প্রথম দুই টেস্টে বড় ব্যবধানে হারের পর দলে একগাদা পরিবর্তন এনেছিল পাকিস্তান। সাতজন খেলোয়াড়কে দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, সরিয়ে দেয়া হয় প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকে। তবে এত পরিবর্তনের পরও মাঠের চিত্র বদলায়নি।
টস জিতে বোলিং নেয়া ইংল্যান্ডকে শুরু থেকেই স্বস্তি দেননি পাকিস্তানের ব্যাটাররা। প্রথম পাঁচ ব্যাটারের কেউই দুই অঙ্কে যেতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত মাত্র তিনজন দুই অঙ্ক ছুঁতে পেরেছেন। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেন সাউদ শাকিল।
পাকিস্তানের ধস শুরু হয় সাইম আইয়ুবকে দিয়ে। ২০ মাস পর টেস্টে ফিরেই ১০ বলে শূন্য রানে আউট হন তিনি। এরপর আজান আওয়াইস (৯) ও আবদুল্লাহ শফিককে (৩) ফেরান জফরা আর্চার ও অলি রবিনসন। শান মাসুদও (৫) বেশিক্ষণ টেকেননি। প্রথম ঘণ্টা শেষ হওয়ার আগেই চার উইকেট হারায় পাকিস্তান।
বাবর আজমও পারেননি দলের বিপর্যয় ঠেকাতে। জশ টাংয়ের বলে বোল্ড হয়ে ১ রানেই ফেরেন তিনি। সিরিজে তিন ইনিংস খেলেও একবারও দুই অঙ্কে যেতে পারেননি পাকিস্তানের এই তারকা ব্যাটার। অভিষিক্ত গাজি ঘরি (৪), মোহাম্মাদ ইমরান (৫) ও রাজাউল্লাহও (১১) ব্যাট হাতে অবদান রাখতে পারেননি।
তবে এক প্রান্ত আগলে লড়াই করেন শাকিল। সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মাঝে দলের রান একশ পার করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত টাংয়ের বলে বোল্ড হয়ে ৪৩ রানে থামেন। এরপর মোহাম্মাদ আব্বাস (২১) ও মোহাম্মাদ আলির (৫) ব্যাটে ১৩৩ পর্যন্ত যায় পাকিস্তান। দশম উইকেটে দুজনের ২৬ রানই ছিল ইনিংসের সর্বোচ্চ জুটি। ইংল্যান্ডের পেসারদের মধ্যে টাং ৪টি এবং রবিনসন ও আর্চার তিনটি করে উইকেট নেন।
পাকিস্তানকে অল্প রানে গুটিয়ে দিয়েও ইংল্যান্ডের শুরুটা স্বস্তির ছিল না। ৩৯ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে তারা। বেন ডাকেট (১১) ও জর্ডান কক্সকে (৪) ফেরান মোহাম্মাদ আলি ও আব্বাস। এরপর অভিজ্ঞ জো রুটও ৮ রানে রাজাউল্লাহর বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন। টেস্টে সর্বশেষ ৯ ইনিংসের ৮টিতেই এলবিডব্লিউ হলেন রুট।
এরপর এমিলিও গে ও হ্যারি ব্রুক মিলে ইংল্যান্ডকে বিপদ থেকে টেনে তোলেন। চতুর্থ উইকেটে দুজন যোগ করেন ১০৪ রান। ১১৪ বলে ৬০ রান করে গে রাজাউল্লাহর বলে বোল্ড হলেও ব্রুক দিন শেষ করেছেন অপরাজিত ৫২ রানে। ফলে প্রথম দিন শেষে পাকিস্তানের ১৩৩ ছাড়িয়ে ২৩ রানের লিড পেয়েছে ইংল্যান্ড।