বিশেষ করে এই দুই মাঠের ড্রেনেজ সিস্টেম নিয়ে আক্ষেপ করেছেন বিসিবির ফ্যাসিলিটিজ বিভাগের প্রধান শানিয়ান তানিমের কণ্ঠে। বগুড়া ও রাজশাহী দুই মাঠেরই উইকেট ও আউটফিল্ড দুর্দান্ত। ম্যাচ হোক বা ক্যাম্প এই দুই মাঠের সবসময় প্রশংসা করেন ক্রিকেটাররা। তবে বিপত্তি বাধে সামান্য বৃষ্টি এলেই।
বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে শনিবার বিসিএলের ম্যাচ দেখতে গিয়ে ড্রেনেজ সিস্টেম না থাকার জন্য ব্যর্থতার দায় নিজেদের ওপরই নিয়েছেন শানিয়ান। তিনি জানিয়েছেন চাইলেই এই মাঠগুলোর ড্রেনেজ সিস্টেমের অবস্থা আরও উন্নতি করা যাবে। আপাতত কী কী প্রয়োজন তা যাচাই বাছাই করে বোর্ডের কাছে চাহিদা উত্থাপন করতে চান শানিয়ান।
তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, 'এরকম একটা মাঠের যদি ড্রেনেজ সিস্টেম না থাকে তাইলে এটা আমাদের ব্যর্থতা। কোনো ব্যর্থতাকে যদি স্বীকার করে নিতে হয়, আমাদেরই নিতে হবে। এত সুন্দর একটা মাঠে এতদিন ড্রেনেজ সিস্টেম নাই কেন, এটার জবাব আসলে আমার কাছে নেই। আর এটা তো কোনো রকেট সাইন্স না, এটা চাইলেই করা যায়।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'আমি ফ্যাসিলিটিস ইনচার্জ হিসেবে যদি আমার সময় পাই ও ড্রেনেজ সিস্টেম না করে যেতে পারি, যে যেকোনো মাঠে যেকোনো চাহিদা যদি পূরণ না করে যেতে পারি, ব্যর্থতা আমার স্বীকার করতে হবে। এটা আমার কাজ যে আমার প্রত্যেকটা মাঠে কী কী কাজ করা দরকার সেটা বের করা এবং আমি চাইব যে আমি যতদিন আছি, ততদিনে বড় বড় যে জিনিসগুলো, সেগুলো আমি করে যাওয়ার চেষ্টা করব।'
ফ্যাসিলিটিজ বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও বিসিবির বিভিন্ন বিভাগ থেকে সহায়তা ছাড়া এসব কাজ করা সম্ভব নয় বলেও স্বীকার করে নিয়েছেন বিসিবির এই কর্মকর্তা। এই প্রক্রিয়াগুলো সহজ হলে কাজ আরও ভালো হতো বলে মনে করেন শানিয়ান। তবে যতদিন দায়িত্বে আছেন শেষ পর্যন্ত কাজ করে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
শানিয়ান বলেন, 'ক্রিকেট বোর্ডে সব কিছু আমার ওপর নির্ভরশীল নয়। একটা জায়গা পর্যন্ত যেতে পারব, জায়গাগুলো দেখিয়ে দিতে পারব। কিন্তু এরপর আরও অন্যান্য বিভাগ আছে, যারা আমার ওপর নির্ভরশীল। তো আমি আমার কাজটা ইনশাআল্লাহ যতদূর পারি চেষ্টা করব। বাকিটুকু যদি আমাকে সবাই সহায়তা করে, তাহলে এটা করা সম্ভব।'
কর্পোরেট কালচার নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন শানিয়ান। মূলত সিস্টেমের মারপ্যাঁচের কারণে গত ৫-৬ মাসে ১০ শতাংশ কাজও করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন তিনি। কীভাবে লম্বা প্রক্রিয়া পেরিয়ে কোনো প্রকল্প কার্যকর করতে হয় এই বিষয়েও বিস্তারিত কথা বলেছেন তিনি।
শানিয়ান যোগ করেন, 'দিন শেষে আমাকেও জবাবদিহি করতে হয়। এটা বাজেট করতে হয়, বোর্ড থেকে পাশ করাতে হয়, তারপর বিভিন্ন জায়গায় এটা জমা দিতে হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত ওনারা এটা পাশ না করে দিবে, ভেন্ডর না বের করে দেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি তাদের ওপরেই নির্ভরশীল। আমি জানি, একটা কর্পোরেট বিশ্বে এটাই নিয়ম হয়তো। এটা যদি আরেকটু ভালো হতো...! আমি মনে করি, এই চার-পাঁচ মাসে ১০ শতাংশ কাজও করতে পারিনি।'