গত এক বছরে লিগটির মূল্য বেড়েছে ১০.৩ শতাংশ, যা বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে আইপিএলের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক শক্তির প্রমাণ। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ম্যাচপ্রতি আয়ের হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ফুটবল লিগ (এনএফএল) ছাড়া বিশ্বের আর কোনো ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আইপিএলের চেয়ে এগিয়ে নেই।
লিগের সবচেয়ে মূল্যবান ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবেও নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)। বিরাট কোহলির দলটির ব্র্যান্ড মূল্য বর্তমানে ৩১২ মিলিয়ন ডলার। টানা দুই মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন আরসিবি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকস্টোনসহ একটি কনসোর্টিয়ামের কাছে প্রায় ১.৮ বিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়েছে। এটি আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি বিক্রির চুক্তি।
এদিকে রাজস্থান রয়্যালসের মালিকানাতেও এসেছে পরিবর্তন। প্রায় ১.৬৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে ভারতীয় শিল্পপতি লক্ষ্মী এন. মিত্তাল ও তার পরিবার ভ্যাকসিন উদ্যোক্তা আদার পুনাওয়ালার সঙ্গে যৌথভাবে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন।
হোলিহান লোকির বিশ্লেষক হর্ষ তালিকোটি বলেন, '২০২৬ সালে ক্রিকেটের বাণিজ্যিক রূপান্তর আরও গতি পেয়েছে। আইপিএল বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের অর্থনৈতিক কাঠামো নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে।'
তিনি আরও বলেন, 'সাম্প্রতিক এই দুই ফ্র্যাঞ্চাইজি বিক্রিই দেখিয়ে দেয়, দীর্ঘমেয়াদে আইপিএলের মূল্য আরও বাড়বে বলে বিনিয়োগকারীরা কতটা আস্থাশীল।'
২০০৮ সালে যাত্রা শুরু করা আইপিএল এখন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সবচেয়ে বড় আয়ের উৎসগুলোর একটি। ২০২০ সালের এক হিসাব অনুযায়ী, আইপিএল প্রতিবছর ভারতীয় অর্থনীতিতে ১১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থনৈতিক প্রবাহ তৈরি করে।
আইপিএলের সাফল্য অনুপ্রাণিত করেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একই ধরনের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ গড়ে তুলতে। শুধু ক্রিকেটই নয়, ভারতের বক্সিং, ব্যাডমিন্টন, পোকার ও কাবাডির মতো খেলাতেও ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক লিগ চালুর পেছনে আইপিএলের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।