সবশেষ কয়েক বছরে ভারতের হয়ে নিয়মিত পারফর্ম করছেন বাঁহাতি এই ওপেনার। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ভারতের হয়ে সবশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপাও উঁচিয়ে ধরেছেন তিনি। বেশ কিছু রেকের্ডও তার নামের পাশে আছে। ভারতের ৫০ ওভারের ঘরোয়া ক্রিকেটে একমাত্র ভারতীয় নারী ক্রিকেটার হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি আছে স্মৃতির।
এ ছাড়া দুনিয়ার একমাত্র নারী ক্রিকেটার হিসেবে তিন ফরম্যাটেই সেঞ্চুরি করেছেন বাঁহাতি এই ওপেনার। যৌথভাবে সবচেয়ে ১৭ সেঞ্চুরির মালিকও তিনি। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু হয়ে জিতেছেন নারী আইপিএল শিরোপাও। এমন পারফরম্যান্সের পর টাইম ম্যাগাজিনের প্রভাবশালী ক্রীড়াবিদের তালিকায় জায়গা পেয়েছেন স্মৃতি।
ভারতের ব্যাটারের অর্জনের কথা উল্লেখ করে টাইমের সম্পাদক চার্লি ক্যাম্পবেল বলেন, ‘স্মৃতি মান্ধানার ঝুলিতে একের পর এক রেকর্ড জমা পড়েই চলেছে। মুম্বাইয়ে জন্ম নেওয়া এই বাঁহাতি ওপেনিং ব্যাটার ঘরোয়া একদিনের ক্রিকেটে দ্বিশতক করা প্রথম ভারতীয় নারী, তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্করণেই শতক করা প্রথম নারী এবং ১৭টি সেঞ্চুরি করে নারী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বাধিক শতরানের যৌথ অধিকারী। এক পঞ্জিকা বছরে হাজারের বেশি ওয়ানডে আন্তর্জাতিক রান করা প্রথম নারীও। কিন্তু মান্ধানা সবচেয়ে বেশি গর্বিত দলীয় অর্জনগুলো নিয়ে।’
‘রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুকে ২০২৪ এবং ২০২৬ সালের উইমেন’স প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জেতান তিনি এবং গত আইসিসি উইমেন’স বিশ্বকাপে ভারতের জয়ে সহ-অধিনায়ক ছিলেন, যেখানে তিনি টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করেন। ২০২৪ সালে তিন সংস্করণ মিলিয়ে নারী ক্রিকেটার হিসেবে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক রানের রেকর্ড গড়েন মান্ধানা এবং গত বছর নিজের গড়া রেকর্ডটি ভেঙে দেন। এই কৃতিত্বের পথ ধরে তিনি ‘বিবিসি ইন্ডিয়ান স্পোর্টসউইম্যান অফ ২০২৫’ খেতাব অর্জন করেন।’
স্মৃতির পাশাপাশি একই তালিকায় জায়গা পেয়েছেন টেম্বা বাভুমা। সবশেষ কয়েক বছরে সাউথ আফ্রিকার ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। অধিনায়কত্বের পাশাপাশি ব্যাট হাতেও পারফর্ম করেছেন সাউথ আফ্রিকার অধিনায়ক। তার অধীনে ভারতে টেস্ট সিরিজ জয়, আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাও জিতেছে তারা।
বাভুমাকে নিয়ে চার্ল বলেন, ‘টেম্বা বাভুমা সবসময়ই তার জার্সির চেয়েও বেশি দায়িত্ব বয়ে নিয়েছেন। হাতেগোনা কয়েকজন কৃষ্ণাঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটারের মধ্যে একজন হিসেবে তাঁ সাফল্যকে এই খেলার জন্য একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত হিসেবে প্রশংসা করা হয়। কিন্তু কোনো প্রতিবন্ধকতাই কেবল তার একার ছিল না। সৌভাগ্যবশত, বাভুমা বাধার চেয়ে অনেক বেশি সাফল্য পেয়েছেন।’
‘২০১৬ সালে তিনি প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকান হিসেবে সেঞ্চুরি করেন এবং পাঁচ বছর পর তিনি তার দেশের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ অধিনায়ক হন। গত বছর ভারতে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়, পরে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জয়েও দলকে নেতৃত্ব দেন। ফাইনালে প্রবলভাবে ফেভারিট অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে তারা অপরাজিত থেকে আসর শেষ করেন। এটি ছিল ১৯৯৮ সালের পর দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম আন্তর্জাতিক শিরোপা এবং সেখানে বাভুমার বীরত্বপূর্ণ ৬৬ রানের ইনিংসের অবদান ছিল, হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট নিয়েও ফাইনালে রানগুলি করেছিলেন তিনি।’
দুই ক্রিকেটারের পাশাপাশি টাইম সাময়িকীর প্রভাবশালী ১০০ ক্রীড়াবিদের তালিকায় অনুমেয়ভাবেই আছেন লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, লেব্রন জেমস, হিলারি নাইট, আরমান্ড ‘মন্দো’ ডুপ্লান্টিস, ইয়ানিক সিনার, নিকি হিল্টজ, ররি ম্যাকিলরয়, ভিক্টোর, ওয়েম্বানিয়ামা এবং টেনিস তারকা কার্লোস আলকারাজ।