‘অস্ট্রেলিয়াকে বাংলাদেশ ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে’

অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ সিরিজ
সেঞ্চুরিয়ান ক্যামেরন গ্রিনকে ফিরিয়ে হাসান মাহমুদের উদযাপন
সেঞ্চুরিয়ান ক্যামেরন গ্রিনকে ফিরিয়ে হাসান মাহমুদের উদযাপন
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
পারফরম্যান্সের বিচারে ডারউইন টেস্টে পারফেক্ট একটা ম্যাচ খেলে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ব্যাটে কিংবা বলে কোথাও সফরকারীদের সামনে দাঁড়াতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। সাড়ে তিন দিনের কোনো একটা সেশনেও দাপট দেখাতে পারেননি প্যাট কামিন্স-স্টিভ স্মিথরা। পুরোটা সময় জুড়ে অজিরা বাংলাদেশের কাছে অসহায় ছিল। বাসিত আলীর চোখে বাংলাদেশের টাইগার অস্ট্রেলিয়ার ক্যাঙ্গারুকে ধসিয়ে দিয়েছে। আকাশ চোপড়া মনে করেন, দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে অস্ট্রেলিয়াকে বাংলাদেশ ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে।

২০১৭ সালে দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। তবে ২০০৩ সালের পর সাদা পোশাকের ম্যাচের জন্য অস্ট্রেলিয়া সফরে যাওয়া হয়নি তাদের। দেড় যুগের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে কখনো অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলা হয়নি সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মতো ক্রিকেটারদের। ব্যবসায়ী দিক বিবেচনা করে বেশিরভাগ সময়ই বাংলাদেশকে দূরে ঠেলে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ২৩ বছর পর যখন সুযোগ এলো সেটা কাজে লাগাতে ভুল করল না বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সম্মানজনক লড়াইয়ের কথা জানিয়েছিলেন। নাজমুল হোসেন শান্তর চাওয়া ছিল পুরো পাঁচটা দিন প্রক্রিয়া মেনে ভালো ক্রিকেট খেলা। গত সাড়ে তিন দিনে নিজেদের চাওয়ার সবটা করতে পেরেছে বাংলাদেশ। ব্যাটে-বলে আধিপত্য দেখিয়ে ডারউইন টেস্ট জিতে নিয়েছে ৯ উইকেটে। বাংলাদেশের এমন জয়ের পর অস্ট্রেলিয়াকে খোঁচা দিতে ভুল করেননি আকাশ চোপড়া। ভারতের সাবেক ক্রিকেট মনে করেন, অস্ট্রেলিয়াকে বাংলাদেশ ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আকাশ চোপড়া বলেন, ‘কখনো কখনো অধিকার ছিনিয়ে নিতে হয়, কারণ চাইলে তো পাওয়া যায় না। এটাই বাংলাদেশের ক্রিকেটের কাহিনী। তারা অস্ট্রেলিয়াকে (তাদের মাটিতে) হারিয়ে একটা পরিস্কার বার্তা দিয়েছে যে ‘আমরাও এই মঞ্চের যোগ্য।’ তোমরা আমাদের ২৩ বছরে একবারও আমন্ত্রণ জানাওনি। কিন্তু যখন আমাদের ডাকলে তখন তোমাদেরকে তোমাদেরই ঘরের মাঠে একদম ধুলোয় মিশিয়ে দিলাম। এটাই বাস্তবতা।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘২০০৩ থেকে ২০২৬ সাল— মাঝে অনেক টেস্ট ম্যাচ হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া এমন একটা দেশ যারা টেস্ট ক্রিকেটকে অনেক বেশি দাম দেয়, ভালোবাসে এবং দাবি করে তারাই টেস্ট ক্রিকেটকে বাঁচিয়ে রেখেছে। কিন্তু তোমরা তো বাংলাদেশকে আমন্ত্রণই জানাও না। শুধু বাংলাদেশ নয়, আরও অনেক দেশ আছে যাদের তারা আমন্ত্রণ জানাতে চায় না। এজন্য বাংলাদেশের এই জয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ে ব্যাপকভাবে উন্নতি হয়েছে। দলের কান্ডারি হয়ে উঠেছেন হাসান মাহমুদ, নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, খালেদ আহমেদ, ইবাদত হোসেনরা। পূর্ণ শক্তির পেস ইউনিট না থাকার পরও অজিদের ধসিয়ে দিয়েছেন হাসান-তাসকিনরা। আকাশ চোপড়া মনে করেন, বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে পেস বোলিংয়ে যে ইনভেস্ট করেছে সেটারই ফল পাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হচ্ছে তারা এতদিন পেস বোলিংয়ে যে ইনভেস্ট করেছে সেটারই ফল পাচ্ছে। বাংলাদেশ দলে এখন আর শুধু দুই-একজন পেসার নেই। পুরো একটা পেস বোলিং অ্যাটাক তৈরি করেছে। হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ, ইবাদত হোসেন, নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম—তাদের কাছে বিকল্পের অভাব নেই। এখানে মনোযোগ দেওয়া ও নিজেদের চিন্তা-ভাবনা পরিবর্তনের ফলে এমন সাফল্য এসেছে।’

একটা সময় বাংলাদেশ দু-একজন খেলোয়াড়ের উপর নির্ভরশীল ছিল। আকাশ চোপড়া মনে করেন, বাংলাদেশ এখন ওইখান থেকে বের হয়ে আসছে। ভারতের সাবেক ক্রিকেটার বলেন, ‘দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের ক্রিকেট অবশেষে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে নির্ভরশীলতা কিংবা নির্দিষ্ট কোনো খেলোয়াড়ের ছায়া থেকে বের হয়ে আসছে। বাংলাদেশ আগে অনেক বেশি ব্যক্তি কেন্দ্রিক ছিল। এখনো দলে মুশফিকুর রহিম আছে কিন্তু তারা এখন শুধু দুই-একজনের উপর নির্ভরশীল নয়। বহু বছর আগেই যা করা উচিত ছিল, বাংলাদেশ এখন এসে সেটা করছে। এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন।’

অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান টেস্ট দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটারের বয়স ত্রিশের উপরে। ইংল্যান্ডে আগামী অ্যাশেজ খেলার পর সাদা পোশাক ক্রিকেট ছাড়তে পারেন মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউড, কামিন্স। ব্যাটার স্মিথ কতদিন খেলবেন সেটারও নিশ্চয়তা নেই। তারা সবাই একসাথে চলে গেলে বড় একটা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে তাদের। ওই সময়টা অনেক কঠিন হবে বলেন মনে করেন আকাশ চোপড়া।

ভারতের সাবেক ক্রিকেটা্র জানান, বাংলাদেশ সেটারই ট্রেলার দেখিয়েছে। আকাশ চোপড়া বলেন, ‘আমার মনে হয় টেস্ট ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়া একটা কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাবে। আর সেই কঠিন সময়ের শুরুটা করে দিয়েছে বাংলাদেশ। এটা তো কেবল ট্রেলার ছিল। বড় পরিসরে অস্ট্রেলিয়ার জন্য আরও বেদনাদায়ক হতে পারে।’

আরো পড়ুন: