মিরাজের জায়গায় থাকলে ‘স্পোর্টসম্যান স্পিরিট’ই বেছে নিতাম: সালমান

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ
সালমান আঘা, ফাইল ফটো
সালমান আঘা, ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
রান আউট হয়ে যখন ড্রেসিংরুমে ফিরছিলেন, তখনই ক্ষোভে ফুঁসছিলেন পাকিস্তানের সালমান আলী আঘা। বারবার পেছনে ঘুরে তাকাচ্ছিলেন আর কিছু একটা বলছিলেন বাংলাদেশ দলকে উদ্দেশ্য করে। তার ক্ষোভ যে মেহেদী হাসান মিরাজের প্রতি সেটাও স্পষ্ট ছিলো। তবে ম্যাচ শেষে সালমান জানিয়েছেন, মিরাজের সাথে সব ঠিকঠাক আছে তার। কিন্তু ওই পরিস্থিতিতে মিরাজের জায়গায় থাকলে তিনি কখনোই এই ধরণের আউট করতেন না বলেও জানিয়েছেন এই অলরাউন্ডার।

পাকিস্তান ১২৮ রান ম্যাচ জিতে দারুণভাবে সিরিজে ফিরেছে। কিন্তু এমন ম্যাচের পরেও পুরো ম্যাচ নিয়ে যেন কোনো কথাই নেই! সব আলোচনা আটকে আছে সালমানের সেই আউটেই। ৩৯তম ওভারে মিরাজের বল মিড অনের দিকে খেলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। তখন নন স্ট্রাইক প্রান্তে ছিলেন সালমান। রিজওয়ানের ফরোয়ার্ড পুশ এসে তার শরীরে লাগে। তখনো ক্রিজের বেশ বাইরে দাঁড়িয়ে তিনি। ক্রিজের বাইরে থেকে তিনি বল তুলে দিতে চাচ্ছিলেন বোলার মিরাজের হাতে।

কিন্তু তার আগেই মিরাজ দ্রুতগতিতে বল নিয়ে থ্রো করে স্টাম্প ভেঙ্গে দেন। তখন সালমান যেন তা বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। তৃতীয় আম্পায়ার খেলার নিয়ম অনুযায়ী আউট ঘোষণা করলে মাঠেই প্রতিক্রিয়া দেখান সালমান। সাথে সাথেই ক্রিকেটবিশ্ব জুড়ে আলোচনা শুরু হয়। স্পোর্টসম্যান স্পিরিট নাকি ক্রিকেটের আইন, দুই পক্ষে ভাগ হয়ে যুক্তিতর্ক চলতে থাকে সবখানে। ম্যাচ শেষে সালমান জানালেন এমন পরিস্থিতিতে তার কাছে 'স্পোর্টসম্যান স্পিরিট' প্রাধান্য পাবে।

সংবাদ সম্মেলনে সালমান বলেন, 'অবশ্যই এটা আইনে আছে এবং আমি এমন একজন, সবসময়ই আইন অনুসরণ করতে চাই। তবে কখনও কখনও স্পোর্টসম্যান স্পিরিটের ব্যাপার যখন আসে। স্পোর্টসম্যান স্পিরিট সেখানে থাকতে হবে, যা কিছুই হোক না কেন। তবে আমার দৃষ্টিভঙ্গি যদি জানতে চান, আমি অবশ্যই অন্য কিছুই করতাম। স্পোর্টসম্যান স্পিরিটই বেছে নিতাম।'

সালমান আরো বলেন, 'আমি আপনাদের বলতে পারি ঘটনার পরে কী হয়েছে। সবাই দেখেছে কী হয়েছে। অনেকটা মুহূর্তের উত্তেজনায় ঘটে যাওয়ার মতো ব্যাপার। তবে আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন, আমি ওখানে থাকলে কী করতাম, আমি ভিন্নভাবে করতাম। তবে এরপর যা হয়েছে, সবটুকুই ‘হিট অব দা মোমেন্টে’ হয়ে গেছে।'

এই ধরণের আউটের পর এই বিতর্ক অবশ্য চিরকালীন। এখানে মিরাজ বল হাতে তুলে নিতে না পারলে বল নিশ্চিত ভাবেই লং অনের দিকেই যেত। সেই মুহুর্তে ক্রিজ থেকে এগিয়ে থাকাইয় রান নিতে সুবিধা পেতে পারতেন সালমান। যদিও সালমানের দাবী বল সরাসরি তার শরীরে এসে লাগায় সুযোগ আসলেও সিংগেল নিতে চাইতেন না তিনি।

সালমান বলেন, 'নাহ, আমি নিতাম না (রান)। আমিও তখন ভাবছিলাম, যেহেতু আমি তার পথের সামনে ছিলাম, ভাবছিলাম যে, নিশ্চিতভাবেই রান নেওয়ার চেষ্টা করতাম না।'

পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক এই সালমান। বোলার কিংবা অধিনায়ক হিসেবে এই ধরণের আউটের সুযোগ কখনো আসলেও তা নেবেন বলে বারবার এই সংবাদসম্মেলনে দাবী করেন সালমান, 'নাহ, কখনোই না। আগেও কখনও আমরা করিনি, ভবিষ্যতেও করব না।'

সেই সাথে মিরাজের সাথেও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নেই বলেও নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তানকে সিরিজে ফেরানোর অন্যতম এই নায়ক। সবাইকে আশ্বস্ত করে সালমান বলেন, ‘আমার এখনো কথা হয়নি (মিরাজের সঙ্গে), কিন্তু হবে। চিন্তা করবেন না। সবকিছু ঠিকঠাকই আছে।’

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাথে এই ধরণের আউট যেন ওতপ্রতভাবে জড়িয়ে গেছে বেশ কিছুবছর ধরে। ২০২৩ বিশ্বকাপে সাকিব আল হাসানের করা টাইমড আউট কান্ড যেমন আছে, ঠিক তেমনি একই বছর নিউজিল্যান্ডের ইশ সোধি মানকাডিং আউটের শিকার হবার পর অধিনায়ক লিটন দাসের তাকে ক্রিজে ফিরিয়ে আনার ঘটনাও আছে। সালমানের আউট শুধুই আরেকটি ঘটনা হিসেবে যুক্ত হলো সেসব ঘটনার সাথে।

আরো পড়ুন: