২০২৩ আইপিএলে প্রথমবার যুক্ত করা হয় ইমপ্যাক্ট খেলোয়াড় নিয়ম। সেই নিয়মের জেরে ম্যাচ চলাকালীনই একজন ক্রিকেটার বদল করতে পারে ফ্র্যাঞ্চাইজিরা। আগে ফিল্ডিং করা দল ব্যাটিংয়ের সময় একজন বোলারের পরিবর্তে একজন ব্যাটার খেলানোর সুযোগ পায়। আবার আগে যারা ব্যাটিং করে তারা বোলিংয়ের জন্য একজন ব্যাটারের জায়গায় বিশেষজ্ঞ বোলার খেলাতে পারেনি।
এমন পরিবর্তের জেরে আইপিএলের গত তিন মৌসুমে রান উৎসব দেখা গেছে। অনেকের ধারণা ইমপ্যাক্ট খেলোয়াড়ের নিয়মের প্রভাবেই এমন রান হচ্ছে। ব্যাটাররাও বেশি স্বাধীনতা পাচ্ছে বড় শটস খেলার ক্ষেত্রে। এতে অলরাউন্ডারদের গুরুত্বও কমছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যার ফলে আইপিএলের এই নিয়ম নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও বিসিসিআই ইমপ্যাক্ট খেলোয়াড় নিয়ম পরিবর্তে খুব বেশি আগ্রহী নয়। তবে নিয়মটি বাদ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শচীন।
ইএসপিএন ক্রিকইনফোর অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে শচীন বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয় ইমপ্যাক্ট খেলোয়াড়ের নিয়মটা এখন তুলে দেওয়া উচিত। টি-টোয়েন্টি সংস্করণে যেখানে মাত্র ২০ ওভার খেলা হয় সেখানে আপনি যখন আরও একজন বাড়তি ব্যাটার যোগ করছেন। এমনিতেই বোলাররা কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। আমার মনে হয় এটা খেলার (ব্যাট-বলের) ভারসাম্য নষ্ট করছে।’
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, একজন বোলার সর্বোচ্চ ৪ ওভার বোলিং করতে পারবেন। অর্থাৎ পাঁচ বোলার মিলে ২০ ওভার শেষ করতে হয়। কোনো অধিনায়ক চাইলে বেশি সংখ্যক বোলারও ব্যবহার করতে পারেন। তবে কেউই ৪ ওভারের বেশি করতে পারবেন না। এমন নিয়মেও পরিবর্তন চান শচীন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০০ সেঞ্চুরি করা ব্যাটারের চাওয়া, দলের সেরা বোলারকে যেন ৫ ওভারে বোলিং করার সুযোগ দেওয়া হয়।
শচীন বলেন, ‘একজন বোলারকে ৫ ওভার বোলিং করতে দেওয়া উচিত। কারণ দলের সেরা বোলাররাই সাধারণ পঞ্চম ওভারটা করবেন। আপনি কী চাইবেন না সেরা বোলার আরও বেশি বল করুক। সেরা ব্যাটার কখনো কখনো ২০ ওভার পর্যন্ত ব্যাটিং করেন। সেখানে সেরা বোলার কেন পাঁচ ওভার বোলিং করতে পারবেন না?’
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি ইনিংসের প্রথম ৬ ওভার পাওয়ার প্লে। ওই সময় দলগুলো ৩০ গজের বাইরে মাত্র দুজন ফিল্ডার রাখতে পারেন। সেই নিয়মেও পরিবর্তন চান শচীন। কিংবদন্তি ব্যাটারের মতে, পাওয়ার প্লেকে দুই ভাগে ভাগ করে দেওয়া হোক। প্রথম চার ওভারে পুরনো নিয়ম অনুসারে চলবে। তবে বাকি দুই ওভার ফিল্ডিং দল নিজেদের ইচ্ছে মতো ব্যবহার করতে পারবে। সেটা ম্যাচের যেকোনো সময়ে। পাশাপাশি অধিনায়ক চাইলে দুইয়ের পরিবর্তে তিনজন ফিল্ডার বাইরে রাখতে পারবেন।
শচীন বলেন, ‘পাওয়ার প্লেতে ফিল্ডিংয়ের বিধিনিষেধের কারণে মাত্র দুজন ফিল্ডার রিংয়ের (৩০ গজের) বাইরে থাকতে পারে। প্রথম চার ওভার একই নিয়মে ব্যাটারদের পাওয়ার প্লে করা হোক এবং পাওয়ার প্লের বাকি দুই ওভার ফিল্ডার দলের অধিনায়ক তার ইচ্ছে মতো সিদ্ধান্ত নেবেন। ম্যাচের যেকোন পর্যায়ে পরপর দুই ওভারে রিংয়ের বাইরে একজন অতিরিক্ত ফিল্ডারও পাওয়া গেল। এমনটা হলে (ফিল্ডিং দল) খেলাটা আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।’