত্যেক জনই হেলথ ইন্সুরেন্স পাব। আমাদের নিজস্ব একটা মেডিকেল টিম আছে। অনেকের বয়স হয়ে গেছে, অনেকে চিন্তা করে আমি রাত্রে বেলা অসুস্থ হলে কী হবে, আমি কোথায় সহায়তা পাব।’
‘বিসিবির মেডিকেল টিম আপনাদের জন্য ২৪/৭ অ্যাভেইলএবল থাকবে এখন থেকে। আপনাদের কোন ডাক্তারকে ফোন করার দরকার নাই, অ্যাপোয়েন্টমেন্টেরও দরকার নেই। বিদেশে কোথাও যদি অ্যাপোয়েন্টমেন্টেরও দরকার হয় ওইটা বিসিবির মেডিকেল টিমের দায়িত্ব আপনাদের কীভাবে সেরা অপশন খুঁজে দেয়। সবকিছুই এই কার্ডের ভেতরে থাকবে।’
বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন এমন অধিনায়কদের মাঝে গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, মিনহাজুল আবেদিন রনি, মোহাম্মদ আশরাফুল, লিটন দাস, রাজিন সালেহ, হাবিবুল বাশার সুমনসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, ফারুক আহমেদ, আমিনুল ইসলাম বুলবুল, খালেদ মাসুদ পাইলটরা। তবে তাদের সবার সঙ্গেই কথা হয়েছে বলে জানান তামিম।
এ প্রসঙ্গে বিসিবি সভাপতি তামিম বলেন, ‘কেউ কেউ পরিস্থিতির কারণে আসতে পারে নাই। মাশরাফি ভাই, সাকিব, ফারুক ভাই, আমি সবার সঙ্গেই কথা বলেছি। আমি বুলবুল ভাইকে কল করেছি, উনাকে মেসেজ পাঠিয়েছি। তারপর অনুধাবন করলাম যে আমিও ব্লক লিস্টে। আমি নিশ্চিত বাংলাদেশের ক্রিকেটে তার (আমিনুল ইসলাম বুলবুল) অবদান অনেক। সে আমাদের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক, প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান। আমি তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি কিন্তু পারিনি।’
‘সাকিব পরিস্থিতির কারণে এখানে নেই, মাশরাফি ভাইও পরিস্থিতির কারণে নেই, ফারুক ভাই ব্যস্ত, পাইলট ভাই দেশের বাইরে, বুলবুলের ভাইয়ের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয় নাই। উনাদেরকে বলতে চাই এই কার্ডগুলো আপনাদের জন্য প্রস্তুত আছে। আপনারা যখনই দেশে থাকবেন বা ফ্রি থাকবেন তখন এই কার্ডটা আপনারা সাদরে গ্রহণ করবেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটে আপনাদের অবদান অনেক বেশি।’
‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ পাওয়া বাংলাদেশের পুরুষ অধিনায়কদের তালিকা— শামীম কবির (১৯৭৭), রকিবুল হাসান (১৯৭৯), শফিকুল হক হীরা (১৯৮২), গাজী আশরাফ হোসেন লিপু (১৯৮৬), মিনহাজুল আবেদিন নান্নু (১৯৯০), ফারুক আহমেদ (১৯৯৪), আকরাম খান (১৯৯৫), আমিনুল ইসলাম বুলবুল (১৯৯৮), নাইমুর রহমান দূর্জয় (২০০০), খালেদ মাসুদ পাইলট (২০০১), খালেদ মাহমুদ সুজন (২০০৩), হাবিবুল বাশার সুমন (২০০৪), রাজিন সালেহ (২০০৪), শাহরিয়ার নাফিস (২০০৬), মোহাম্মদ আশরাফুল (২০০৭), মাশরাফি বিন মুর্তজা (২০০৯), সাকিব আল হাসান (২০০৯), মুশফিকুর রহিম (২০১৭), তামিম ইকবাল (২০১৭), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (২০১৮), মুমিনুল হক (২০১৯), লিটন দাস (২০২১), নুরুল হাসান সোহান (২০২২), মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত (২০২২), নাজমুল হোসেন শান্ত (২০২৩), মেহেদী হাসান মিরাজ (২০২৪) এবং জাকের আলী অনিক (২০২৫)
‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ পাওয়া বাংলাদেশের নারী অধিনায়কদের তালিকা— তাজকিয়া আক্তার (২০০৭), সালমা খাতুন (২০১১), জাহানারা আলম (২০১১), রুমানা আহমেদ (২০১৪), নিগার সুলতানা জ্যোতি (২০১৬) এবং ফাহিমা খাতুন