ভারত সফরে এখন টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হায়দরাবাদে চতুর্থ ম্যাচে শাই হোপের দুর্দান্ত সেঞ্চুরির পর পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-২ সমতা ফিরেছে। মাঠের লড়াই জমে উঠলেও এই সিরিজ থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে না ক্যারিবীয় বোর্ড। ‘দ্য স্কুপ’ অনুষ্ঠানে অঞ্জলি দোশির সঙ্গে আলাপচারিতায় ডেহরিং ব্যাখ্যা করেছেন, কীভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের রাজস্ব কাঠামো ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য প্রতিকূল হয়ে উঠেছে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের এই কর্তা বলেন, 'এই ক্ষেত্রে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট কোনো অর্থই পাচ্ছে না, কারণ সিরিজটি ভারতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভারতে যে সিরিজ থেকে ২ থেকে ৩ কোটি ডলার আয় করা সম্ভব, সেই সিরিজ থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের আয় শূন্য।'
এই বৈষম্যের শিকড় খুঁজতে ১৯৯৭ সালের কথা উল্লেখ করেন সিডব্লিউআইয়ের প্রধান নির্বাহী। সে বছর আইসিসির সদস্য দেশগুলো দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেটের সম্প্রচারস্বত্ব থেকে আয়ের পদ্ধতি পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দেয়। এর আগে সফরকারী দলকে আয় থেকে নির্দিষ্ট অংশ দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। নতুন নিয়মে স্বাগতিক দেশ দ্বিপক্ষীয় সিরিজের সম্প্রচারস্বত্ব থেকে পাওয়া পুরো অর্থ নিজেদের কাছে রাখতে পারে। ১০ সদস্যের মধ্যে ৯টি দেশ এই পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছিল।
ডেহরিং বলেন, 'এর অর্থ দাঁড়াল, ভারত তাদের দেড়শ কোটি মানুষের বাজার থেকে পাওয়া আয় নিজেদের কাছে রাখতে পারবে। অন্যদিকে, অ্যান্টিগুয়ার মতো প্রায় এক লাখ মানুষের দ্বীপ কিংবা প্রায় ৩০ হাজার মানুষের সেন্ট কিটস থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যতটুকু আয় করতে পারবে, তাদের ভাগে থাকবে সেটুকুই।'
তার মতে, এই সিদ্ধান্ত ছিল স্পষ্টতই অন্যায্য। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'ইসিসির সদস্য দেশগুলোর ভোটে আমরা ৯-১ ব্যবধানে হেরে গিয়েছিলাম। তখনই আমি বলেছিলাম, এই সিদ্ধান্ত কার্যত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের পতনের পথ তৈরি করেছে, কারণ এতে আমাদের আয়ের প্রধান উৎস কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।'
ডেহরিংয়ের মতে, রাজস্ব আয়ের এই বিশাল ব্যবধানের প্রভাব গত দুই দশক ধরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটকে ভোগাচ্ছে। সাম্প্রতিক আর্থিক সংকট সামাল দিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক ২৫ শতাংশ কমিয়েছে বোর্ড। ঘরোয়া ক্রিকেটারদের কেন্দ্রীয় চুক্তির মেয়াদও কমিয়ে সাত মাস করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থগিত করা হয়েছে ঘরোয়া প্রতিযোগিতাও। আর্থিক সংকটের কারণে ক্যারিবীয় ক্রিকেটে তৈরি হওয়া অস্থিরতার চিত্রই তুলে ধরেছে এসব সিদ্ধান্ত।