কদিন আগে তামিম ইকবালকে ‘ভারতীয় দালাল’ বলেছিলেন নাজমুল। সেই মন্তব্যের পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে হয় বিসিবির পরিচালককে। নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন ক্রিকেটারদের বেতন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে। বিশ্বকাপ খেলতে না গেলে ক্রিকেটারদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে কিনা, এমনটা জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা।
এমন প্রশ্নের জবাবে নাজমুল বলেন, ‘ওরা গিয়ে যদি কিছুই না করতে পারে, তাহলে ওদের পেছনে আমরা যে এত কোটি কোটি টাকা খরচ করছি, আমরা কি ওদের কাছ থেকে ওই টাকা ফেরত চাচ্ছি নাকি? চাচ্ছি? এই প্রশ্নের উত্তর দেন আমাকে।’ পদত্যাগ চাওয়া হলেও সেটা করেননি বিসিবির পরিচালক। যার ফলে বিপিএলের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামেননি ক্রিকেটাররা। দ্বিতীয় ম্যাচ নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।
এমন অবস্থায় বনানীর হোটেল শেরাটেন প্রেস কনফারেন্স করেছেন ক্রিকেটাররা। যেখানে মোহাম্মদ মিঠুন নিশ্চিত করেছেন, বিসিবি যদি নাজমুলকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে দেয়ার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয় তাহলেই তারা কেবল খেলায় ফিরবেন। সেই নিশ্চয়তা না পাওয়ায় এখনো পুরনো অবস্থানেই অনড় আছে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব। প্রেস কনফারেন্সে কথা বলার সময় সোহান জানান, ক্রিকেটের স্বার্থে তাকে যদি সরে যেতে বলো হতো তাহলে তিনি সেটাই করতেন।
এ প্রসঙ্গে সোহান বলেন, ‘অবশ্যই, খেলা যদি না হয় ফ্র্যাঞ্চাইজিরা কেন টাকা দেবে। এখানে টাকার জন্য সবকিছু না। সবার একটা জায়গা (সম্মানের) আছে। মাঠে চাই ক্রিকেট খেলা, টাকা আমাদের পরের বিষয় আসতেছে। ছোটবেলায় যখন ক্রিকেট শুরু করছি প্যাশন দিয়েই আমরা এখানে এসেছি। ক্রিকেটের উপরে কোন কিছু নাই। আমি যেটা বললাম আপনার যদি মনে হয় আমারে বলেন আমি এখন থেকে যদি ক্রিকেট না খেলি ঠিক মতো ক্রিকেট খেলা হবে মাঠে। আমি তাহলে সেটা করতে রাজি। আমার মনে হয় ক্রিকেটের উর্ধ্বে কিছু না ভাই।’
গতকাল রাতে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিসিবির পরিচালকরা। যেখানে বিপিএল না খেললে বাকি টাকা দেয়া হবে না এমন হুমকিও দেয়া হয়েছে পরিচালকদের পক্ষ থেকে। তবুও নিজেদের অবস্থান থেকে সরেননি ক্রিকেটাররা। সোহানও মনে করেন, ক্রিকেট খেলা না হলে ফ্র্যাঞ্চাইজিরা কেন টাকা দেবে। সেই সঙ্গে এও বলেছেন, ক্রিকেটে টাকাই সব কিছু না এবং ক্রিকেটের চেয়ে বাইরের জিনিস নিয়ে বেশি কথা হচ্ছে।
সোহান বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় ক্রিকেট মাঠে থাকার (রাখার) জন্য ব্যক্তিগতভাবে যদি বলতে হয় আমি খেলা ছেড়ে দিলে সবাই খুশি হবে তাহলে আমি হয়ত সেই কাজটা করতাম...। আমি মাঠে খেলতে চাই। কারণ ক্রিকেট ছাড়া আমাদের কোন সম্মান নাই। মাঠের ক্রিকেট বাদ দিয়ে অন্য কিছু নিয়ে কথা হয়। সাম্প্রতিক অতীতে ক্রিকেট বাদে আর সবকিছু নিয়ে মাতামাতি হচ্ছে। মাঠের ক্রিকেট খেলাটাই ঠিক মতো নাই। ক্রিকেট খেলার জন্য যেটা বললাম আমার নিজের যদি কিছু করতে হয় আমি সেটা করতেও রাজি।’