বড় লক্ষ্যে খেলতে নেমে রোহিত শর্মা ও গিল মিলে ওপেনিং জুটিতে ৭৪ রান যোগ করেন। রোহিত ব্যক্তিগত ৩২ রানে আলজারি জোসেফের শিকার হন। আর তাতেই ভারতের ওপেনিং জুটি ভাঙে। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে ভারতের হাল ধরেন কোহলি ও গিল। দুজনে মিলে দ্বিতীয় উইকেটে যোগ করেন ১৫১ রান। গিল সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ফেরেন ১০৮ বলে ১১০ রান করে।
কোহলিও তুলে নেন সেঞ্চুরি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এটি ভারতীয় এই ব্যাটারের দশম সেঞ্চুরি। ঘরের মাঠে এটি কোহলির ৪২তম সেঞ্চুরি। আর এইন রেকর্ডে তিনি শচিন টেন্ডুলকারকে ছুয়েছেন এদিন। নিজেদের মাঠে এই দুই ভারতীয় ব্যাটারের চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি নেই ক্রিকেট দুনিয়ার আর কারো। ব্যক্তিগত ৬৫ রানে থাকা অবস্থায় ৩০৩ ওয়ানডেতে ১৫ হাজার রানের রেকর্ড স্পর্শ করেন কোহলি। ওয়ানডেতে তিনিই সবচেয়ে দ্রুততম ১৫ হাজারে পৌঁছেছেন। এর আগে ১৫ হাজার রানের মাইলফলক আছে শুধু শচিনের। তাকে শেষদিকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন রুতুরাজ গায়কোয়াড়। কোহলি শেষ পর্যন্ত ৮৮ বলে ১৩৯ ও রুতুরাজ ১৩ রানে অপরাজিত থাকেন।
এর আগে টস জিতে এই ম্যাচে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শুভমান গিল। তবে ভারত অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করেছেন দুই ক্যারিবিয়ান ওপেনার। জাস্টিন গ্রিভস ও জন ক্যাম্পবেলের দারুণ ব্যাটিংয়ে ওপেনিং জুটিতে ১৩৫ রান তুলে ফেলে ক্যারিবিয়ানরা। অল্পের জন্য তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজের জুটির রেকর্ড ভাঙতে পারেননি।
১৯৯০ সালে গর্ডন গ্রিনিজ ও ফিল সিমন্সের ১৬৪ রানের জুটিই এখনো সবার উপরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে। সেই সঙ্গে রক্ষা পেয়েছে গ্রিনিজ ও ডেসমন্ড হেনসের ১৪৯ রানের জুটির রেকর্ডও। তবে ম্যাচের শুরু থেকেই ক্যাম্পবেল ও গ্রিভস ভারতীয় বোলারদের শুরু থেকেই আক্রমণ করতে থাকেন। কুলদীপ যাদবের বলে ৬০ বলে ৬২ রান করে ক্যাম্পবেল ফিরলেও গ্রিভস ছিলেন অপ্রতিরোধ্য।
১০৪ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। ওপেনিং জুটিতে বড় ভিত গড়ে দেওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত ইনিংসটিকে তিনশোর কাছাকাছি নিয়ে যান আমির জাঙ্গু। ৪৩ বলে ৫৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। শেষদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ বড় হতে দেননি কুলদীপ। তিনি ১০ ওভারে মাত্র ৪০ রান দিয়ে নেন ৪টি উইকেট।
এর মধ্যে একটি মেইডেনও নিয়েছেন ভারতীয় এই ব্যাটার। পরপর দুই বলে গ্রিভস ও জুয়েল অ্যান্ড্রুকে ফিরিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসে বড় ধাক্কা দেন কুলদীপ। পরের বলে হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি হলেও সেটি কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। এরফলে তিনশ রানের আগেই থামতে হয় ক্যারিবিয়ানদের। ভারতের হয়ে কুলদীপ ছাড়াও উইকেট নিয়েছেন প্রসিধ কৃষ্ণা ও নীতিশ কুমার রেড্ডি।