প্রথম দিন ব্যাটিংয়ে নেমে সাউথ আফ্রিকা যখন দুই উইকেটে ১২ রান তুলেছিল, তখন হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি হয়েছিল স্কট বোল্যান্ডের সামনে। বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতায় সেদিন খেলা হয় মাত্র ১২.২ ওভার। পরদিনও আবহাওয়ার বাধায় পুরো সময় খেলা হয়নি। এর মধ্যে আরও তিন উইকেট হারালেও এক প্রান্ত আগলে রাখেন বাভুমা। দ্বিতীয় দিন শেষে তার রান ছিল ৪১।
তৃতীয় দিনে অবশ্য ব্যাটিংয়ের পুরো সুযোগ পায় সাউথ আফ্রিকা। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন বাভুমা। ৫৫২ মিনিট ক্রিজে থেকে খেলেন ১৭৯ রানের ইনিংস। একসময় ছয় উইকেটে ১১০ রান নিয়ে ধুঁকতে থাকা সাউথ আফ্রিকা শেষ পর্যন্ত ইনিংস ঘোষণা করে ৯ উইকেটে ৪২৫ রান তুলে। দিনের খেলা শেষে বাভুমা বলেন, 'এই ধরনের পরিস্থিতিতে অনেকবারই পড়েছি। এটাই আমার সেরাটা বের করে আনে।'
৬৮ টেস্টের ক্যারিয়ারে এটি বাভুমার পঞ্চম শতক। তবে তার সাম্প্রতিক ফর্মে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। প্রথম ৫৫ টেস্টে শতক ছিল মাত্র একটি। অথচ পরের ১৩ টেস্টেই চারটি শতক পেয়েছেন ৩৬ বছর বয়সী এই ব্যাটার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটিই তার প্রথম শতক। কঠিন পরিস্থিতি থেকে দলকে বের করে এনে বড় ইনিংস খেলতে পারার তৃপ্তিও আলাদা তার কাছে।
বাভুমার ভাষায়, 'দলকে কঠিন পরিস্থিতি থেকে বের করে আনা এবং তারপর একটি বড় সেঞ্চুরি করা, এটা নিঃসন্দেহে আমার ব্যাটিং ক্যারিয়ারে একটি কাঁটার মতো ছিল। মানসিকভাবে সেটা কাটিয়ে উঠতে পেরে ভালো লাগছে।'
বাভুমার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মার্কো জানসেন ও সাইমন হার্মার। সপ্তম উইকেটে ইয়ানসেনের সঙ্গে তার ১৩২ রানের জুটি সাউথ আফ্রিকাকে বিপর্যয় থেকে টেনে তোলে। জানসেন করেন ৮৫ রান। তিনি আউট হওয়ার পর অষ্টম উইকেটে হার্মারের সঙ্গে ১৮৩ রানের জুটি গড়েন বাভুমা। ১৫৭ বলে ৮২ রান করেন হার্মার।
সতীর্থদের অবদানের কথা উল্লেখ করে সাউথ আফ্রিকা অধিনায়ক বলেন, 'মার্কো বোলারদের ওপর চড়াও হয়েছিল। সাইমনও নিবেদন দেখিয়েছে। নিজেদের উইকেট অনেক বেশি মূল্যবান মনে করছিল তারা।'
হার্মার আউট হওয়ার পরের ওভারেই সাজঘরে ফেরেন বাভুমা। এরপর ইনিংস ঘোষণা করে সাউথ আফ্রিকা। দিনের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়ার একটি উইকেটও তুলে নেয় তারা।