মাস দুয়েক আগে কানাডার অনুসন্ধানী প্রামাণ্য অনুষ্ঠান ‘দ্য ফিফথ স্টেটের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, আইসিসির নীতিমালা ভঙ্গ, আর্থিক তদারকির ঘাটতির মত ভয়বহ অনিয়ম ঘটছে কানাডার ক্রিকেটে। এরপরই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে আইসিসি। প্রাথমিক তদন্ত শেষে এই স্থগিতাদেশের কথা জানানো হয় আইসিসির বোর্ড সভায়।
যদিও আইসিসি জানিয়েছে, সদস্যপদ স্থগিত হলেও কানাডার জাতীয় দলগুলো আইসিসির বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের ক্ষতি এড়াতে আইসিসির তত্ত্বাবধানে একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থায়নও অব্যাহত থাকবে। ক্রিকেট কানাডাকে সদস্যপদ ফিরিয়ে দিতে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তাদের প্রশাসনিক ও সুশাসনসংক্রান্ত দুর্বলতাগুলো দূর করতে হবে। এ বিষয়ে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে আইসিসির নরমালাইজেশন কমিটি।
সভায় টেস্ট ক্রিকেটের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে বোর্ড। আলো স্বল্পতার কারণে খেলার সময় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকলে দুই দলের সম্মতিতে চলমান টেস্ট ম্যাচে ঐতিহ্যবাহী লাল বলের পরিবর্তে গোলাপি বল ব্যবহারের সুযোগ রাখা হবে। পাশাপাশি আলো স্বল্পতার কারণে ম্যাচে বিঘ্ন কমাতে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের লক্ষ্যে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) সঙ্গে যৌথভাবে গবেষণায় অর্থায়নের পরিকল্পনাও নিশ্চিত করেছে আইসিসি।
সভার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য বৈশ্বিক বাছাইপর্ব (গ্লোবাল কোয়ালিফায়ার) পুনঃপ্রবর্তনের অনুমোদন। ১৬ দলের একটি বৈশ্বিক বাছাইপর্বের কাঠামো ও যোগ্যতা অর্জনের পদ্ধতি চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আইসিসির ম্যানেজমেন্ট কমিটিকে। আইসিসির জানায়, সহযোগী সদস্যভুক্ত দেশগুলোর ম্যাচে দর্শক আগ্রহ ও সম্প্রচার দর্শকসংখ্যা বাড়তে থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সহযোগী দেশগুলোর জন্য আবারও বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার বৈশ্বিক পথ উন্মুক্ত হবে।
এছাড়াও আইসিসি বোর্ড সভায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে। ব্যাটারের ডেলিভারির সময়কার অবস্থানকে ভিত্তি ধরে লেগ-সাইড ওয়াইড নির্ধারণের পরীক্ষামূলক বিধান স্থায়ী করা হয়েছে। সন্দেহভাজন অবৈধ বোলিং অ্যাকশন পর্যালোচনায় ম্যাচ অফিসিয়ালরা এখন থেকে হক-আই প্রযুক্তির তথ্য ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া ড্রিংকস বিরতির সময় প্রধান কোচ খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন এবং টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে বাধ্যতামূলক ১৫ মিনিটের ইনিংস বিরতি রাখা হবে।
২০২৭ নারী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ফেব্রুয়ারিতে আয়োজন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বোর্ড সভায়। ২০২৬ সালে পাঁচটি পূর্ণ সদস্য ও পাঁচটি সহযোগী সদস্য দেশ নিয়ে নারী ইমার্জিং নেশনস ট্রফি চালু হবে এবং ২০২৮ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ১০ দলের বৈশ্বিক বাছাইপর্ব অনুমোদন করা হয়েছে।