অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করতে চায় বাংলাদেশ
ডারউইনে ঐতিহাসিক এক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। তাও আবার সাড়ে ৩ দিনে। এমন অবিশ্বাস্য ম্যাচে ১১টি সেশনেই অজিদের ডমিনেট করেছে বাংলাদেশ। এশিয়ার কোনো দলের অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এমন পারফরম্যান্স একেবারেই বিরল।
ডারউইনে ঐতিহাসিক এক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। তাও আবার সাড়ে ৩ দিনে। এমন অবিশ্বাস্য ম্যাচে ১১টি সেশনেই অজিদের ডমিনেট করেছে বাংলাদেশ। এশিয়ার কোনো দলের অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এমন পারফরম্যান্স একেবারেই বিরল।
মাউন্ট মঙ্গানুই থেকে রাওয়ালপিন্ডি, গত এক দশকে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ঝুলিতে জমেছে বেশ কিছু স্মরণীয় জয়। তবে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর কীর্তি ছাপিয়ে গেছে সেসব অর্জনকেও। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়ে বাংলাদেশ শুধু নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসেই নতুন অধ্যায় লেখেনি, এশিয়ার ক্রিকেটেও গড়েছে অনন্য এক নজির।
২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে স্বপ্নের মতো সময় কাটাচ্ছে বাংলাদেশ। ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম তিন দিনেই নাজমুল হোসেন শান্তর দল নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই দাপট দেখিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছে বাংলাদেশ। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে কোনোভাবেই আত্মতুষ্টিতে ভুগতে নিষেধ করেছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ও ম্যাচ বিশ্লেষক বাসিত আলী।
বাংলাদেশের বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে মাঠে নামার আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মিচেল স্টার্ক সবশেষ খেলেছেন ২০২৫-২৬ অ্যাশেজে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে সর্বোচ্চ ৩১ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়াও কোনো টেস্ট ম্যাচ খেলেনি। মাঝে স্টার্ক আইপিএলে মাঠে নেমেছিলেন।
ডারউইন টেস্টের ভাগ্য অনেকটাই হেলে আছে বাংলাদেশের দিকে। ম্যাচের দুইদিন বাকি থাকলেও এই টেস্টে জিততে হলে অস্ট্রেলিয়াকে অভাবনীয় কিছুই করতে হবে। তবে এখনই জয়ের পরিকল্পনা থেকে সরে আসছে না অস্ট্রেলিয়া। অজি পেসার জশ হ্যাজেলউড জানিয়েছেন সেশন বাই সেশন ধরে এগোতে চান তারা।
২৩ বছর পর টেস্ট খেলতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় স্বপ্নের মতো সময় কাটাচ্ছে বাংলাদেশ দল। ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টের তিন দিন অজিদের ওপর রীতিমতো দাপট দেখিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এভাবে খেলতে থাকলে পরবর্তী অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য বেশি সময় অপেক্ষা করতে হবে না বলে মনে করেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
প্রায় এক দশক পর টেস্ট ক্রিকেটে এক ইনিংসে ১৩০ ওভারেরও বেশি বল করতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। সেটিও আবার ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়াতে খেলতে আসা বাংলাদেশের বিপক্ষে। প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজেলউডকে নিয়ে গড়া বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলিং আক্রমণও যেন অনেকটা অসহায় ছিল বাংলাদেশের ব্যাটারদের সামনে। বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজেদের চেনা ছন্দে বোলিং করতে না পারার পেছনে বাংলাদেশের ব্যাটারদের বিপক্ষে খেলার অনভ্যস্ততাকে দায়ী মনে করেন এই ম্যাচেই টেস্ট ক্রিকেটে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক ছোঁয়া হ্যাজেলউড।
ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে অনেকটাই চালকের আসনে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়াকে গুটিয়ে দিতে ৬টি উইকেট নিতে হবে বাংলাদেশকে। অন্যদিকে অজিরা এখনও পিছিয়ে আছে ৬৭ রানে। তবে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী বাংলাদেশই এগিয়ে আছে নিশ্চিতভাবে। এমন অবস্থায় অস্ট্রেলিয়াকে দ্রুত অল আউট করে দেয়ার লক্ষ্য বাংলাদেশের সামনে।
অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশের চলমান ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় দিন উইকেটের মাঝে দৌড়ানো নিয়ে মিচেল স্টার্কের সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয় মেহেদী হাসান মিরাজের। এবার তা নিয়ে মুখ খুললেন মিরাজ। ঘটনায় দুজনের অবস্থান পরিষ্কার করেন এই অলরাউন্ডার। তার কাছে স্টার্ক নিজের ভুল স্বীকার করেছেন বলেও জানান মিরাজ।
হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে ট্রাভিস হেড যখন বোল্ড হয়ে ফিরলেন তখন ফক্স স্পোর্টসের ধারাভাষ্যে ছিলেন ব্রেন্ডন জুলিয়ান, কেরি ও’কিফ। কী হলে কী হতে পারে সেটা নিয়েই আলাপ করছিলেন তারা। তাদের দুজনের ভাবনাটা এমন ছিল মার্নাস ল্যাবুশেন ও স্টিভ স্মিথকে ফেরাতে পারলে বাংলাদেশ ম্যাচটা জিতে যাবে। ল্যাবুশেনকে ফেরানো গেলেও সফরকারীদের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ালেন স্মিথ। ডারউইন টেস্টের বাংলাদেশের জয়ের পথটা সুগম করতে স্মিথের উইকেটটা প্রয়োজন ছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দলের।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের চলমান টেস্ট পারফরম্যান্সে হতবাক ইমরুল কায়েস। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ এই ম্যাচে জিতবে বলেই প্রত্যাশা করছেন বাংলাদেশের সাবেক ওপেনার। প্রস্তুতি ম্যাচের পর ইমরুলকে জয়ের ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
২০০৩ সালে সবশেষ অস্ট্রেলিয়া সফরে টেস্ট খেলেছিলো বাংলাদেশ। সেবার অজিদের বিখ্যাত পেস ত্রয়ী গ্লেন ম্যাকগ্রা-ব্রেট লি-জেসন গিলস্পি বাংলাদেশকে গুড়িয়ে দিয়েছিলেন বল হাতে। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের যেকোনো দেশের জন্যই এই পেস ত্রয়ী তখন ছিল আতংকের নাম। ২৩ বছর পর যখন আবার বাংলাদেশ দল অস্ট্রেলিয়া সফর করছে তখনো অজিদের আছে প্যাট কামিন্স,মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজেলউডদের নিয়ে গড়া বিশ্বের অন্যতম সেরা আক্রমণ। কিন্তু এবার অজিদের বিশ্বসেরা আক্রমণ নয়, তাদের ছাপিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দাপট দেখাচ্ছেন বাংলাদেশের হাসান মাহমুদ, ইবাদত হোসেন, তাসকিন আহমেদরা।