নতুন চুক্তি ব্যবস্থায় ক্রিকেটারদের ফরম্যাটের ভিত্তিতে পাঁচটি আলাদা ট্র্যাকে ভাগ করা হয়েছে। ‘এবি’ ট্র্যাকে থাকবেন টেস্ট ও ওয়ানডে এই দুই ফরম্যাটের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটাররা। ‘এ’ ট্র্যাক রাখা হয়েছে শুধু টেস্ট খেলা ক্রিকেটারদের। ‘বিসি’ ট্র্যাকে থাকবেন সাদা বলের (ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি) ক্রিকেটাররা, আর ‘সি’ ট্র্যাক নির্ধারিত হয়েছে শুধুমাত্র টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটারদের জন্য। উদীয়মান ক্রিকেটারদের জন্য রাখা হয়েছে ‘ডি’ ট্র্যাক।
প্রতিটি মূল ট্র্যাককে আবার দুইটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে। স্তর অনুযায়ী বেতন নির্ধারিত হলেও আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশগ্রহণের শর্ত এবং বিদেশি লিগে খেলার অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাওয়ার নিয়ম একই থাকবে।
পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি, সাদা বলের প্রধান কোচ মাইক হেসন এবং ক্রিকেট একাডেমি পরিচালক আকিব জাভেদ যৌথ সংবাদ সম্মেলনে নতুন কাঠামো ঘোষণা করেন। পরে খেলোয়াড়দের জন্য একটি কর্মশালারও আয়োজন করা হয়।
পিসিবির দাবি, এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো খেলোয়াড় ও বোর্ডের মধ্যে যোগাযোগ আরও স্বচ্ছ করা এবং প্রত্যেক ক্রিকেটারের কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করা হচ্ছে তা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া। একই সঙ্গে লাল বলের ক্রিকেটে নিবেদিত খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ‘এ’ ট্র্যাকের প্রথম স্তরের একজন টেস্ট খেলোয়াড় মাসিক ৪০ লাখ পাকিস্তানি রুপি এবং দ্বিতীয় স্তরের ক্রিকেটার ৩৬ লাখ রুপি পাবেন। ‘এবি’ ট্র্যাকের প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের খেলোয়াড়দের মাসিক বেতন যথাক্রমে ৪৮ লাখ ও ৩৮ লাখ রুপি। ‘বিসি’ ট্র্যাকের ক্রিকেটাররা পাবেন ৩৪ লাখ ও ২৬ লাখ রুপি, আর ‘সি’ ট্র্যাকের খেলোয়াড়দের মাসিক আয় হবে ২৬ লাখ ও ২০ লাখ রুপি। উদীয়মান ক্রিকেটারদের জন্য নির্ধারিত ‘ডি’ ট্র্যাকে মাসিক বেতন রাখা হয়েছে ১০ লাখ রুপি।
চুক্তি নির্দিষ্ট ফরম্যাটভিত্তিক হলেও নির্বাচকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সংস্করণে খেলোয়াড় নির্বাচন করতে পারবেন। ম্যাচ ফিও ট্র্যাকভেদে আলাদা রাখা হয়েছে। এছাড়া আইসিসি টুর্নামেন্ট জয়ের জন্য বিশেষ বোনাসের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী কোনো আইসিসি শিরোপা জিতলে খেলোয়াড়রা ম্যাচ ফির ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত বোনাস পাবেন।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে শুধু টি-টোয়েন্টি খেলা খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে। ‘সি’ ট্র্যাকের ক্রিকেটারদের জন্য বিদেশি টি-টোয়েন্টি লিগে খেলার সংখ্যার ওপর আর কোনো সীমাবদ্ধতা থাকছে না। ফলে তারা বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অংশ নিয়ে অতিরিক্ত আয় করতে পারবেন। তবে টেস্ট ক্রিকেটারদের জন্য সাদা বলের বিদেশি লিগে খেলার অনুমতি থাকবে না।
কেন্দ্রীয় চুক্তি পেতে ক্রিকেটারদের শুধু আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা যথেষ্ট হবে না। তাদেরকে মেডিক্যাল ও ফিটনেস পরীক্ষা, ঘরোয়া ক্রিকেটে নির্ধারিত সংখ্যক ম্যাচে অংশগ্রহণ এবং পারফরম্যান্স মূল্যায়নের ধাপও পেরোতে হবে। প্রতি চার মাস অন্তর ফিটনেস মূল্যায়নেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
পিসিবি জানিয়েছে, চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে নির্বাচকদের মতামতের গুরুত্ব থাকবে মাত্র ১৫ শতাংশ। বাকি ৮৫ শতাংশ নির্ধারিত হবে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্স এবং ফিটনেস মানদণ্ডের ভিত্তিতে। নতুন এই কাঠামোর মাধ্যমে পারফরম্যান্স, ফিটনেস ও নিয়মিত খেলার ওপর আরও বেশি গুরুত্ব আরোপ করতে চায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।