পাকিস্তান ক্রিকেটে প্রতিভার অভাব ছিলো না কখনোই। কিন্তু সেই প্রতিভা পাকিস্তান কাজে লাগাতে পারেনি বেশিরভাগ সময়ই। যার ফল, পাকিস্তান ক্রিকেটের রুগ্ন দশা। এশিয়া কাপ কিংবা বিশ্বকাপের মত বড় আসরের শিরোপা জিততে যেন ভুলেই গেছে এক সময়ের এশিয়ার পরাশক্তি পাকিস্তান। সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের হতাশাজনক বিদায়ের পর দলে বড় ধরণের পরিবর্তন এনে বাংলাদেশে এলেও সেটি যেন আরো বুমেরাং হয়েছে।
পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটাররাও তাই বেশ চটেছেন বর্তমান ক্রিকেট বোর্ড ও পুরো সিস্টেমের ওপর। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ১১৪ রানেই গুটিয়ে যাওয়াটা মেনেই নিতে পারছেন না সাবেক ওপেনার আহমেদ শেহজাদ। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে তিনি বলেন, 'সারা বিশ্ব যেখানে টি-টোয়েন্টিতে ২৫০ রান করছে, সেখানে পাকিস্তান ক্রিকেটের অবস্থা এমন হয়েছে যে, ওডিআই ক্রিকেটে তারা ১১৪ রানেই গুটিয়ে গেছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে তারা ১১৪ রানে অলআউট হয়ে গেল! কি দারুণ পরিকল্পনা! কি চমৎকার তরুণ এবং সিনিয়রদের কম্বিনেশন! কি অসাধারণ সিলেকশন! পাকিস্তান ক্রিকেটে সবকিছু একদম সঠিক পথেই চলছে।'
পাকিস্তান সবসময়ই পেস বোলার তৈরির জন্য সুনাম কুড়িয়ে এসেছে। যদিও সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পেসার নাহিদ রানা একাই যেন অসহায় বানিয়ে রেখেছিলেন পুরো পাকিস্তান দলকে। পাকিস্তানের তরুণদের পেস বোলিং সামলানোতে এমন বেহাল দশায় হতাশ শেহজাদ।
তিনি বলেন, 'আজ তারা নাহিদ রানার বলে অসহায়ভাবে আউট হয়েছে। একাই নাহিদ রানা আপনাদের কাঁপিয়ে দিয়েছে। সে আপনাদের সিনিয়র এবং তরুণ সব খেলোয়াড়কে এক্সপোজ করে দিয়েছে। ১১৪ রানে অলআউট! খুব সহজেই আপনারা এখন অজুহাত দেবেন যে তরুণদের খেলানো হয়েছে। আরে ভাই, সারা বিশ্বে সবাই তরুণদের খেলায়, কিন্তু তারা কি এইভাবে হারে?'
এক সমইয় বাবর আজমকে বিরাট কোহলির সাথে তুলনীয় মনে করতেন পাকিস্তানি সমর্থকরা। কিন্তু নিজের সেরা সময় পেছনে ফেলে আসার পর বাবর আজম এখন পাকিস্তান দলেও নিয়মিত সুযোগ পাচ্ছেন না। এর পেছনেও পাকিস্তানের ক্রিকেটীয় সিস্টেমকে দায়ী মনে করেন শেহজাদ।
শেহজাদের মতে, 'বাবর আজমকে নিয়ে আপনারা আসলে কী করতে চাচ্ছেন? আমরা বারবার বলেছি যে, টি-টোয়েন্টিতে তাঁর জায়গা নেই। অথচ আপনারা তাঁকে পুরো বিশ্বকাপে টেনে নিয়ে গেলেন। তারপর তাঁকে চার নম্বরে খেলিয়ে অদ্ভুত সব বয়ান দিয়ে বিশ্বকাপের পর তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করলেন।'
তিনি আরো যোগ করেন, 'বাবর আজমের ওডিআই পারফরম্যান্সটা অন্তত গিয়ে দেখুন। ওডিআইতে তাঁর মতো ব্যাটসম্যানের বিকল্প আপনাদের কাছে কে আছে? আপনারা আগে তার আশেপাশের খেলোয়াড়দের তৈরি করুন, তাদের গ্রুম করুন। কিন্তু আপনাদের তো বিশ্বকাপ থেকে বের হওয়ার জন্য একটা রাস্তা দরকার ছিল, তাই দোষটা এক-দুজন মানুষের ওপর চাপিয়ে দিয়ে তাদের সরিয়ে দিলেন।'
এমনটা চলতে থাকলে পাকিস্তান ক্রিকেটের কোনো ভবিষ্যৎ দেখেন না শেহজাদ। সহযোগী দেশগুলোর সিস্টেমও পাকিস্তানের চেয়ে ভালো, এমনটা উল্লেখ করে তিনি বলেন,'বিশ্বাস করুন, উগান্ডারও হয়তো একটা নির্দিষ্ট মেকানিজম বা পদ্ধতি আছে। এমনকি ছোট ছোট দেশগুলোরও নিজস্ব নিয়মকানুন থাকে। কিন্তু আপনাদের কিছুই নেই।'