নিষেধাজ্ঞার কারণে দেড় বছর ক্রিকেটের বাইরে ছিলেন নাসির। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে গত বছরের এপ্রিলে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ লিগ (ডিপিএল) দিয়ে আবার মাঠের ক্রিকেটে ফেরেন তিনি। ৩৪ বছর বয়সী অলরাউন্ডারের সবচেয়ে ভালো সময়টা কেটেছে গত জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) টি-টোয়েন্টিতে। ফাইনালে ম্যাচসেরা হওয়ার পাশাপাশি রংপুর বিভাগের শিরোপা জয়ে বড় অবদান রেখেছিলেন।
এনসিএল টি-টোয়েন্টির পারফরম্যান্সে ১৮ লাখ টাকায় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) দল পান নাসির। ঢাকা ক্যাপিটালসের জার্সিতে যদিও প্রত্যাশিতভাবে পারফর্ম করতে পারেননি। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে ক্যারিয়ারসেরা অপরাজিত ৯০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। সব মিলিয়ে ১৫৮ রান করেছিলেন নাসির। এ ছাড়া বল হাতে নিয়েছেন ৫ উইকেট।
এমন পারফরম্যান্সের পর বিসিএল ওয়ানডে টুর্নামেন্টের জন্য নাসিরকে বিবেচনা করেননি বাংলাদেশের নির্বাচকরা। চার দলের টুর্নামেন্টে কেন নেই এমন প্রশ্নের জবাবে নাসির বলেন, ‘এটা নিয়ে আসলে বলার কিছু নাই। এটা তো আর আমার হাতে নাই। যদি আমার হাতে থাকতো তাহলে আমি বলতে পারতাম। এটা যাদের হাতে আছে, যারা এই দলটা করেছে বা নির্বাচন করেছে তারা হয়তবা ভালো বলতে পারবে।’
বাংলাদেশের ক্রিকেটে অনেক সময়ই কানাঘুষা শোনা যায় পারফরম্যান্স না করেও সম্পর্কের খাতিরে খেলার সুযোগ পেয়ে থাকেন অনেকে। কিছু অভিযোগ উঠলেও সেটা প্রমাণের সুযোগ নেই। নাসির নিজেও অবশ্য এমন কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছেন। তারকা অলরাউন্ডার মনে করেন, কাউকে ফোন না দেওয়ার কারণে তাকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমার নামটা যে কেন নাই সেটা তো আমিও জানি না। হয়তোবা চেহারা খারাপ হয়ে গেছে বা ফোন-টোন কাউকে দেই নাই সে কারণে হতে পারে।’
বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে ১৯ টেস্টের পাশাপাশি ৬৫ ওয়ানডে এবং ৩১ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন নাসির। একটা সময় তাকে মি. ফিনিশার হিসেবে ডাকতেন সমর্থকরা। তবে ২০১৮ সালের জানুয়ারির পর থেকে বাংলাদেশের জার্সিতে ম্যাচ খেলা হয়নি তার। বর্তমানে জাতীয় দল থেকে যোজন যোজন দূরে আছেন নাসির।
তারকা অলরাউন্ডার জানিয়েছেন, যতদিন খেলেছি বাঘের মতো খেলেছি, কাউকে তেলিয়ে খেলতে চান না তিনি। নাসির বলেন, ‘আক্ষেপ নাই, আমার কাউকে তেলানোর অভ্যাস নাই। যতদিন খেলছি বাঘের মতো খেলেছি। কাউকে তেলিয়ে খেলতে চাই না আর খেলবও না।’