বাংলাদেশের বিপক্ষে এমনিতে খুব বেশি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলা হয় না অস্ট্রেলিয়ার। সাদা বলের ক্রিকেটে দু-চারটা সিরিজ হলেও টেস্টে সেটা যেন হাওয়া হয়ে গেছে। ২০০৩ সালের পর এবারই প্রথম টেস্ট সিরিজের জন্য অস্ট্রেলিয়া সফর করবে বাংলাদেশ। ১৩ আগষ্ট ডারউইনের মারারা ওভালে প্রথম এবং ২২ আগষ্ট থেকে ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় হবে দ্বিতীয় টেস্ট।
বাংলাদেশের বিপক্ষে যখন অজিদের সিরিজ চলবে তখন ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে দ্য হান্ড্রেড। কদিন আগে হওয়া নিলাম থেকে অস্ট্রেলিয়ার বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারই দল পেয়েছেন। কেউ কেউ তো নিলামের আগেই বিভিন্ন দলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার সাদা বলের দলে থাকা টিম ডেভিড, অ্যাডাম জাম্পা, মিচেল মার্শরা খেলবেন ইংল্যান্ডের একশ বলের টুর্নামেন্টে। ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি খেলা না থাকায় মোটা অঙ্কের টাকা কামানোর সুযোগটা লুফে নিয়েছেন তারা।
যদিও সুযোগটা নিতে পারছেন না কামিন্স-হেডরা। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই টেস্টের জন্য দ্য হান্ড্রেডের নিলামে নামই দেননি কামিন্স, হেড, স্টিভ স্মিথ, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউড ও ক্যামেরন গ্রিনের মতো টেস্ট দলের নিয়মিত ক্রিকেটাররা। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক নিশ্চিত করেছেন, সিরিজটি খেলার জন্য কেউ কেউ ৫ লাখ পাউন্ডের (৮ কোটি টাকা) প্রস্তাব ফিরিয়ে দিতেও বাধ্য হয়েছেন। এতে যে তাদের বড় অঙ্কের ক্ষতি হচ্ছে সেটাও স্পষ্ট হয়েছে তার কথায়।
বিজনেস অব স্পোর্ট পডকাস্টে কামিন্স বলেন, ‘অ্যাশেজ থাকলে স্বাভাবিকভাবেই সেখানে অনেকেই খেলতে চায়। তবে এবার দ্য হান্ড্রেডের সময়ই বাংলাদেশ সিরিজের দুটি টেস্ট রয়েছে। যারা টেস্টে খেলবে, তারা হান্ড্রেডের নিলাম থেকে সরে দাঁড়িয়েছে।’
‘আমাদের কয়েক জন ক্রিকেটার ২০ দিনের কাজের বিনিময়ে পাওয়া প্রায় ৫ লাখ পাউন্ডের (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮ কোটি টাকা) প্রস্তাব ফিরিয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলতেই মূলত এমনটা করছে। এটা একটা দুশ্চিন্তার জায়গা মনে হচ্ছে। এটা ক্রমশই বেড়ে চলছে।’
বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটাররা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে খেলতে জাতীয় দল থেকে দ্রুতই অবসর নিচ্ছেন। সেই তালিকায় আছেন ট্রেন্ট বোল্ট, আন্দ্রে রাসেল, সুনীল নারিন, হেনরিখ ক্লাসেনের মতো বড় তারকারা। আবার অনেকে জাতীয় দলের খেলা বাদ দিয়ে বেছে নিচ্ছেন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগকে। অস্ট্রেলিয়ানরা এখনো দেশের জার্সিতে খেলতে আগ্রহী হলেও ভবিষ্যতে সেটা থাকবে, এমন নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না কামিন্স।
অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক বলেন, ‘আমাদের ক্রিকেটাররা এখনো অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলতে এতটাই আগ্রহী যে তারা এই অর্থ (দ্য হান্ড্রেডের নিলাম থেকে প্রাপ্ত অর্থ) হাতছাড়া করতেও রাজি। তবে ভবিষ্যতেও যে একই পরিস্থিতি থাকবে, সেটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।’