ক্রিকেটের স্পিরিটের প্রতি অবিচার করা হয়েছে: বাসিত

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ
ফাইল ফটো
ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচের ফল ছাপিয়ে সালমান আলী আঘার এক আউট নিয়ে বিতর্ক চলছেই। স্বাভাবিকভাবেই পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটাররা সালমান আঘার সাথে স্পোর্টসম্যান স্পিরিটের পক্ষেই অবস্থান জানাচ্ছেন। পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার বাসিত আলী দাবী করেছেন, ক্রিকেটের স্পিরিটের সাথে চরম অন্যায় করা হয়েছে এই আউটের মাধ্যমে।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৩৯তম ওভারে ঘটে সালমান আলী আঘার আউটের এই ঘটনা। ক্রিজের বাইরে থেকে বোলার মেহেদী হাসান মিরাজের দিকে বল এগিয়ে দিতে চেয়েছিলেন আঘা। মিরাজ তার আগেই বল নিয়ে স্টাম্পে আঘাত করেন এবং আউটের আবেদন করেন। বাসিত আলী মনে করেন, এই মুহূর্তে অনফিল্ড আম্পায়ারেরও একটা দায়িত্ব ছিলো। আম্পায়াররা তখন মিরাজকে জিজ্ঞেস করে আপিলের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারতেন বলেও মনে করেন বাসিত।

ইউটিউবে একটি আলোচনায় বাসিত বলেন, 'স্পোর্টসম্যান স্পিরিট নিয়ে অনেক কথা হয়েছে, যেমন সাকিব এবং অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের ঘটনা। একবার শচীন টেন্ডুলকার শোয়েব আখতারের সাথে ধাক্কা লেগে রান আউট হয়েছিল, তখন পাকিস্তান বলেছিল সিদ্ধান্ত ঠিক আছে। আজ সালমান আঘা যেভাবে আউট হয়েছে তা ক্রিকেটের আইন অনুযায়ী ঠিক ছিল। কিন্তু সে যখন বলটি বোলারকে এগিয়ে দিচ্ছিল, তখন গ্রাউন্ড আম্পায়ারের হস্তক্ষেপ করা উচিত ছিল।'

বাসিত আরো যোগ করেন, 'থার্ড আম্পায়ারের কাছে পাঠানোর আগে অধিনায়ককে জিজ্ঞেস করা উচিত ছিল যে এটি স্পোর্টসম্যান স্পিরিটের পরিপন্থী, তিনি আপিল প্রত্যাহার করবেন কি না। অধিনায়ক যদি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতেন তবে সেটাই ভালো হতো। তবে ক্রিকেটার হিসেবে বলব আজ ক্রিকেটের স্পিরিটের প্রতি অবিচার করা হয়েছে।'

বাসিতের মতে এমন আউটের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বিবেচনা করা উচিত। একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজে এমন আউট করা উচিত হয়নি বলেও দাবী তার। ১৯৮৭ বিশ্বকাপের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, 'দলের অন্য খেলোয়াড়রা হয়তো মিরাজকে বোঝাতে পারত। এটি তো কোনো আইসিসি ইভেন্ট নয়, একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ। ১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপে লাহোরে একটি ম্যাচ ছিল। সেলিম জাফর নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে ছিলেন। কোর্টনি ওয়ালশ বোলিং করার সময় সেলিম জাফর অনেকখানি ক্রিজ ছেড়ে এগিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু ওয়ালশ তাকে আউট না করে শুধু সতর্ক করেছিলেন।'

তবে সালমান আঘার আরো বেশি সতর্ক হওয়া উচিত ছিলো বলেও মানছেন পাকিস্তানের সাবেক এই ক্রিকেটার। পেশাদার ক্রিকেটটা পেশাদার ভাবেই খেলা উচিত বলেও মনে করেন তিনি। সালমান আলী আঘার মিরাজের হাতে বল তুলে দেবার ঘটনায় পেশাদারিত্বের অভাব দেখেন বাসিত। পেশাদারিত্ব শিখতে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের থেকে শেখারও পরামর্শ তার।

বাসিত বলেন, 'এমন ঘটনা কি আগে ঘটেনি? ১৯৯৪ সালের একটি ঘটনার কথা বলি। স্টিভ ওয়াহ এবং গ্লেন ম্যাকগ্রা- দুজনই বড় এবং পেশাদার খেলোয়াড়। আমি স্টিভ ওয়াহকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনারা ব্যাটিংয়ের সময় বল (বোলারকে দেওয়ার জন্য) হাত দিয়ে তুলে দেন না কেন? আর ম্যাকগ্রা বোলিংয়ের সময় ব্যাটারকে বল হাত দিয়ে তুলতে মানা করে কেন? সে উত্তর দিয়েছিল, 'বাসিত, আমরা পেশাদার। আপনি যে টাকা পান আমরাও সেই টাকা পাই। আমাদের কাজ আমরা করব, আপনার কাজ আপনি করবেন।'

এমন আউটে স্পোর্টসম্যান স্পিরিটের ঘাটতি দেখলেও আউট হবার পর সালমানের আচরণেও ভুল দেখছেন বাসিত। সালমান ওভাবে হেলমেট ছুড়ে রাগ প্রকাশ না করলেও পারতেন বলে মত তার, 'রাগ সবারই হয়, কিন্তু রাগ নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। রাগ থেকে অনেক ভুল হয়ে যায়। হেলমেট ছুড়ে ফেলাটা আমারও খারাপ লেগেছে।'

আরো পড়ুন: