এই সময়ে নির্বাচক হিসেবে লিপুর সিদ্ধান্তগুলো বারবার আলোচনায় এসেছে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল থেকে লিটন দাসকে বাদ দেয়া, ২ ফরম্যাট থেকে সরিয়ে নাজমুল হোসেন শান্তকে এক ফরম্যাটের অধিনায়ক করা, শামীম পাটোয়ারিকে টি-টোয়েন্টি দল থেকে ছেঁটে ফেলে পরে আবার স্কোয়াডে নেয়া, জাকের আলী অনিককে বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ দেওয়া কিংবা সাইফ হাসানের মতো ক্রিকেটারকে নতুন করে সুযোগ দিয়ে ইতিবাচক ফল পাওয়া।
সব মিলিয়ে দুই বছরে সাফল্য ও বিতর্ক দুটোই সঙ্গী হয়েছে তার। বিশেষ করে শামীমকে ঘিরে ঘটনাটি ছিল বেশ আলোচিত। টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন সংবাদ সম্মেলনে দল নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানান। অধিনায়ক ও প্রধান নির্বাচকের সেই মতভেদ আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।
শেষ পর্যন্ত শামীমকে স্কোয়াডে নেয়া হয়। তবে দায়িত্ব নেয়ার শুরুতেই লিপু বলেছিলেন, নির্বাচক হিসেবে স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হলে তা মেনে নেবেন না। সেই অবস্থান থেকেই কি এবার সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত, এমন প্রশ্ন উঠছে ক্রিকেট অঙ্গনে। এদিকে প্রধান নির্বাচক হিসেবে তার দুই বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি মাসের ২৮ ফেব্রুয়ারি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের একটি সূত্র ক্রিকফ্রেঞ্জিকে জানিয়েছে, নতুন করে চুক্তি নবায়নে আগ্রহী নন লিপু। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো বোর্ডকে কিছু জানাননি তিনি। বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিষয়টি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পরিষ্কার হবে তার ভবিষ্যৎ।
দায়িত্ব নেয়ার দিন লিপু বলেছিলেন, 'বল আসুক, আমি খেলব।' দুই বছরে সেই বলের গতি ও দিক বদলেছে বহুবার। কখনো সিদ্ধান্ত প্রশংসিত হয়েছে, কখনো প্রশ্নের মুখে পড়েছেন। এখন দেখার বিষয়, এই অধ্যায় এখানেই শেষ হয় কি না, নাকি নতুন কোনো ভূমিকায় আবারও দেখা যাবে বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ককে।