ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও ক্রিকেট ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে পুকোভস্কির একটি সমঝোতা হয়েছে। তবে সমঝোতার আর্থিক অঙ্ক প্রকাশ করা হয়নি। ‘কোড স্পোর্টস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি দুই পক্ষের মধ্যে এই গোপন আর্থিক সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে।
অবসরের আগে পুকোভস্কি মোট ১৩ বার কনকাশনের শিকার হন। ২০২৪ সালের আগস্টে কনকাশন বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল তাকে ক্রিকেট থেকে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। এরপরই মাত্র ২৬ বছর বয়সে পেশাদার ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
বারবার মাথায় আঘাতের প্রভাবে এখনো দৃষ্টিসংক্রান্ত সমস্যা, মাথাব্যথা ও বমি বমি ভাব রয়েছে পুকোভস্কির। শরীরের বাম পাশ দিয়ে বিভিন্ন কাজ করতেও তার সমস্যা হয়। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি মস্তিষ্কের ক্ষতি এবং ক্রনিক ট্রমাটিক এনসেফালোপ্যাথিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
পুকোভস্কির মাথায় আঘাত পাওয়ার ইতিহাস অবশ্য ক্রিকেটের বাইরেও বিস্তৃত। ২০১৪ সালে ব্রাইটন গ্রামার স্কুলে অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবলের অনুশীলনে সতীর্থের হাঁটু তার মাথায় আঘাত করে। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পরও কয়েক মিনিটের মধ্যে তাকে অনুশীলনে ফেরার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন পুকোভস্কি। পরে দীর্ঘ সময় স্কুলে যেতে না পারার পাশাপাশি হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাকে।
ক্রিকেটে আসার পরও মাথায় আঘাত থেকে রেহাই পাননি পুকোভস্কি। ২০২১ সালে ভারতের বিপক্ষে সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্ট অভিষেক হয় তার। প্রথম ইনিংসেই ৬২ রান করে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছিলেন। কিন্তু শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচ ও অনুশীলনে বারবার মাথায় আঘাত পাওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার আর এগোয়নি।
২০২৪ সালের শেফিল্ড শিল্ডে তাসমানিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে বাউন্সারে মাথায় আঘাত পাওয়ার পর আর মাঠে ফিরতে পারেননি পুকোভস্কি। চিকিৎসকদের পরামর্শে ক্রিকেট ছাড়ার পরও আঘাতের জন্য আইনি লড়াই চালিয়ে যান তিনি।