‘শট খেলা ছাড়া বিকল্প ছিল না’, তাই নাসিরকে পেয়ে খুশি ছিলেন মঈন

বিপিএল
গণমাধ্যমে কথা বলছেন মঈন আলী, ক্রিকফ্রেঞ্জি
গণমাধ্যমে কথা বলছেন মঈন আলী, ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
অধিনায়কের ভুল সিদ্ধান্তে ম্যাচের গতিপথ ভিন্নদিকে বদলে যাওয়া ক্রিকেটে নতুন কিছু নয়। বোলিং পরিবর্তন, ফিল্ডিং সেটআপ বা ব্যাটিং অর্ডার- সবকিছুই যেন মুহূর্তের হিসাব। কখনও সিদ্ধান্ত পক্ষে আসে, কখনও আসে না। ঢাকার বিপক্ষে সিলেট টাইটান্সের ম্যাচে এমনই এক সিদ্ধান্ত নিয়ে পরে আক্ষেপে পুড়েছেন ঢাকা ক্যাপিটালস অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন।

সিলেটে বৃহস্পতিবার ম্যাচের ১৯তম ওভার ঘিরেই যত আলোচনা। তখন সিলেটের রান ১৮ ওভারে ৫ উইকেটে ১৩৫। আগের ওভারে আফগান পেসার জিয়াউর রহমান মাত্র দুই রান দিয়ে তুলে নিয়েছিলেন দুই সেট ব্যাটারের উইকেট। ঠিক সেই মুহূর্তে নতুন ব্যাটার হিসেবে উইকেটে আসেন মঈন আলী।

১৯তম ওভারের জন্য মিঠুন বল তুলে দেন অফ স্পিনার নাসির হোসেনের হাতে। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের ভুল অকপটে স্বীকার করেন ঢাকা অধিনায়ক। মিঠুন বলেন, 'এটা আসলে… আমি বলব যে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি। এর আগে নাসির তিন ওভারে মাত্র সাত রান দিয়েছিল, ওর ওপর আমার আস্থা ছিল।'

ওই ওভারে মঈনের ব্যাটে ম্যাচ কার্যত হাতছাড়া হয়ে যায় ঢাকার। তিনটি ছক্কা, দুটি চার আর একটি ডাবল- নাসিরের ওভার থেকে আসে ২৮ রান, যা এবারের বিপিএলের সবচেয়ে খরুচে ওভার। মিঠুন বলেন, 'আমার মনে হয়েছিল বল তখনও গ্রিপ করবে, আর নাসিরের সামর্থ্য আছে মঈন ভাইকে আটকানোর। কিন্তু সিদ্ধান্তটা যে ঠিক হয়নি, সেটা এখন পরিষ্কার।'

টি-টোয়েন্টির শেষের দিকে অফ স্পিনার দিয়ে বোলিং করানো সাধারণত দেখা যায় না। ঢাকার হাতে তখনও তাসকিন আহমেদ ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের একটি করে ওভার বাকি ছিল। সে প্রসঙ্গে মিঠুন বলেন, 'আমার হাতে বিকল্প ছিল। অন্য কাউকে ব্যবহার করতে পারতাম। ওই সময়ে নাসিরকে আনা আমার বড় ভুল।'

মঈন নিজেও ম্যাচ শেষে জানান, নাসিরকে বোলিংয়ে দেখে তিনি খুব একটা বিস্মিত হননি। সিলেটের এই অলরাউন্ডার বলেন, 'নাহ, অবাক হইনি। সে আগে তিন ওভার করেছে, তাই মনে হচ্ছিল আমাকে আসতেই ওকে দিয়ে বাকি ওভারটা করাতে পারে। স্পিনার পাওয়াটা ওই সময়ে আমার জন্য ভালো ছিল, কারণ তখন শট খেলা ছাড়া আর উপায় ছিল না। আমি চেষ্টা করেছি, দিনটি আমার ছিল।'

নাসিরের ওই ওভারের পর শেষ ওভারে জিয়াউরের কাছ থেকেও আসে ১৭ রান। যে দল ১৫০ ছোঁয়া নিয়ে চিন্তায় ছিল, শেষ দুই ওভারে ৪৫ রান তুলে তারা পৌঁছে যায় ১৮০-তে। সেই পুঁজি নিয়ে সিলেট শেষ পর্যন্ত ৬০ রানের বড় জয় পায়। ৮ বলে ২৮ রানের ঝোড়ো ইনিংসের সঙ্গে বল হাতে দুই উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন মঈন।

আরো পড়ুন: