ঘটনার সময় অরবিন্দ ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতেই ছিলেন। পরে পুলিশ এসে বাড়ির দরজায় পাঁচটি গুলির চিহ্ন দেখতে পায়। কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশপাশের নজরদারি যন্ত্রের দৃশ্যও পরীক্ষা করছে তদন্তকারীরা। স্থানীয় কোনো গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা আছে কি না, সেটিও দেখা হচ্ছে।
এর আগেই কানাডা ক্রিকেট বোর্ডকে ঘিরে নানা অভিযোগ সামনে এসেছিল। অনুসন্ধানভিত্তিক এক অনুষ্ঠান থেকে দাবি করা হয়, দেশটির ক্রিকেটে অপরাধচক্রের প্রভাব রয়েছে। বোর্ড নির্বাচন থেকে শুরু করে দল গঠন পর্যন্ত নানা বিষয়ে তাদের প্রভাব থাকার অভিযোগ ওঠে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কানাডা ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, কিছু সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকৃতি জানালে ভয়ভীতি দেখানো হতো। এমনকি জাতীয় দলের কয়েকজন ক্রিকেটারও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতেও সাহস পাচ্ছিলেন না।
গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেও কানাডা দলের ভেতরে অস্বাভাবিক কিছু সিদ্ধান্ত দেখা যায়। হঠাৎ করেই নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয় নিকোলাস কর্টনকে। তার জায়গায় অধিনায়ক করা হয় দিলপ্রীত বাজওয়াকে। সেই সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন দলের কোচও। তবে বোর্ডের পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি।
বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ম্যাচ ঘিরেও গড়াপেটার সন্দেহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দিলপ্রীত বাজওয়ার করা একটি ওভার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেই ওভারে অতিরিক্ত রান দেওয়ার ধরন তদন্তকারীদের নজরে আসে। পরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার দুর্নীতি দমন বিভাগ বিষয়টি তদন্ত শুরু করে।
ক্রমেই কানাডা ক্রিকেট বোর্ড আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চাপে পড়ে যাচ্ছে। তবে বোর্ডের একটি অংশ এখনও ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের তদন্তের ওপর আস্থা রাখছে। তাদের দাবি, যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে কানাডার ক্রিকেটকে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। যদিও তদন্ত চলাকালেই বোর্ড সভাপতির বাড়িতে গুলির ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।