আগ্রহ থাকলেও নির্বাচক হওয়ার জন্য এখনো আবেদন করেননি নান্নু

বাংলাদেশ ক্রিকেট
মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, ক্রিকফ্রেঞ্জি
মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
নির্বাচক প্যানেলের সদস্য থেকে পরবর্তীতে প্রধান নির্বাচকের দায়িত্বও নিয়েছিলেন মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। প্রায় ৮ বছর কাজ করছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাচক হিসেবে। আবারও পুরনো দায়িত্বে ফিরতে আগ্রহী। যদিও এখনো আবেদন করেননি নান্নু। বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক জানিয়েছেন, বিসিবির চাহিদা ও কাজের পরিধি সম্পর্কে জানতে শনিবার (৭ মার্চ) মিরপুরে যাবেন।

২০২৪ সালে নান্নুর জায়গায় প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব নিয়েছিলেন গাজী আশরাফ হোসেন লিপু। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে বিসিবির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ। বিসিবির পক্ষ থেকে আরও কয়েক মাস দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ককে। তবে প্রধান নির্বাচকের পদে আর থাকতে চান না তিনি। নতুন প্রধান নির্বাচক হিসেবে হাবিবুল বাশার সুমনকে প্রস্তাব দেয় বিসিবি। শুরুতে রাজী হলেও পরবর্তীতে দোটানায় পড়েন তিনি।

এমন অবস্থায় আরও একমাস কাজ চালিয়ে যেতে রাজি হয়েছেন লিপু। বাশার সংশয়ে থাকায় প্রধান নির্বাচকের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বিসিবি। ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা আছেন এমন ক্রিকেটারদের আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে তারা। লিষ্ট ‘এ’ ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট মিলিয়ে অন্তত ১০০ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেই আবেদন করতে পারবেন তারা। সেই যোগ্যতায় নিশ্চিতভাবেই টিকে যান নান্নু। তবে প্রধান নির্বাচক হওয়ার ব্যাপারে বোর্ডের কারও সঙ্গে এখনো আলোচনা করেননি তিনি।

ক্রিকফ্রেঞ্জির সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, পুরনো দায়িত্বে ফিরতে আবেদন করেছেন এমন খবর সঠিক নয়। নান্নু বলেন, ‘আমি এখনো আবেদন করিনি। বিসিবির চাহিদা কী সেটা জানার জন্যই শনিবার (৭ মার্চ) আমি যাব। জানাশোনার পর আমার চিন্তাভাবনা আছে। আবেদন করেছি এটা কিন্তু সঠিক নয়। আমি নির্বাচক হওয়ার ব্যাপারে বোর্ডের কারও সাথে কোনো আলোচনা করিনি। সুতরাং এটা নিয়ে কথা বলা ঠিক হবে না।’

ফারুক আহমেদের অধীনে নির্বাচক প্যানেলে ছিলেন নান্নু। পরবর্তীতে ফারুক পদত্যাগ করলে নতুন প্রধান নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। কাজ করেছেন ২০২৪ সাল পর্যন্ত। অভিজ্ঞতায় অন্য সবার চেয়ে নিশ্চিতভাবেই এগিয়ে থাকবেন নান্নু। যদিও প্রধান নির্বাচকের কাজ কী হিসেবে সেটার একটা ধারণা দিয়েছে বিসিবি। ঘরোয়া ও জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স, ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচ দেখা, তথ্য সংরক্ষণসহ প্রধান কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে তাকে।

এমন কাজ অবশ্য আগেই করে এসেছেন নান্নু। তবে প্রধান নির্বাচকের কাছে বিসিবির চাহিদা কী সেটা সম্পর্কে পুরো ধারণা পেতে ৭ মার্চ মিরপুরে যাবেন তিনি। বাংলাদেশের সাবেক প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘আমি দেখি। এখনো ওরকম চিন্তা করি নাই (নির্বাচক হওয়া নিয়ে)। চিন্তা-ভাবনা করে যদি চাহিদা অনুযায়ী হয় কীভাবে কাজ করার নিয়মটা কী হবে, ওইটা জেনে শুনে তখন চিন্তা করা উচিত এটা নিয়ে।’

গত দুই বছর প্রধান নির্বাচক হিসেবে কাজ করেছেন লিপু। বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়কের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন হান্নান সরকার, আব্দুর রাজ্জাকরাও। পরবর্তীতে তারা যদিও সরে দাঁড়ান। কাজের সময়টায় মিডিয়ার সঙ্গে খুব কম সময়ই সংবাদ সম্মেলন করতে দেখা গেছে লিপু। বড় কোনো টুর্নামেন্টের দল নির্বাচনের সময় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হলেও দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। আবার কখনো কখনো কাউকে দলে নেওয়ার কিংবা বাদ দেওয়ার ব্যাখ্যাও দেননি। নান্নু মনে করেন, তারা আরামে কাজ করে গেছেন।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচকদের কাজ হলো খেলোয়াড় নির্বাচন এবং প্রতিভা খুঁজে বের করা। সেভাবে ওরা কাজ করে যাবে। আমার তো মনে হয় গত দেড়-দুই বছরে নির্বাচকরা গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়নি। ওই ধরনের আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেও পড়েনি। খুব আরামে কাজ করে গেছেন। দেখা যাক, আগামীতে যারা নির্বাচক হবে ওরা কীভাবে কাজ করে।’

নান্নু মনে করেন, অনেক সময় না জেনেই অনেকে নিউজ করে নির্বাচকদের চাপে ফেলানোর চেষ্টা করে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচক প্যানেলের কাজটা হচ্ছে খেলোয়াড় নির্বাচন করা। এটার বাইরে আর কোনো কাজ নেই। কিছু আলোচনা-সমালোচনা করা হয়েছিল যেটা নিয়ে খুব বাজে মন্তব্য করা হয়েছে। মনে হচ্ছিল বিসিবির আর্থিক থেকে শুরু করে নীতি নির্ধারণ সবই নির্বাচক প্যানেল করে। এটা খুবই দুঃখজনক। না জেনে কেউ নিউজ করে দিচ্ছে। এভাবে নির্বাচকদের চাপে ফেলা তো ঠিক না।’

আরো পড়ুন: