গত ১৪ ম্যাচে ৫৮৩ রান করা সূর্যবংশী এখন মৌসুমের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের একজন। কিন্তু ক্রিকেটার হিসেবে এই ব্যাটারের সামগ্রিক বিকাশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মাঞ্জরেকার। ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়মের কারণে খুব কম সময়ই মাঠে ফিল্ডিং করতে হচ্ছে তাকে, আর সেটিই উদ্বেগের কারণ বলে মনে করছেন মাঞ্জরেকার।
স্পোর্টস্টারের ‘ইনসাইড এজ’ পডকাস্টে মাঞ্জরেকার বলেন, 'শেষ ম্যাচে রোহিত শর্মাকে দেখে বিষয়টা আমার মাথায় আসে। সে ১৫ বলে ২২ রান করেছে। পুরো অবদান বলতে ওই ১৫ বলই। তারপরও সে পুরো ম্যাচ ফি পাবে এবং যা যা সুবিধা আছে সবই পাবে। আমি অর্থ নিয়ে খুব বেশি কথা বলতে চাই না, কিন্তু খুব কম পরিশ্রমে সহজে অর্থ পাওয়া গেলে সেই মডেল নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। দীর্ঘমেয়াদে এটা কখনোই টেকসই হতে পারে না।'
এ প্রসঙ্গে তিনি যোগ করেন, 'যত ভাবছি, ততই মনে হচ্ছে এই কারণেই ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়ম তুলে দেওয়া উচিত। আমরা কি সত্যিই বৈভব সূর্যবংশীর শুধু এক পাশ দেখতে চাই? একজন ক্রিকেটারের তো সব বিভাগেই অবদান রাখার কথা। আগে আমরা ইনজামাম-উল-হকের মতো খেলোয়াড়দের শুধু ব্যাটিংয়ের জন্য নয়, মাঠে তাদের অন্য দিকও দেখতাম। তাতেই একজন খেলোয়াড়কে পুরোপুরি মূল্যায়ন করা যেত।'
বিসিসিআই চালু করা ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়ম নিয়ে নিজের শঙ্কার কথাও তুলে ধরেন মাঞ্জরেকার। তার মতে, এই নিয়ম সূর্যবংশীর মতো তরুণ ক্রিকেটারদের পূর্ণ বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি বলেন, 'ভারত শেষ দুটি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে এই নিয়ম থাকা সত্ত্বেও। শিভম দুবের মতো কেউ বোলিং না করেও দলের জন্য অবদান রাখতে পারে, সেটা ঠিক আছে। কিন্তু আমার কাছে একজন ক্রিকেটার মানে শুধু এসে দ্রুত কিছু রান করে আবার বিশ্রামে চলে যাওয়া নয়।'
মাঞ্জরেকার আরও বলেন, 'আমি চাই খেলাটা ক্রিকেটারদের আরও গভীরভাবে পরীক্ষা করুক। কেউ যদি ভালো বোলার হয়, তাহলে আমি শুধু তার চার ওভার দেখতে চাই না, দেখতে চাই সে ফিল্ডিং কেমন করে। খেলাটা একজন ক্রিকেটারের প্রতিটি দিক যাচাই করুক, শুধু আলাদা কোনো একটি দক্ষতা নয়।'