নিরাপত্তা শঙ্কায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সমস্যা সমাধানে বিসিবির সঙ্গে দুই দফায় বৈঠক করেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। তবে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি বিসিবি। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সভা ডাকে আইসিসি। যেখানে আইসিসির বোর্ডসভায় বেশির দেশই বাংলাদেশের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে।
বাংলাদেশ যদি ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যায় সেক্ষেত্রে বিকল্প দল নেবে আইসিসি। ভার্চুয়ালি বোর্ড সভায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দিয়ে আইসিসি জানিয়েছে, টুর্নামেন্টের সূচি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি বিশ্বাসযোগ্য কোন হুমকিও খুঁজে পায়নি আইসিসি। এমন অবস্থায় বাংলাদেশ খেলতে না গেলে স্কটল্যান্ড সুযোগ পেতে পারে।
আইসিসির এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে আকাশ চোপড়া বলেন, ‘বাংলাদেশ, আপনাদের কাছে ২৪ ঘণ্টা সময় আছে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য যে আপনারা বিশ্বকাপে খেলতে চান নাকি খেলার মন নেই। কারণ আইসিসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করে নিয়েছে যে সেখানে কোনো প্রকারের ঝুঁকি নেই। এখন আপনারা যদি না আসেন তাহলে আপনারদের পরিবর্তে অন্য কাউকে বিকল্প হিসেবে নেয়া হবে।’
‘আপনাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেয়া হতে পারে। স্কটল্যান্ড সেই দল যাদেরকে হারিয়ে ইতালি টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দিয়েছিল। এখন বাংলাদেশ যদি খেলতে না চায় তাহলে স্কটল্যান্ডের কপাল খুলে যেতে পারে। স্কটল্যান্ডের সাথে আগেও এমনটা হয়েছে। ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ের খেলোয়াড়দের ভিসা সংক্রান্ত ঝামেলার কারণে স্কটল্যান্ড বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েছিল। এবারও সেরকম হতে পারে।’
বিশ্বকাপ খেলতে হলে ভারতেই যেতে হবে বাংলাদেশকে। আইসিসি এমন সিদ্ধান্ত জানানোর পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে সময় চেয়েছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে আইসিসিকে জানাবেন তারা। বিশ্বকাপ ইস্যুতে ২২ জানুয়ারি ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনা করবেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। যেখানে আসতে পারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
আকাশ চোপড়া মনে করেন, আর্থিক বিষয়ের কথা মাথায় রেখে নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টা সময়ের আগেই বিশ্বকাপ খেলতে রাজি হবে বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই এর পেছনে বড় ধরনের আর্থিক ব্যাপার জড়িত। আইসিসির বড় একটা অংশ বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর কাছে যায়।’
‘কিন্তু যদি একবার কোনো দেশ টুর্নামেন্টে অংশ নেয়ার বিষয়ে মৌখিক বা লিখিত সম্মতি দেয়ার পরও শেষ মুহূর্তে না করে তাহলে আইসিসি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। এর দায়ভার বাংলাদেশের উপর পড়বে এবং ভবিষ্যতে তাদের সমস্যা হতে পারে। তাই আমার মনে হয় বাংলাদেশ হয়ত ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই রাজি হয়ে যাবে এবং তারা বলবে আমরা বিশ্বকাপ খেলতে আসছি।’