ব্যাটিংয়ে ভয় ধরালেও বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ একেবারে ধারহীন। রোহিত শর্মা ও শুভমান গিলের ব্যাটিং তাণ্ডবের সামনে বলই ফেলার জায়গা খুঁজে পাচ্ছিলেন না সফরকারীরা। সেঞ্চুরির পর রোহিত ফিরলেও অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন গিল। ভারতের অধিনায়কের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংসে জয়টা শেষ পর্যন্ত ভারতেরই হয়েছে। নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে ম্যাচ জেতার রেকর্ড গড়েছে স্বাগতিকরা।
৪ সেঞ্চুরি, এক ডাবল সেঞ্চুরি ও ৮১১ রানের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে হারিয়ে সিরিজ জিতে নিয়েছে ভারত। ওয়ানডে ক্রিকেটে চারশর বেশি রান তাড়া করে জেতার রেকর্ডে এটি দ্বিতীয় ঘটনা। ২০০৬ সালে প্রথমবার এমন কীর্তি গড়েছিল সাউথ আফ্রিকা। সেবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪৩৪ রান তাড়া করেছিল প্রোটিয়ারা। এদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টানা ১৪টি ওয়ানডে সিরিজ জিতল ভারত।
রান তাড়ায় ভারতকে উড়ন্ত শুরু এনে দেন রোহিত ও গিল। পাওয়ার প্লেতে বিনা উইকেটে ৯২ রান তোলেন তারা দুজন। ৩২ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন রোহিত। আরেক ওপেনার গিল পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন ৩৮ বলে। আক্রমণাত্বক ব্যাটিংয়ে দুজনে মিলে ভারতকে নিয়ে ছুটতে থাকেন। প্রথম ম্যাচে ভালো শুরু পেলেও ইনিংসটা বড় করতে পারেননি রোহিত। দ্বিতীয় ম্যাচেও অবশ্য পুরনো ভুল করেননি। বরং ৭২ বলে সেঞ্চুরি করেছেন। রোহিতের আগেই তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন গিল।
ভারতের অধিনায়ক সেঞ্চুরি করেছেন ৬২ বলে। এদিকে সেঞ্চুরির পর টিকতে পারেননি রোহিত। ১০ চার ও ৬ ছক্কায় ৭৫ বলে ১০১ রানের ইনিংস খেলে ফিরতে হয় ডানহাতি ওপেনারকে। তিনে নেমে আক্রমণাত্বক ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করেছিলেন বিরাট কোহলি। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ানকে ফিরতে হয়েছে ১৯ বলে ২৯ রান করে। রুতরাজকে সঙ্গে নিয়ে বাকিটা সময় কাটিয়ে দিয়েছেন গিল। পেয়েছেন ডাবল সেঞ্চুরিও। মাত্র ১১৭ বলে বিশ্বের দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েছেন তিনি।
পেছনে ফেলেছেন বাংলাদেশের বিপক্ষে ইশান কিশানের ১২৬ বলের রেকর্ডকে। ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন গিল। ভারতের অধিনায়কের চেয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে বেশি ডাবল সেঞ্চুরি আছে কেবল রোহিতের (৩টি)। রান তাড়ায় দ্বিতীয়বারের মতো ডাবল সেঞ্চুরি দেখল ক্রিকেট দুনিয়া। ২০২৩ বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২০১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। গিল খেললেন অপরাজিত ২২৩ রানের ইনিংস। সবমিলিয়ে রেকর্ডের বন্যা বইয়ে ভারতকে জিতিয়েছেন গিল।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরুটা দারুণ হয়। যদিও ইনিংস বড় করতে পারেননি কেসি কার্টি। ইনিংসের পঞ্চম ওভারেই ফেরেন তিনি। এক উইকেট হারালেও সফরকারীদের হয়ে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন ক্যাম্পবেল। হোপকে সঙ্গে নিয়ে পাওয়ার প্লের বাকিটা সময় অনায়াসে কাটিয়েছেন। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে মাত্র এক উইকেটে ৯৬ রান তোলে ক্যারিবীয়রা। চার-ছক্কার বৃষ্টিতে ভারতীয় বোলারদের তুলোধুনো করে ২৯ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন ক্যাম্পবেল। পরবর্তীতে পেয়েছেন সেঞ্চুরিও।
৬৫ বলে সেঞ্চুরি করা ক্যাম্পবেল আউট হয়েছেন তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পরই। ৯ চার ও ৫ ছক্কায় ৬৮ বলে ১০১ রানের ইনিংস খেলে আউট হয়েছেন গুরনর ব্রার বলে পুল করতে গিয়ে। ক্যাম্পবেল ঝড়ো ব্যাটিং করলেও ধীরগতিতে খেলছিলেন হোপ। হাফ সেঞ্চুরি করেছেন ৪৯ বলে। যদিও পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর রান তোলার গতি বাড়িয়ে দেন ডানহাতি এই ব্যাটার। ৯০ বলে সেঞ্চুরি করেছেন হোপ। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ২০তম সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। পেছনে ফেলেছেন ১৯ সেঞ্চুরি করা ব্রায়ান লারাকে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের মধ্যে সবার উপরে আছেন ২৫ সেঞ্চুরি করা ক্রিস গেইল। ক্যাম্পবেলের মতো হোপও সেঞ্চুরির পরই আউট হয়েছেন। ৯৪ বলে ১০৪ রানের ইনিংস খেলেছেন ডানহাতি উইকেটকিপার ব্যাটার। সেঞ্চুরি পেয়েছেন জাঙ্গুও। ৪৪ বলে হাফ সেঞ্চুরি করা বাঁহাতি ব্যাটার সেঞ্চুরি করেছেন মাত্র ৭০ বলে। তিনিও তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পর আউট হয়েছেন ১১৪ রানে। শেষ দিকে রস্টন চেজ ২৯ রান করলে ৭ উইকেটে ৪০৫ রানের পুঁজি পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথমবারের মতো ওয়ানডে ক্রিকেটে চারশ রানের পুঁজি পায় ক্যারিবীয়রা।