জবাবে খেলতে নেমে মাত্র ৯৪ রানে অল আউট হয়ে গেছে আফগানিস্তান। এর ফলে ১২৭ রানের জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে ভারত। এদিন ভারতের দেয়া বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভালোই শুরু করেছিল আফগানরা। প্রথম ওভারেই তারা ১৫ রান তুলে নিয়েছিল।
এমনকি ৩ ওভার শেষে তাদের রান ছিল বিনা উইকেটে ৩১। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ভারত। অক্ষর প্যাটেলের আর্ম বলেই ভেঙে যায় আফগানিস্তানের ওপেনিং জুটি। তার বলে বোল্ড হন রহমানউল্লাহ গুরবাজ। তার ব্যাট থেকে আসে ১৫ রান। পাঁচ বল পর সেদিকউল্লাহ অটলও ফিরে যান।
আফগানিস্তানের এই ওপেনার করেন ২৫ রান। এরপর জসপ্রীত বুমরাহর বলে বোল্ড হন ডারউইশ রাসুলি। পাওয়ার প্লের শেষ দিকে ইয়াশ ঠাকুরের বলে ইব্রাহিম জাদরানও আউট হলে আফগানিস্তানের প্রতিরোধ কার্যত সেখানেই শেষ হয়ে যায়। এরপর রবি বিষ্ণই ও নীতীশ কুমার রেড্ডি মিলে আফগান ব্যাটিংয়ে ধস নামান।
বিষ্ণই নুর উল রহমানকে ফিরিয়ে আফগানিস্তানের সাময়ীক প্রতিরোধ ভাঙেন। নীতীশ তার তৃতীয় ওভারে তুলে নেন তিন উইকেট। তাতে ৮২ রানেই ৮ উইকেট হারায় আফগানিস্তান। শেষ পর্যন্ত ১৪.১ ওভারে ৯৪ রানে গুটিয়ে যায় তারা। আফগানিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ২৫ রান করেন ইব্রাহিম জাদরান। আজমতউল্লাহ ওমরজাই করেন ১৭ রান। ভারতের হয়ে নীতীশ ও বিষ্ণোই নেন ৩টি করে উইকেট।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ভারতকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন অভিষেক। শুরু থেকেই আফগান বোলারদের ওপর চড়াও হন তিনি। ফজলহক ফারুকির এক ওভারে নেন ২৩ রান। এরপর মোহাম্মদ নবির এক ওভারে আসে ২৯ রান। অভিষেক মাত্র ১৬ বলে ফিফটি তুলে নেন। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোনো ভারতীয় ব্যাটসম্যানের এটি চতুর্থ দ্রুততম ফিফটি।
পাওয়ার প্লে শেষে ভারতের রান ছিল ১০০, যার ৭৬ রানই আসে অভিষেকের ব্যাট থেকে। এরপর যেন আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন তিনি। ইনিংসের ৮.৩ ওভারে মাত্র ৩০ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন অভিষেক। ছেলেদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টেস্ট খেলুড়ে দেশের কোনো ব্যাটসম্যানের এটাই দ্রুততম সেঞ্চুরি।
এর আগে ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করে রেকর্ডটি ধরে রেখেছিলেন রোহিত শর্মা। শুধু দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডই নয়, টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন অঙ্ক ছোঁয়ার ক্ষেত্রেও নতুন রেকর্ড গড়েছেন অভিষেক। ৮.৩ ওভারে সেঞ্চুরি করে তিনি সবচেয়ে কম ওভারে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি করার কীর্তি গড়েন।
অভিষেক ফিরে যাওয়ার পর ভারতের রান তোলার গতি কিছুটা কমে যায়। সঞ্জু স্যামসন ফিফটি করেন, তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। শেষ দিকে শ্রেয়াস আইয়ার ও শিবম দুবে রশিদ খানের এক ওভারে ১৭ রান তুললেও শেষ পাঁচ ওভারে ভারত পায় ৩৭ রান, হারায় চার উইকেট। এরপরও বড় সংগ্রহ গড়েই থামে ভারত।