কাগজে-কলমে কিংবা শক্তি-সামর্থ্যে কোথায় অস্ট্রেলিয়ার ধারেকাছে নেই বাংলাদেশ। আইসিসির বর্তমান টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান শীর্ষে। বিপরীতে বাংলাদেশ রয়েছে নয় নম্বরে। শুধু র্যাঙ্কিং নয় ক্রিকেটীয় সামর্থ্যে অনেকটা পিছিয়ে সফরকারীরা। ট্রাভিস হেড বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার। আক্রমণাত্বক ব্যাটিংয়ে দুনিয়ার যেকোনো দলকে ধসিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন। গত কয়েক বছরে সেটা বারংবার প্রমাণ করেছেন তিনি। টেস্টে মার্নাশ ল্যাবুশেনও সেরাদের একজন।
যদিও গত কিছুদিনে পারফরম্যান্সে কিছুটা ভাটা পড়েছে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলা ল্যাবুশেনের অভিজ্ঞতা তো অমূল্য। স্মিথকে তো বলা হয়ে থাকে বর্তমান প্রজন্মের সেরা টেস্ট ক্রিকেটার। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ইনিংসেই রান পেয়েছেন। ক্যামেরন গ্রিন, বেউ ওয়েবস্টাররা অজিদের ভবিষ্যত। অথচ বাংলাদেশের টেস্ট ব্যাটিং ইউনিটে এক ম্যাচ খেলা তানজিদের সঙ্গে সাদমান ইসলাম, নাজমুল হোসেন শান্তরা। অভিজ্ঞতায় সবচেয়ে এগিয়ে থাকা মুমিনুল হক কিংবা মুশফিকুর রহিমও স্মিথের ধারেকাছে নেই।
বোলিংয়েও পার্থক্যটা স্পষ্ট। অস্ট্রেলিয়ার পেসত্রয়ী প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজেলউড ও মিচেল স্টার্ক টেস্টেই নিয়েছেন এক হাজারের বেশি উইকেট। স্পিনার নাথান লায়নও সেরাদের একজন। বাংলাদেশের বোলিং ইউনিটের হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন মিলে তাদের একজনের সমান উইকেটও নিতে পারেননি। বাসিত মনে করেন, একে একে সব ক্রিকেটারের সঙ্গে তুলনা করলে সবাই অজিদেরই বেছে নেবেন। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়কের মতে, বিশ্বাসের জেরেই এমন সাফল্য মিলেছে বাংলাদেশের।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে বাসিত বলেন, ‘ক্রিকেটের দিক থেকে বাংলাদেশের টাইগার অস্ট্রেলিয়ার ক্যাঙ্গারুকে ধসিয়ে দিয়েছে। আপনি দেখুন কত বড় বড় নাম। প্যাট কামিন্স, হ্যাজেলউড, মিচেল স্টার্ক প্রিমিয়াম বোলার। আমি যদি ট্রাভিস হেডের সঙ্গে মুমিনুল হক কিংবা তানজিদের নাম নিই তাহলে সবাই চোখ বন্ধ করে হেডের নাম নেবে। আবার স্মিথের সঙ্গে যদি শান্তর নাম বলি তাহলেও সবােই স্মিথই বলবে। ব্যাপারটা তো এরকমই।’
‘একইভাবে যদি বোলারদের ক্ষেত্রে স্টার্ক, হ্যাজেলউড, নাথান লায়নদের যদি নাম নিই। আপনি যদি লায়নের সঙ্গে তাইজুলের কথা বলেন তাহলে লায়নই এগিয়ে থাকবে। আপনার নিজের চেয়ে পাঁচগুন বড় দলকে হারানো অনেক বড় অর্জন। এটা শুধু বিশ্বাসের মাধ্যমেই হারানো সম্ভব। আপনার নিজের উপর নিজের বিশ্বাস থাকা জরুরি। বাংলাদেশ সেটা প্রমাণ করেছে।’
ডারউইন টেস্টের আগে দুই দেশের অধিনায়কের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল ম্যাচটা কতদিন পর্যন্ত গড়াবে— তিনদিন নাকি পাঁচদিন? শান্ত চেয়েছিলেন পাঁচদিন ভালো ক্রিকেট খেলতে। কামিন্স উত্তর দিয়েছিলেন, ‘কে জানে’ বলে। বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের হারাতে এটা হয়ত কেউই ভাবেনি। বাসিত জানান, অস্ট্রেলিয়া অতি আত্মবিশ্বাসী ছিল। সেশন বাই সেশন পরিকল্পনা করে জেতার ব্লুপ্রিন্ট পাকিস্তানের জন্য বড় শিক্ষা হিসেবে দেখছেন তিনি।
বাসিত বলেন, ‘কেউ ভাবেনি বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াতে এমন ক্রিকেট খেলবে। অস্ট্রেলিয়া নিজেও বুঝতে পারেনি, ওরা অতি আত্মবিশ্বাসী ছিল। শান্ত, হাসানরা ইন্টারভিউয়ে বলেছে তাদের কী ধরনের পরিকল্পনা ছিল। তারা বলেছে আমরা সেশন বাই সেশন পরিকল্পনা করেছি। পাকিস্তানের জন্য এটা অনেক বড় একটা শিক্ষা। আমি ভারত কিংবা শ্রীলঙ্কার কথা বলব না।’