টুইটার ঘেঁটে দেখলে বাংলাদেশ কিংবা দেশের পেসার, ক্রিকেটার, ব্যাটারের ভালো পারফরম্যান্সে হার্শার উচ্ছ্বাস চোখে পড়বে। একটা চকচকে শার্ট পড়ে ক্রিকবাজের সঙ্গে কাজ করা হার্শা দু,মিনিট বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট নিয়ে কথা বলেছেন। হাসতে হাসতেই বললেন,‘আমি টুপি পড়িনি।’ তবে বাংলাদেশকে টুপি খোলা অভিনন্দন জানাতে ভুললেন না ভারতের জনপ্রিয় এই ধারাভাষ্যকার। বললেন, ‘আমি টুপি পড়িনি কিন্তু বাংলাদেশকে টুপি খোলা অভিনন্দন।’
গত ৩০ বছরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জিততে পারেনি পাকিস্তান। কয়েক দশক খেলেও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে জয় নেই শ্রীলঙ্কার। চলতি শতাব্দীতে এশিয়ার একমাত্র দেশ হিসেবে এতদিনে অজিদের পাড়ায় টেস্ট জেতার ইতিহাস ছিল ভারতের। সেখানে এবার ভাগ বসিয়েছে বাংলাদেশ। কাজটা যে কতটা কঠিন সেটাই মনে করিয়ে দিলেন হার্শা। পাশাপাশি সিরিজ শুরুর আগে মিডিয়া যে বাংলাদেশকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি সেটাও জানালেন।
ক্রিকবাজের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়াকে তাদের বিপক্ষে টেস্ট জেতা খুবই কঠিন। এটা করার জন্য ভারতের অনেক সময় লেগেছে। পাকিস্তান কিছুটা সময় নিযে করতে পেরেছে। আমার মনে হয় শ্রীলঙ্কা এখনো সেটা পারেনি। বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াবে সেভাবে খেলারই সুযোগ পায় না। সবাই তাদেরকে উপহাস করেছে। আমার মনে হয় না খেলার আগে মিডিয়া বাংলাদেশকে নিয়ে খুব বেশি কথা বলেছে। কিন্তু তৃতীয় ম্যাচেই তারা জয় পেয়েছে।’
একটা সময় ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও হেরে যেতো বাংলাদেশ। ডারউইনে এমন কিছু না হওয়ায় খুশি তিনি। হার্শা বলেন, ‘বাংলাদেশ যেভাবে ম্যাচুরিটির সঙ্গে খেলেছে এটা আমার ভালো লেগেছে। অতীতে আমরা দেখেছি তারা অনেক সময়ই ভালো অবস্থায় থাকতো কিন্তু আচমকা সেখান থেকে খেই হারাতো। মিরাজ ও তাইজুল খেলোয়াড় থাকায় দুজন স্পিনার ও তিন পেসার খেলানোর বাড়তি সুবিধা পেয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার সময় সেটা পরীলক্ষিত হয়েছে।’
ম্যাচের আগেরদিন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যকার টেস্ট কতদিন গড়াবে? তিনদিন নাকি পাঁচদিন। দুইটার একটিও সঠিক হয়নি। ডারউইন টেস্টে খেলা হয়েছে সাড়ে তিন দিন। যেখানে ১১ সেশনের একটিতেও জিততে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। ৯ উইকেটে জেতা ম্যাচে বাংলাদেশ কতটা ভালো ক্রিকেট খেলেছে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
পুরোটা সময় দাপট দেখালেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়কে অঘটনই বলছেন হার্শা। সেটার ব্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি এও জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিরিজ জিততে পারলে সাউথ আফ্রিকায় শ্রীলঙ্কার টেস্ট সিরিজ জেতার মতো ঘটনা হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, ‘এটা অন্যতম সেরা একটি অঘটন। আমার মনে হয় না এটাকে অঘটন বলতে লজ্জার কিছু আছে। আমি বাংলাদেশকে অসম্মান করছি না। কারণ ম্যাচের আগে তারা নিজেরাও আলোচনা করছিল খেলাটা পঞ্চম দিনে নিয়ে যাওয়ার জন্য। সন্দেহাতীতভাবে এটা অনেক বড় একটা অঘটন। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা দিন। কিন্তু এখন কী তারা এটাকে সুন্দর করতে পারে? বাংলাদেশ যদি সিরিজটা জিততে পারে তাহলে শ্রীলঙ্কা যে সাউথ আফ্রিকায় গিয়ে সিরিজ জিতেছিল সেটার সমানই বলব। ওইটা কুশল পেরেরা জিতিয়েছিল কিন্তু এটা পুরোপুরি দলীয় পারফরম্যান্স।’
অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে আনন্দ, উদযাপনের শেষ নেই। হার্শাও অবশ্য এসব করতে না করছেন না। তবে আহত অস্ট্রেলিয়া যে পরের টেস্ট থাবা দিবে সেটা মনে করিয়ে দিয়ে শান্তদের সতর্ক করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি আসলে বাংলাদেশকে যেভাবে দেখতে চাই...। আমি জানি প্রচুর আনন্দ, উদযাপন হবে। হ্যাঁ, এটা হবেই। কিন্তু এটা মনে রাখতে হবে আরেকটি টেস্ট ম্যাচ বাকি আছে। অস্ট্রেলিয়া এখন অনেকটা আহত, তারা খুব ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে। এই টেস্ট জয়ের পর বাংলাদেশ কী আসলে সেটাই তাদের আসল পরীক্ষা। পুরো ম্যাচ জুড়ে বাংলাদেশ দুর্দান্ত ছিল।’