ডারবান টেস্টে ৫ দিনে ২০ হাজারের কম দর্শক, অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত

সাউথ আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
ডারবান টেস্টে গ্যালারিশূন্য
ডারবান টেস্টে গ্যালারিশূন্য
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
কিংসমিডে প্রথম টেস্ট শুরুর আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ২০১৮ সালে ঘটে যাওয়া স্যান্ডপেপার কেলেঙ্কারি। বল মাঠে গড়ানোর আগে সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান সুপার স্পোর্ট জানায়, এবারের সিরিজে আলাদা করে নজর রাখবে তারা। সুপার স্পোর্টের মতো দর্শকরাও চাইলে নজর রাখতে পারতেন। অথচ ডারবানে সেভাবে খেলা দেখতে এলেন না দর্শকরা। প্রত্যাশার চেয়ে কম দর্শক হওয়ায় অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোয়াজুলু-নাটাল ক্রিকেট ইউনিয়ন (কেজেডএনসিইউ)।

২০২৫ সালের জানুয়ারির পর প্রথমবার দেশের মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেছে সাউথ আফ্রিকা। অথচ দেড় বছরের বেশি সময় পর দেশের মাটিতে টেস্ট খেললেও গ্যালারি থেকে পর্যাপ্ত সমর্থন পাননি এইডেন মার্করাম-টেম্বা বাভুমরা। কিংসমিড স্টেডিয়ামের সর্বোচ্চ ধারণা ক্ষমতা ২০ হাজার। অথচ পাঁচদিনের টেস্টে সর্বসাকুল্যে খেলা দেখেছে ২০ হাজারের কম দর্শক।

অর্থাৎ পাঁচদিনে যেখানে এক লাখ দর্শক হওয়ার কথা ছিল। সেখান পাঁচ ভাগের এক ভাগও মাঠে আসেনি। দর্শক উপস্থিতি কম হওয়ার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। স্টেডিয়াম থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে ডারবানের সিবিডি এলাকায় অভিবাসনবিরোধী আন্দোলন চলছে। এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচ চলাকালীন বেশিরভাগ সময় এলাকাটি অবরুদ্ধ ছিল।

আন্দোলনের শুরুতে শহরে পুলিশ মোতায়েন করা হলেও ম্যাচের শেষের দিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে সাউথ আফ্রিকান ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্স দায়িত্ব দেওয়া হয়। যদিও মাঠে এসবের প্রভাব পড়েনি। দর্শক কম হওয়ার পেছনে আরও একটি বড় কারণ হতে পারে সাউথ আফ্রিকার জীবনযাত্রার মানের ব্যয় বৃদ্ধি।

টেস্ট শুরুর দুদিন আগে অর্থাৎ ৭ অক্টোবর সাউথ আফ্রিকায় পেট্রোলের দাম প্রতি লিটার রেকর্ড ২৯.৩৮ র‌্যান্ডে (১.৭৮ মার্কিন ডলার) পৌঁছায়। ম্যাচ শেষে বাভুমাও স্বীকার করেছেন মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেকে মাঠে আসতে পারেননি। দর্শকদের মাঠে ফেরাতে কী করা যেতে পারে এসব নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেজেডএনসিইউ।

এ প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে কেজেডএনসিইউ-র প্রধান নির্বাহী হেনরিখ স্ট্রাইডম বলেন, ‘প্রোটিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দুই দলের এমন এক মানসম্পন্ন টেস্ট গ্যালারিতে আরও বেশি দর্শক পাওয়ার দাবি রাখে। আমরা বুঝতে পারছি যে সমর্থকদের সময় ও অর্থের নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবে মাঠে এসে খেলা দেখার অভিজ্ঞতাকে কীভাবে তাদের কাছে আরও আকর্ষণীয় ও সার্থক করে তোলা যায় এবং কোন বিষয়গুলো তাদের সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করে, তা আমাদের গভীরভাবে বোঝা প্রয়োজন।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘একটি ইউনিয়ন এবং ক্রিকেটপ্রেমী সমাজ হিসেবে এটি নিয়ে নিজেদের মধ্যে পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার মাধ্যমে আত্মউপলব্ধি করার সময় এসেছে। আমাদের সমর্থকদের কথা শুনতে হবে, সাধারণ মানুষের সাথে সম্পর্ক নতুন করে জোড়া লাগাতে হবে এবং সব বয়সের ক্রিকেটপ্রেমী ও পরিবারের জন্য টেস্ট ম্যাচকে আরও সহজলভ্য ও প্রাণবন্ত করে তোলার উপায় বের করতে হবে।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এমনিতেও ডারবানে অনুষ্ঠিত টেস্টে দর্শক তুলনামূলক কমই হয়েছে। যে কারণে এই মাঠ থেকে বক্সিং ডে টেস্ট সরিয়ে সেঞ্চুরিয়নে নিয়ে যাওয়া হয। এমনকি ২৪ সেপ্টেম্বর সরকারি ছুটির দিন হওয়ার পরও অস্ট্রেলিয়া ও সাউথ আফ্রিকার প্রথম ওয়ানডেতে ১২ হাজারের কিছু বেশি দর্শক মাঠে এসেছিলেন। গেবেখা টেস্টেও দর্শক সংখ্যা কম থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরো পড়ুন: