আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে এ দিন নিজের প্রথম ফাইফার তুলে নেন নাহিদ। আর এমন পারফরম্যান্সের পর তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ পাকিস্তান দলের সাবেক অধিনায়ক রমিজ রাজা। মিরপুরের পেসবান্ধব উইকেট দেখেও মুগ্ধ হয়েছেন তিনি।
রমিজ বলেন, 'নাহিদ রানার মতো একজন বোলার, যে ১৪৫ কিমি গতিতে বল করছে, অমনি সবার টেকনিক এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। বাউন্সারেও সমস্যা হচ্ছে, পরের বল বুঝতেও সমস্যা হচ্ছে এবং মনে হচ্ছিল ব্যাটিংয়ের দিক থেকে পুরো দলটাই যেন মরিচা ধরা বা জং ধরা অবস্থায় আছে।'
'নাহিদ রানা প্রতিটি ওভারেই উইকেট নিচ্ছিলেন। মনে হচ্ছিল পুরো পাকিস্তান শিবিরে যেন হাহাকার পড়ে গেছে। বাংলাদেশের যে উন্নতি, সেটা পিচের কারণেই হয়েছে। তারা এখন ভালো অলরাউন্ড বোলিং অ্যাটাক তৈরি করেছে। তারা এখন আর শুধু স্পিনিং পিচ বানায় না, এখন তারা ফাস্ট পিচ বানায়।'
শুধু বোলারদের প্রশংসা করেই ক্ষান্ত হননি রাজা। করেছেন টাইগার ব্যটারদের প্রশংসাও। যেখানে রান করতেই হিমশিম খাচ্ছিলেন পাক ব্যাটাররা, সেখানে হেসে খেলে বাংলাদেশের ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম চালান ব্যাট। প্রায় ১৬০ স্ট্রাইকরেটে করেন অপরাজিত ৬৭ রান। নিয়মিত বিপিএল কিংবা দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ধারাভাষ্য দিতে আসা রমিজ জানিয়েছেন, এর আগে বাংলাদেশের এমন ব্যাটিং তিনি দেখেননি।
'বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়েও বাংলাদেশ আমাদের নাকানিচুবানি খাইয়েছে এবং ৬টার মধ্যে ম্যাচ শেষ হয়ে গেছে। এটা পাকিস্তানের জন্য একটা বড় সতর্কবার্তা। বাংলাদেশ আজ অসাধারণ ব্যাটিং করে দেখিয়েছে, আমি এর আগে তাদের থেকে এইরকম ব্যাটিং দেখিনি।'
'একটা হয় ম্যাচ জেতা আর একটা হয় দাপটের সাথে ম্যাচ জেতা। তারা বুঝিয়ে দিল যে, আপনারা বড় দল হতে পারেন বা বড় বড় বোলার থাকতে পারে, কিন্তু আজ আমরা দেখিয়ে দেব আমরা কত বড় দল।'
একটা সময় রমিজ রাজা ছিলেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডে চেয়ারম্যান। সেই সময়ের কথা মনে করিয়ে রাজা জানালেন, তিনি এখন দায়িত্বে থাকলে কী কী পরিবর্তন আনতেন দলের।
'প্রথম ম্যাচ হিসেবে মেনে নেওয়া যায় কিন্তু হারেরও একটা ধরণ থাকা উচিত। আমরাও ৫০-৬০ রানে অলআউট হয়েছি, কিন্তু সেটা কালেভদ্রে হয়। এখানে মনে হচ্ছে এটাই নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি থাকলে পাকিস্তানের পুরো সিস্টেমটাই বদলে দিতাম। এই আমূল পরিবর্তন যদি এখনই না করা হয় তবে আমরা আরও পিছিয়ে পড়ব। আপনারা এখন একের পর এক বড় বড় ধাক্কা খাচ্ছেন এবং এই পুরো পরিস্থিতিটা এই স্তরে এসে খুব লজ্জাজনক।'
প্রথম ম্যাচে হারের পর সিরিজেও পাকিস্তান পিছিয়ে যায় ১-০ ব্যাবধানে। ঘরের মাঠে এগিয়ে আছে লাল-সবুজের বাংলাদেশ। সিরিজের পরবর্তী দুটি ম্যাচ ১৩ এবং ১৫ই মার্চ অনুষ্ঠিত হবে মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামেই।