লিটনকে নিয়ে বিসিবির ‘অনেক’ স্বপ্ন

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ
পাকিস্তান সিরিজের অনুশীলনে লিটন দাস, ছবি: তানভির ইসলাম/ক্রিকফ্রেঞ্জি
পাকিস্তান সিরিজের অনুশীলনে লিটন দাস, ছবি: তানভির ইসলাম/ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
রানখরায় ভুগতে থাকা লিটন দাস গত বছর বাংলাদেশের ওয়ানডে দল থেকে বাদ পড়েছেন! একই বছরের জুলাইয়ে ফিরে আবারও বাদ পড়েছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে রান করতে না পারলেও আবারও ফেরানো হয়েছে ডানহাতি উইকেটকিপার ব্যাটারকে। লিটনকে ফেরানো নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ আছে, নিজেই জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু। তবুও অভিজ্ঞতায় ভরসা করে ওয়ানডে দলে ডাকা হয়েছে তাকে। নাজমুল আবেদিন ফাহিম জানালেন, মিডল অর্ডারে লিটনকে নিয়ে তাদের অনেক স্বপ্ন আছে।

টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়ক হলেও ওয়ানডে ক্রিকেটে পারফর্ম করতে পারছেন না লিটন। ২০২৪ সালের পুরোটা সময় অফ ফর্মে থাকায় গত বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ দলে জায়গা হয়নি তার। যদিও জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে ফেরানো হয় তাকে। তবে রান না পাওয়ায় একাদশ থেকে জায়গা হারান এক ম্যাচ পরই। গত বছরে জুলাইয়ের পর থেকে জাতীয় দলের হয়ে ওয়ানডে খেলা হয়নি লিটনের।

আফগানিস্তান এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের সময় চোটে পড়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে সবশেষ ১৪ ওয়ানডেতে হাফ সেঞ্চুরি নেই ডানহাতি ব্যাটারের। সবশেষ পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেলেছেন ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে। সবশেষ ৮ ইনিংসে দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি একবারও। ডাক মেরেছেন চারটি ইনিংসে। বিসিএলে যদিও একটি হাফ সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন। এমন পারফরম্যান্সের পরও তাকে ফেরানোয় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে।

পারফর্ম করতে না পারলেও মিডল অর্ডারের ভাবনায় তাকে ফেরানো হয়েছে। গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষে মুশফিকুর রহিম অবসর নেওয়ায় মিডল অর্ডারে একটা জায়গায় ফাঁকা হয়েছে। মেহেদী হাসান মিরাজ কয়েকটি ম্যাচে ব্যাটিং করলেও সুবিধা করতে পারেননি। অভিজ্ঞতায় এগিয়ে থাকা লিটনের ‍উপর ভরসা করছে টিম ম্যানেজমেন্ট। ফাহিম মনে করেন, লিটন যদি মিডল অর্ডারে থিতু হতে পারেন তাহলে বাংলাদেশের ব্যাটিং অনেক শক্তিশালী হবে।

বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান বলেন, ‘ওর (লিটন) অভিজ্ঞতাকে আমরা খুব গুরুত্ব দিই। আমরা আশা করি ও খুব ভালো খেলবে। ওকে নিয়ে আমাদের যথেষ্ট স্বপ্ন আছে। মিডল অর্ডারে যদি সে থিতু হতে পারে সেক্ষেত্রে আমাদের ব্যাটিংটা অনেক শক্তিশালী হতে পারে। কারণ ওর মতো একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় মাঝে দরকার। সেই দিক থেকে আমার ধারণা এই নির্বাচনটা হয়েছে। দেখা যাক ও কেমন করে।’

সরাসরি বিশ্বকাপ খেলতে পাকিস্তান সিরিজটা বাংলাদেশের জন্য খুবই ‍গুরুত্বপূর্ণ। উইকেট থেকে বাড়তি সুবিধা নিতেই তিনটি ম্যাচই মিরপুরে আয়োজন করছে বিসিবি। সবশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজও থেকেও সুবিধা নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ওয়ানডেতে ২০৭ রান করলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেটা তাড়া করতে পারেনি। দ্বিতীয় ম্যাচে হয়েছে ২১৩ রান। যদিও সিরিজের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশে ২৯৬ রান তোলে। সফরকারীরা অবশ্য ১১৭ রানে অল আউট হয়েছে।

পাকিস্তান সিরিজে এমন বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে না বলে মনে করেন ফাহিম। ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যানের মতে, বাংলাদেশ একটু এগিয়ে থাকলেও মিরপুরের উইকেটে রান তোলা কঠিন হবে না। তিনি বলেন, ‘তিনটি ম্যাচই মিরপুরে হবে সুস্পষ্ট কারণে। আমরা সাম্প্রতিক সময়ে দেখেছি মিরপুরে আগে যে ঐতিহ্যগতভাবে নিচু এবং মন্থর উইকেট হতো তেমন উইকেট কিন্তু এখন হয় না। এখন যে ধরনের উইকেটে আমরা সাম্প্রতিক সময়ে খেলে আসছি সেরকম উইকেটই থাকবে।’

‘আশা করি রান করাটা খুব কঠিন হবে না। প্রতিযোগিতামূলক হবে কিন্তু রান করাটা কঠিন হবে না। কিন্তু কিছুটা সুবিধা আমাদের থাকবেই। যেহেতু আমরা এই উইকেটে খেলে অভ্যস্ত, পাকিস্তান এখানে অভ্যস্ত না। কিছুটা মার্জিনাল আমরা হয়ত একটু গিয়ে থাকব। কিন্তু আগে যে ধরনের সুবিধা পেতাম সেটা হয়ত সেভাবে থাকবে না।’

আরো পড়ুন: